ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / প্রিয় স্যার আপনার ৭৮তম শুভ জন্মদিনে হৃদয়ের আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই

প্রিয় স্যার আপনার ৭৮তম শুভ জন্মদিনে হৃদয়ের আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই

সত্য ব্রত ভদ্র (মিঠুন ভদ্র)

শুভ জন্মদিন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, প্রাক্তন সফল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সুলেখক, গবেষক, জনগণের কল্যানে অবিরাম নিজের চিন্তা চেতনা এবং সহযোগীদের পরামর্শ নিয়ে দুর্বার গতিতে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তাবায়নের আলোর দিশারী, সাধারণ মানুষের হৃদয়ের বন্ধু, একান্ত আপনজন, প্রিয় অভিভাবক, সারা বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনকারী, মানুষের হৃদয়ে লোকমুখে সকল স্থানে আশা ভরসার স্থান হিসেবে মানুষের আস্থার ঠিকানা, কাছাকাছি থেকে না হোক, দূরে থেকেও যাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা, অনেক মধুর, আনন্দের, কোন প্রচার মাধ্যম কিংবা দূর থেকে মাইক্রোফোনে, জনসেবামূলক, সাংগঠনিক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তে গড়া বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাস, মাদক, দুনীতিমুক্ত, জনপথ গড়তে দিনরাত, নিজের মনপ্রান উজাড় করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জনবন্ধু মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির আজ ৭৮ তম শুভ জন্মদিন।

শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামের এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৪৩ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রয়াত আশরাফ উল্ল্যাাহ ও রহিমা বেগমের ঘর আলোকিত করে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত আশরাফ উল্ল্যাহ ঢাকা জেলার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডুকেশন অফিসার ছিলেন। তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম বড় সন্তান। তার প্রয়াত স্ত্রী চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে আছে। রফিকুল ইসলাম নিজ গ্রামের নাওড়া স্কুল, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, গোপালগঞ্জ মডেল স্কুল, শরীয়তপুরের পালং, কুমিল্লার চান্দিনা ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় লেখাপড়া করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে তিনি অধ্যয়ন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান আর্মিতে যোগ দেন। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন ও সাংবাদিকতায় সাহসিকতার সাথে তিনি কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাত ৮.৪০ মিনিটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে, নির্দেশে বাংলাদেশকে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত করতে তিনি তার অধীনস্থ ই পি আর এর বাঙালী সৈনিক ও জে সি ওদের নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন এবং রাত ১১.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম শহর দখলে আনতে সক্ষম হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে জীবিত বীরসেনানী হিসেবে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাঙালী জাতির (বাংলাদেশের) এই জাতীয় বীর মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৯৪ সালে হাজীগঞ্জ সবুজ সংঘের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।

অনুষ্ঠানের শেষে সবুজ সংঘের ষ্টেশন রোডের অফিসে আপ্যায়নের সময় হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত হোসেন ইমাম হায়দার স্যারের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি তখন হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় পড়ুযা হাজার হাজার শিক্ষার্থী তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার কর্মী, বাংলাদেশের মধ্যে হাজীগঞ্জ তখন জননেত্রী আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার শক্ত ঘাঁটি। প্রয়াত অনেক অভিজ্ঞ, সৎ, পরিশ্রমী, জনপ্রিয়, নেতাকর্মী, আমাদের শক্তি সাহস প্রেরণার উৎস। এমনি সময় মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম স্যারকে পেয়ে আমরা উৎসাহিত, আনন্দিত, জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের অপেক্ষায় জনগণের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছি মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর স্বাধীনতা অর্জন আমার বাংলা মায়ের ইজ্জত সম্ভ্রম রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রেখে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ দেশের দোশরদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রমুক্ত বিজয় লাভের পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিজয়ীর বেশে নতুন প্রজন্মের হাতে যুদ্ধকালীন অনেক যত্নে রাখা বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়ে ছিলেন সেই প্রিয় স্যার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম হাজীগঞ্জ শাহ্রাস্তির যেখানেই যাচ্ছেন সাধারণ জনগণ তার কথা শোনার জন্য, তাকে দেখার জন্য মা বোনেরা রাস্তার দুপাশে বাড়ির আঙিনায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত, বয়োজ্যেষ্ট মুরুব্বীরা মাথায় হাত বুলিয়ে প্রিয় স্যারের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করত। তখন বিএনপি সরকারের অত্যাচার নির্যাতন মামলা হামলায় মানুষের মধ্যে আতংঙ্ক তাদের সন্ত্রাসে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘর বাড়ি ছাড়া।

মেজর রফিক বললেন, আপনারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেন আমি আপনাদেরকে সন্ত্রাসমুক্ত হাজীগঞ্জ শাহ্রাস্তি ও অনুন্নত এই এলাকাকে উন্নত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো। ছাত্রলীগের কর্মীরা কখনো মেজর রফিককে রিক্সায় করে কখনো মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে, সাঁকো পার হযে তাদের প্রিয় অভিভাবক জনমানুষের আগামী দিনের আস্থার ঠিকানা মেজর রফিককে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে গেছে জনসাধারণ তখন মেজর রফিকের কথা শুনতে চায়, তাকে দেখতে চায়। ভালোবাসার মানুষটাকে দেখতে পাওয়ার তার কথা শুনতে পাওয়ায় কি যে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ তা বলে শেষ করা যাবে না।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম জয়লাভ করেন। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগের কাছে সন্ত্রাস, হামলা, মিথ্যা মামলা, হত্যার চেষ্টা, লুটপাট, অগ্নি সংযোগের পৃষ্টপোষক স্বৈরাচার বিএনপি পরাজয় বরণ করে। মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেশে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রন করেন। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি মানুষের কল্যাণে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। ভাঙ্গা পা নিয়ে তিনি ঢাকা থেকে হাজীগঞ্জ শাহ্রাস্তির বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় তিনি একজন মানুষকেও বন্যা দিয়ে কষ্টে থাকতে দেননি। ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের প্রিয় নেতা মেজর রফিকের প্রত্যেকটি নির্দেশ সংগঠনের সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। মেজর রফিক এখন হাজীগঞ্জ শাহ্রাস্তির সাধারণ মানুষের গর্বের ধন আপনি এখনকার গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিকে তাকান কালো পিচঢালা পাকা রাস্তা শহর থেকে গ্রামে গভীর রাতে যাবেন যানবাহনের অভাব নাই। যে ঘরে হারিকেন কুপি জ¦লতো রাস্তায় ঘন কালো অন্ধকার সেখানে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। সকলে হাতে মোবাইল। এক সেকেন্ডে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যে স্বজনদের খোঁজ খবর রাখা যাচ্ছে। পুরোনো ভাঙ্গা সাকো খালের উপর মেজর রফিকের তৈরি বড় বড় ব্রীজ কালভার্ট যে ব্রীজ দিয়ে দুটি বড় গাড়ী দুরন্ত গতিতে ছুটে চলতে পারে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে, হাই স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদ, মন্দির, সকল স্থানে উন্নয়নের মহাউৎসব। নদীর উপর ব্রীজ একটা বাকি ছিল ওটতলী গুদারায় এই ব্রীজটির সহসা কাজ শুরু হবে। জনগনের স্বাস্থ্য চিকিৎসা, ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখা, গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, বেকারদের কর্মসংস্থান আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, খাদ্যদান, বস্ত্রদান, নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান, মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপোষহীন সিদ্ধান্ত মেজর রফিককে জনগণের মধ্যে এক বিশাল স্থান করে দিয়েছে।

আজ আমার প্রাণ প্রিয় অভিভাবক প্রিয় স্যার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এর ৭৮ তম শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিনে মহান স্রষ্টার কাছে স্যারের দীর্ঘজীবন কামনা করি। প্রার্থনা করি তিনি যেন তার আগামী দিনের জনকল্যানকর সকল ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারেন।

স্যারের সাথে আমার ছাত্র রাজনৈতিক জীবনের (ছাত্রলীগ কর্মী থাকাকালীন) অনেক স্মৃতি। কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর স্যারের কাছ থেকে সততা, নিষ্ঠা, সাহসিকতা, জনগনকে ভালোবাসা অনেক কিছু শিখেছি জেনেছি, স্যারের কর্মময় জীবন সম্পর্কে লেখার সাহস আমার নেই। তবু এই জনমুখী বীরের মহাসমুদ্রের মতো বিশাল জীবনের আমার স্মৃতির অংশ ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে একে একে লিখে যাওয়ার চেষ্টা করব। জয় হোক বীর জনতার, জয় হোক আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের, জয় হোক মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, সম্ভ্রম হারানো মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা মাবোনদের, জয় হোক জাতির জনক বঙ্গববন্ধুর, জয় হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার, জয় হোক প্রিয় নেতা হৃদয়ের অভিভাবক মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির মহান স্রষ্টা আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু মঙ্গল করুন।

আপনার স্নেহের
সত্য ব্রত ভদ্র (মিঠুন ভদ্র)
সহ-সভাপতি, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, হাজীগঞ্জ থানা শাখা ১৯৮৩ইং
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, হাজীগঞ্জ থানা শাখা ১৯৮৭ইং
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখা ১৯৮৯ইং
সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখা ১৯৯২ইং
যুগ্ম আহ্বায়ক, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, চাঁদপুর জেলা শাখা ২০০৬ইং
সদস্য, কার্যকরী কমিটি, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ২০১২ইং
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জে চুরি হওয়া দুই মোটরসাইকেল সহ চোর গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থেকে হোন্ডা চোর মনির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে হাজীগঞ্জ …

Shares
vv