ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রশাসন / পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সাথে দেখা করিয়ে দিতে ২২০০ টাকা!

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সাথে দেখা করিয়ে দিতে ২২০০ টাকা!

চাঁদপুরে অসহায়-গরিব মানুষের শেষ ভরসাস্থল চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। নারী নির্যাতন, হয়রানিসহ নানাভাবে নির্যাতিত মানুষজন কোনও উপায় না পেলে ছুটে যান তার কাছে। প্রতিদিনই এমন সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। আর এটিকে পুঁজি করে কেউ কেউ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গরিব-অসহায় মানুষের কাছ থেকে। পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিতে তারা ওই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জুন) ধরা পড়েছে এমনই এক প্রতারক। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সঙ্গে সাক্ষাতপ্রত্যাশী এক অসহায় নারীর কাছ থেকে খরচ বাবদ ২২০০ টাকা আদায় করে সে।

প্রতারক মো. মাসুদুর রহমানকে মঙ্গলবার বিকালে আটক করে পুলিশ। সে স্থানীয় পত্রিকা ‘আলোকিত চাঁদপুর’ এর সাংবাদিক বলে জানা গেছে।

চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অবস্থিত নারী ও শিশু সহায়তা সেলে আগত সাহায্য প্রার্থী আছমা আক্তারের কাছ থেকে পুলিশ অফিসের খরচ বাবদ ২২০০ টাকা নেয় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাসুদুর রহমান। চুক্তি মতো মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলে ওই নারীর। আলাপের শেষ পর্যায়ে ওই নারী পুলিশ সুপারকে বলেন, ‘ম্যাডাম, আমি গরিব মানুষ। এখানে খরচ বাবদ ২২০০ টাকা দিয়েছি।’ এ কথা শুনে পুলিশ সুপার অবাক হয়ে তাকে উল্টো প্রশ্ন করেন, কিসের খরচ? এখানে তো কোনও খরচ নেই। কে নিয়েছে আপনার কাছ থেকে টাকা।

পরে ওই নারী সাংবাদিক পরিচয়ধারী প্রতারক মাসুদুর রহমানের নাম বলেন এবং জানান সে অফিসের বাইরে অবস্থান করছে। তখন পুলিশ সুপার তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ২২০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে।

                                                                           প্রতারক মাসুদুর রহমান

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামান প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে খরচ হিসেবে ওই নারীর কাছ থেকে ২২০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে ওই নারী একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে প্রতারক মো. মাসুদুর রহমান থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর জেলা পুলিশের ফেসবুক পেইজে এ ধরনের প্রতারকদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘নারী ও শিশু সহায়তা সেল, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, চাঁদপুর- এ সেবা গ্রহণের জন্য কোনও অর্থের প্রয়োজন হয় না। যদি কেউ অর্থ দাবি করে তবে দ্রুত অর্থ দাবিকারীর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ সুপারকে অবগত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

প্রতিবেদন: প্রিয় চাঁদপুর রিপোর্ট

Facebook Comments

Check Also

কচুয়া ইউএনওকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় আইসিটি আইনে মামলা

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ’র আচার-আচরন নিয়ে জনৈক গাজী …

vv