ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / পুলিশের দায়িত্ব ও আমাদের কান্ডজ্ঞান

পুলিশের দায়িত্ব ও আমাদের কান্ডজ্ঞান

: ফয়েজ আহমেদ :

সারাবিশ্বে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়া মরনঘাতি করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) সচেতনতায় সরকার নির্দেশিত সাধারণ ছুটি ও ঘরে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘন্টা নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন৷ আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনপ্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করে আসছেন৷ আহার, নিদ্রা কিংবা পরিবারের খবর নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না৷ আর আমরা তাদের এই তৎপরতাকে নিজেদের ঘুরাঘুরির অন্তরায় মনে করে রাস্তায় তাদের সাথে ইঁদুর-বিড়াল খেলছি৷ এক গ্রুপ পাহারা দিচ্ছে কখন পুলিশ চলে যায়৷ মনে হয় রাস্তায় বের হওয়া আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি৷ পুলিশকে হটিয়ে হলেও আমাদের রাস্তায় থাকতে হবে৷

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ইতালিতে করোনা সনাক্ত হওয়ার পর ৪৫ তম দিনে মহামারী রুপ ধারণ করে। স্পেনে ৫০ তম দিনে আর যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ তম দিনে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার ২৩ তম দিনে আক্রান্ত ছিল ৫১, আজ ৫৬। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ তম দিনে রোগী ছিলো মাত্র ১১ জনের মত। সুতরাং “ভাইরাস থাকলে তো এতদিনে লক্ষণ প্রকাশ পেত” এমন মতাদর্শে বলীয়ান মহামানবেরাই রাস্তায় উৎসুক হয়ে বারবার বাধা ভাংগছে৷

পুলিশের সাথে লুকোচুরি খেলা মানুষের উপর আক্ষেপ করে শাহরাস্তি থানা উপ-পরিদর্শক মোঃ কুতুবউদ্দিন লিয়ন খান তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট দিয়েছেন৷ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা হুবহু তুলে ধরা হলো ঃ

আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপর সদস্যগন বনাম কোন কিছু পরোয়া না করা বাংলার কিছু অসেচতন লোক…

দুঃখ নিয়েই শুরু করি ডিউটি করাকালে কাল সূচিপাড়া বাজারে একজন মধ্য বয়স্ক লোককে অহেতুক বাজারে ঘুরাঘুরি করার কারণ জিজ্ঞাসায় আমার উপর রীতিমত তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তাহাকে কেন বাজারে আসতে নিষেধ করা হয়, সেজন্য বেচারার এমন আচরণ। তাহলে প্রশ্ন হলো দায় দায়িত্ব কি শুধুই পুলিশের? আমরা নিজেদের কি কোন দায় দায়িত্ব নেই।

সেদিন আমার ছোট্ট মেয়েটি যখন আমাকে ফোনে কল করে বলে “আব্বু তুমি সাবধানে থেকো, মাস্ক পরিও, ঘরের মধ্যে থেকো”। চোখের কোণে যেন পানি জমবে জমবে ভাব, পরক্ষণে মুখে মৃদু হাসি দিয়ে নিজে নিজে ভাবি আমাদের ঘরে বসে থাকলে কি চলবে রে মা। দায়িত্ব পালন তো করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসের আতংকে সারা বিশ্বে যখন থমথমে অবস্থা, অনেক দেশে যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন্ত প্রাণগুলো লাশে পরিনত হচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশের মানুষগুলো সন্ধ্যার পর হতে বাজারে বাজারে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকল বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে অবুজ মানুষগুলো পুলিশের সাথে প্রতিনিয়ত লুকচুরি খেলে যাচ্ছে। ওদের ধারণা, করোনা তাদেরকে স্পর্শ করবেনা। হায়রে অসহায় মানুষ, আমাদের কি মৃত্যুর ভয় নেই।

মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে নিতে হবে এটাই চিরন্তন সত্য। তাই বলে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে নিজে বাঁচার চেষ্টা না করে, পরিবারের সদস্যদের বাঁচানোর চেষ্টা না করে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছি। নিজেকে সচেতন নাগরিক দাবী করি ঠিকই, কিন্তু সচেতনভাবে চলতে বললেই যত সমস্যা।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা কি শুধুই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ, আপনাদের কি দায় নেই?

আমরা তো নিজের চিন্তা না করে আপনাদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের কথা দয়া করে একটু শুনুন, দিক নির্দেশনা মেনে চলুন, ঘরেই অবস্থান করুন।।।

একটাই অনুরোধ, পুলিশের সাথে লুকচুরি না খেলে একটু হলেও নিজের জন্য ভাবুন, স্ত্রী সন্তানদের জন্য ভাবুন, দেশের জন্য ভাবুন। পরামর্শ মত নির্দেশনা মেনে চলুন, ঘরে অবস্থান করুন। আল্লাহ্ পাক আমাদের হেফাজত করুন।।।

লেখক পরিচিতি : প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক সকলের কন্ঠ।

Facebook Comments

Check Also

সাংস্কৃতিক পরিবারের পাশে সফিক মজুমদার

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় : মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ …

vv