ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে চান ফরিদগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাঈদ

দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে চান ফরিদগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাঈদ

বিশেষ প্রতিনিধি : তিনি এক জন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ বহু বছর সরকারী চাকরী করেন জীবনের চাবি পরিচালিত করেছেন। তিনি হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ বরকন্দাজ। সরকারী চাকরী জীবন শেষ করেও,আর অবসর সময় নাকাটিয়ে নিজের বাড়িতে গরুর খামার দিয়ে গরু পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ভুমিকা গ্রহন করে যাচ্ছে, এ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ বরকন্দাজ ।

তিনি একটি গরু দিয়ে খামার শুরু করলেও এখন তিনি ১১টি গরু নিয়ে খামার পরিচালনা করছেন। বলতে গেলে এ খামারি এক সময় সরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এক জন সফল তারুন্য উদদীপ্ত খমারি। তার তারুন্য উধদিপ্ত একটি মন রয়েছে। যার কারনে তিনি তার এ অধিক বয়সে ও মন থেকে নতজানু না হয়ে তারুন্যের মত কাজ করে নিজের পরিবারের ভাগ্য,এলাকাবাসীর ভাগ্য ও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখে তার ক্ষুদ্র এ প্রয়াসের মাধ্যমে দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে তার ইচ্ছা রয়েছে।

সে তার ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে যান বহু দূর। তার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসের সাথে সরকারে সহায়তা থাকলে তিনি দেশে পুষ্টি ও মাংস জাতীয় খাদ্যের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরন করতে পারবেন বলে তার আশা ও ইচ্ছা রয়েছে।

তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের উপজেলায় চাকরী করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ বরকন্দাজ এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। ব্যাংক কর্মকর্তা হিসাবে দীর্ঘ কর্মজীবন থেকে অবসরগ্রহন করে নিজ বাড়ীতে অবসর না থেকে এখন তিনি নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে তুলেছেন।

আবু সাঈদ বরকন্দাজ ফরিদগঞ্জের ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনের গাঁও গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭২ সালে মেট্রিক পাশ ও ১৯৭৫ সালে ইন্টারপাশ (এইচ এসসি পাস) করে সোনালী ব্যাংকে ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। পমশন যেফে হয়েছেন এক জন সিনিয়ার অফিসার। সিনিয়ার অফিসার পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ সালে দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টানেন।

অবসর জীবন যেনো এই মুক্তিযোদ্ধার জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। কিছুতেই ঘরে বসে থাকতে ভালোবাসেননি। জীবনের শেষ প্রান্তে ও আবার ও শুরু করেন খামার ব্যবসা। নিজের অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চান আবু সাঈদ। সেই স্বপ্ন থেকে কয়েকটি গরু নিয়ে ২০২০ সালে শুরু করেন খামার ব্যবসা।

বর্তমানে এই মুক্তিযোদ্ধার খামারে প্রায় ১১টি গরু রয়েছে। নিজেই সারাদিন খামারে কাজ করলেও সহযোগিতার জন্য আরো দু’জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খামারে। পরিবারের দুধের চাহিদা মিটিয়ে ১০ থেকে ১২ লিটার দুধ দৈনিক বিক্রি করেন এই খামার থেকে। পাশাপাশি মাংসের চাহিদা যোগান দিতে খামারে রয়েছে ১০টি গরু। আগামী ঈদ-উল-আজহার সময়ে এই সব পালিত গরু বিক্রি করে লাখ-লাখ টাকা লাভবান হবেন বলে আশা করছে আবু সাঈদ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ জানান, সরকারি সহায়তা পেলে তিনি তার খামারকে আরো বড় খামার করে আরো বেশী লাভবান করে তুলতে পারবেন এবং নিজে ও একজন সফল খামারি হিসাবে পরিচিতি পাবেন বলে জানান।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনা মহামারির সময়ে তার খামারের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সরকারি ও বেসরকারি কোন সংস্থা থেকে তিনি সহায়তা পাননি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জ্যোতিমর্য় ভৌমিক বলেন, আমার সাথে যোগাযোগ করলে যে কোন সমস্যায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি এবং আমাদের ফিল্ড এ্যাসিসটেন্ট নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments

Check Also

মতলব উত্তর থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিন্দা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল এর বিরুদ্ধে সামাজিক …

Shares
vv