ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / থেমে না থাকা এক মেয়র
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের হ্যান্ডসেনেটাইজার ও সাবান বিতরণ করছেন পৌর মেয়র আ. স. ম মাহবুব-উল আলম লিপন।

থেমে না থাকা এক মেয়র

বিশেষ প্রতিনিধি : গাড়ীর সামনে সিটে থাকে কয়েকটি ব্যাগ। গাড়ীর পেছনে থাকে চাল, ডাল, আলু ও তৈলসহ কয়েকটি ত্রাণের বস্তা। তার উপর লেখা প্রধানমন্ত্রীর উহার। রাস্তায় যাকে মাস্কবিহীন চলতে দেখেন তার হাতে ধরিয়ে দেন একটি করে মাস্ক। বিতরণ করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অসহায় দুঃস্থলোক দেখলে ছুটেযান তাদের কাছে, হাতে ধরিয়ে দেন ত্রাণের একটি বস্তা। কখনো কখনো নিজেই সেসব ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের ঘরে ঘরে। বাজার পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে বাজার ঝাড়ু দিচ্ছেন। আবার কখনো কখনো নিজেই রাস্তায় নেমে রাস্তায় রাস্তায় জীবানু নাশক পানি ছিটাচ্ছেন। শিশুদের দেখলে টেনে নেন কোলে পিতার স্নেহে তাদের হাতে তুলে দেন চকলেট।

তিনি হচ্ছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। সদা হস্যোজ¦ল এ মানুষটি বৈশ্বিক মহামারী দুঃসময়ে পৌরবাসির সেবা করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

প্রতিদিন সকালে নিজেই হেঁটে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো ঘুরে দেখেন লিপন। সাথে থাকে ব্যাগ। সেই ব্যাগে থাকে মাস্ক, হ্যান্ডসেনিটাইজার। রাস্তায় যাকে মাস্কবিহীন চলতে দেখেন তার হাতে ধরিয়ে দেন একটি করে মাস্ক ও সাবান। বিতরণ করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। হাজীগঞ্জ বাজারের আনাছে-কানাছে হাঁটেন হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে ,মানুষকে সচেতন করে তোলেন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। তার এ ছুটে চলা চলছে প্রতিনিয়ত। করোনার প্রকোপ ধীরে ধীরে কমলেও তাঁর কাজের পরিধি কমেনি একটুও।

এভাবেই দিন শুরু করেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। স্থানীয়ভাবে তিনি লিপন ভাই নামেই পরিচিত। হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সফল রাজনীতিবিদ, সফল সমাজসেবক হিসেবে এরই মধ্যে পৌরবাসীর মন জয় করেছেন।

স্থানীয়রা জানান,চলমান করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যে শহরের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাধারণ মানুষের পাশে দেখা না গেলেও লিপন ভাই একাই কাজ করে চলেছেন। এলাকার ছিন্নমূল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া ছিল নিত্য দিনের কর্ম।

পৌরসভায় গিয়ে তিনি প্রথমে বেড়িয়ে পড়েন মশক নিধন অভিযানে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে নিজ হাতে স্প্রে করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকে পৌরসভার কর্মচারিরা ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী। এরপর তিনি পৌরসভায় ফিরে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর শুরু করেন ত্রাণ বিতরণের কাজ।

আ. স. ম. মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই পৌরবাসীর জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। শহরে বিভিন্ন অলি-গলিতে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটাই। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রচার-প্রচারণা চালাই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করে আসছি।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের শুরুতে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের সংসদ সদস্য, আমাদের অভিভাবক মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির নির্দেশক্রমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতায় ১ লক্ষ হ্যান্ডবিল ও ৫ হাজার কেজি সাবান বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের ৬’শ প্যাকেট ত্রাণ (চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তৈলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য) পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সমান ভাবে বন্টন করেছি।

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে মেয়র পৌরসভার লোকজন নিয়ে মশক নিধনে কাজ সুনাম অর্জন করেছে। এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এর পূর্বে কোন মেয়রকে এভাবে স্ব-হস্তে কাজ করতে দেখিনি।

তিনি বলেন, পৌরসভায় ‘আগে মশার অনেক উপদ্রব ছিল। এখন তা কমে এসেছে। নিয়মিত পরিস্কার করলে মশা আরও কমে আসবে।”

হাজীগঞ্জ ঐতিহসিক বড় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা টোরাগড় গ্রামের ষাটোধর্ব বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগে হাজীগঞ্জ ঐতিহসিক বড় মসজিদের মাঠে মশার উপদ্রবে দাঁড়ানো যেতোনা। পৌর মেয়র নিয়মিত মশার ঔষধ স্প্রে করাতে এখন মশার উপদ্রব কমে গেছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রুহিদাস বনিক বলেন, বাজারে আগের মতো ময়লা আবর্জনা দেখ যায়না। রাতেই সব পরিস্কার করা হয় এটা পৌর মেয়রের একটা ভালো দিক। তিনি যোগ করেন বিভিন্ন সময় বর্ষা মৌসুমে হাজীগঞ্জ বাজারে হাঁটু পানি জমতো এখন আর আগের মতো পানি জমেনা।

পৌরসভার সূত্রে জানায়, পৌর এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত প্রায় ৮ হাজার ৯’শ ৩৮জন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের বাড়িতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে মেয়র নিজেই। বাকীদের কে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৫ শত টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে পেয়েছে ১৮শ জন সুবিধাভূগি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ টাকার তালিকা প্রদান করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের অলিগলিতে জীবানুনাশক পানি ছিটিয়ে পরিস্কার করছেন পৌর মেয়র আ. স. ম মাহবুব-উল আলম লিপন।

“কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেই। আমার একটাই উদ্দেশ্য। একটি মানুষও যেন না খেয়ে দিন না কাটায়” বলেন মাহবুব-উল আল লিপন।

তিনি আরও বলেন, এ দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে থাকতে পেরে আমি সার্থক। এ সময় যদি আমি ঘরে বসে থাকতাম তাহলে অসহায় মানুষগুলোর কী হতো। তাদের তো না খেয়ে দিন কাটাতে হতো।

“নিজের কথা কখনও চিন্তা করি না। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ আমি পালন করে যাচ্ছি। ত্রাণ বিতরণে যেন অনিয়ম না হয়, সেজন্য নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে আসছি”, তিনি এ কথা যোগ করেন ।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুঃস্থদের জন্য মানবিক সহায়তা, চাল, টাকা স্বচ্ছভাবে প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বয়স্ক, বিধবা, দুগ্ধ, প্রতিবন্ধী ভাতা বহি স্বচ্ছতার সাথে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও কোন স্বজনপ্রীতি করা হয়নি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লিপন ভাই পুরো পৌর এলাকা ঘুরে মানুষের জন্য কাজ করেন। কখনো কখনো ছাত্রনেতারাও তাঁর সঙ্গে থাকেন।

“উনি এভাবে কাজ না করলে অনেক ছিন্নমূল মানুষকে হয়ত না খেয়ে দিন কাটাতে হতো” এ ছাত্রনেতা আরো বলেন, বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিপন ভাই একজন কর্মীবান্ধব জনপ্রতিনিধি। তার মন-মানষিকতা হলো জনগণের সেবা করা। করোনাকালীণ সময়ে তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে পৌরবাসির সেবায় মাঠে ছিলেন, তিনি এখনো মাঠে আছেন, কাজ করছেন।

পৌর এলাকার রান্ধুনীমুড়ার বাসিন্দা সফিক বলেন, পৌর মেয়র তালিকা করে নিজে উপস্থিত থেকে অসহায় মানুষের বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। কাউকে ত্রাণ নিতে ছুটতে হচ্ছে না। আবার তিনি আমাদের এলাকার অনেককে ৫’শ, ১ হাজার করে নগদ টাকাও প্রদান করেছেন।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি পৌরবাসীকে সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি প্রত্যেকটি ওয়ার্ড নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছেন।

হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ¦ আসফাকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পৌর মেয়র আ. স. ম. মাহবুব-উল আলম লিপন মেয়র হওয়ার পর থেকে হাজীগঞ্জ বাজারকে সম্পূর্ণ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখছে। প্রতিদিনই সকাল ৫টার মধ্যে বাজার পরিস্কার হয়ে যায়। এটা পূর্বে কখনোই ছিলনা।

এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বর্ষাকালে হাজীগঞ্জ বাজারে আগের মতো এখন আর পানি দেখা যায়না। বর্তমান মেয়র পয়ঃনিষ্কাশণ ব্যবস্থা নিজেই তদারকি করেন ফলে বর্ষায় এখন আর হাজীগঞ্জ বাজারে জলবদ্ধতা দেখা যায়না।

Facebook Comments

Check Also

এনজিও কর্মীদের কিস্তির চাপে দিশেহারা চাঁদপুরের ঋণ গ্রহীতারা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : দেশে চলমান করোনা মহামারিতে নানা পেশার শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সাধারন …

vv