ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বাংলাদেশ / রাজনীতি / তরুণ’রা মনোনয়ন পাওয়ার ইঙ্গিত আওয়ামীলীগের

তরুণ’রা মনোনয়ন পাওয়ার ইঙ্গিত আওয়ামীলীগের

বেশিরভাগ তরুণরাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ দলীয় বেশিরভাগ সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে খারাপ খবরের শিরোনাম হয়েছেন এমন এমপিরা বাদ পড়বেন। দলীয় পদ পদবি ছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন। আগামীতে এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে ডায়নামিক এবং জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

এমপি প্রার্থী বাছাইয়ে সম্প্রতি দুটি জরিপ এরই মধ্যে দলীয় প্রধানের কাছে জমা পড়েছে। ওই জরিপে অধিকাংশ আসনে তরুণ নেতাদের নাম এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন । তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে কখনও মানুষ ঠকেনি। নৌকায় ভোট দিয়েই এ দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকায় যখন মানুষ ভোট দিয়েছে, তখন এ দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। এই নৌকায় ভোট দেয়াতে আজকে মানুষের জীবনে স্বচ্ছলতা এসেছে। নৌকায় ভোট না দিলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসবে। সবই থেমে যাবে, নিজেরাই খাবে, কাউকে দেবে না। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে সবাইকেই দেবে, সকলের জন্য কাজ করবে, প্রত্যেকের জীবন সুন্দর হবে, প্রত্যেকের জীবন উন্নত হবে।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই মুহূর্তে আগামী নির্বাচন ছাড়া কারো মাথায় কোনো চিন্তা নেই। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। জামায়াতও স্বতন্ত্র ব্যানারে অংশ নেবে। স্বাভাবিকভাবে সরকারি দলের ওপর মানুষের ক্ষোভ বেশি থাকে। যে কারণে ক্রমাগত চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। নেতারা জানান, একটু আগেভাগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ৩০০ আসনে প্রার্থী খুঁজতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদিও দলীয় প্রধানের কাছে সব ধরনের খবরই আছে। তবুও সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা এবং দলীয় একটা টিম দিয়ে জরিপ চালানো হয়েছে।

জরিপে অধিকাংশ আসনে তরুণদের পারফরম্যান্স ভালো দেখা গেছে। বিশেষ করে যাদের পদপদবি নেই তারা এমপি হওয়ার আশায় নিজ নিজ এলাকায় ভালো কাজও করেছে। যে কারণে তারা একটা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। নেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই জনপ্রিয়তা দেখে দেওয়া হবে। তিনি নিজেই দলীয় মিটিংয়ে বলেছেন, সিনিয়র-জুনিয়র বুঝি না, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। অনেক আগে থেকেই এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে মাঠ গোছানোর তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অধিকাংশ এমপি সেটা না করে ঢাকায় বসে থেকেছেন। এদের অধিকাংশই আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না। এক্ষেত্রে প্রায় দেড় শতাধিকের বেশি আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। সেসব স্থানে অধিকাংশই তরুণ নেতৃত্ব সুযোগ পাবে।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় এমপিদের উদ্দেশে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনেকে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। এ নিয়ে কলহ-বিবাদ করা যাবে না। তবে বিতর্কিত কিছু এমপিকে এখনো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিজ এলাকায় গণসংযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, কে কী করছেন, তার রিপোর্ট আমার কাছে আছে। নিয়মিত এসব তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। এলাকায় যার অবস্থান ভালো না তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, ৫ জানুয়ারির মতো নয়। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের সব ভোটের তথ্য নির্বাচন কমিশন থেকে জোগাড় করতে হবে। ওইসব নির্বাচনে কারা প্রার্থী ছিল, কে, কত ভোট পেয়েছিল- সব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কার কী দোষগুণ আছে, তাও উপলব্ধি করতে হবে। দলীয়প্রধানের এমন মন্তব্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দলে ও দলের বাইরে নানা সময়ে সমালোচিত এমপিরা।

এ ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কিত এমপিরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন এমপিকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসে বসে থাকতে দেখা গেছে। তারা দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেও দেখা না পেয়ে চলে যান। এসব বিতর্কিতদের পাশাপাশি তরুণ অনেক নেতাকেও ধানমন্ডি কার্যালয়ে আসতে দেখা গেছে। তারাও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পাশে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। ছাত্রজীবনে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন এবং বর্তমানে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ নেয়ার ছবি নেতাদের সামনে হাজির করছেন।

এখন থেকে দল বিতর্কিতদের এড়িয়ে চলবে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলের তরুণ নেতা ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, রাজনীতিতে সবারই একটা প্রত্যাশা থাকে। আমিও তার বাইরে নই। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সেবা করে আসছি। এখনো করে যাচ্ছি। সাধ্যের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যে কারণে যতটুকু পারি করছি। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে মান রক্ষা করার চেষ্টা করবো। গত কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলাম এবার দায়িত্ব নেই, যে কারণে পুরো সময়টা এলাকায় দিতে পারছি।

সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, গত বছরের শুরু থেকে দল এবং সরকার আলাদা করার যে প্রয়াসের কথা নেত্রী বলেছিলেন আগামী নির্বাচনেও তার প্রতিফলন ঘটবে। দলের বড় বড় পদে রয়েছেন এমন অধিকাংশই মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন। দলীয় সভাগুলো নেত্রী যেভাবে কথা বলেছেন তাতে সেরকমটিই মনে হয়েছে। সম্প্রতি সংসদীয় দলের বৈঠকে এমন ইঙ্গিত দেন দলীয় প্রধান। বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, আগামীতে বিতর্কিত কেউ মনোনয়ন পাবেন না। জনপ্রিয় এবং দলের প্রতি আস্থাশীল ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তাছাড়া সবাইকে এমপি হতে হবে বিষয়টি এমনও নয়।

Facebook Comments

Check Also

ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান অ্যাড. আব্বাস উদ্দিন ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

এস.এম ইকবাল : দেশের চারটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন …

vv