ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ডাক্তারসহ ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ডাক্তারসহ ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সাইদ হোসেন অপু : প্রবাদ বাক্যে আছে ‘চোরের ১০ দিন গৃহস্থের ১দিন’। তেমনি হঠাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মজিবুল হক পরিদর্শনে এসে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। চট্টগ্রাম গিয়েই ১২ ডাক্তারসহ ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, এটি একটি ভিজিটের প্রতিফলন।

জানা যায়, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনুপস্থিতির কারনে হাসপাতালের ১২জন ডাক্তারসহ ২২জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মজিবুল হক।

গত ৮ জানুয়ারি হঠাৎ তিনি পরিদর্শনে এসে চাঁদপুর হাসপাতালের হাজিরা খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষর এবং বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। এতে তিনি তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম গিয়ে ৯ জানুয়ারি হাজিরা খাতার অনুপস্থিতি ও বিভিন্ন অনিয়মের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আহসান উল্ল্যাহ, ডা. আব্দুর রইস, আরএমও ডা. আসিবুল হাছান, ডা. এবিএম সফিকুর রহমান, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. নাজমুল আবেদিন, মেডিকেল টেকনলজিষ্ট মনির হোসেন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, গার্ডেনার বাবুল হোসেনসহ ২২জন ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। কর্ম দিবসের ৫ দিনের মধ্যে সবাইকে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলেছেন। কারন দর্শানোর নোটিশগুলো সকলের নামে নামে প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে নোটিশের জবাব পাঠিয়েছে।

সরকারি এই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হোসনে আরা বেগম দায়িত্বরত কাজে চাঁদপুরের বাইরে থাকায় ভারপ্রাপ্ত তত্ত্ববধায়ক ডা. মো. সালেহ আহমেদ জানান, গত ৭ জানুয়ারী চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মজিবুল হক হসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না থাকায় ২২ ডাক্তার-কর্মচারিকে শোকজ করেছেন। তিনি আরো বলেন হাসপাতালে এই ধরনের পরিদর্শন প্রায় সময়েই হয়ে থাকে। যাদের কারন দর্শানোর দর্শানো হয়েছে তাদের মধ্যে ৭জন ছুটিতে ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের এর জবাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে বেশ কিছু সাধারণ রোগিরা জানান, হাসপাতালে সঠিক তেমন চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের ডাক্তাররা বেশিরভাগ সময়ই রুমে থাকেন না। ডাক্তারদের কক্ষে আসলে দেখা যায় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপেজেন্টিভ) জন্য ডাক্তারদের সাথে কথা বলা যায় না। শুধু তাই নয় ডাক্তারদের চেম্বারের পাশে দাড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসকিপশন) নিয়ে টানা হেচড়া করে নিয়ে দেখে তাদের কোম্পানির ঔষধ লিখেছে কিনা ডাক্তারা। রোগীদেখাতে এসে বিভিন্ন দালালদের টানা হেচড়াও পড়তে হয় আমাদের।

ওয়ার্ডের ভর্তিকৃত কয়েকজন রোগী জানায়, ডাক্তারা রোগীদেখে ব্যবস্থাপত্রে যে ঔষধ লিখেন অনেক ঔষধ ফার্মেসীতে পাওয়া যায় না। এনিয়ে রোগীর লোকজন সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতাল প্রাঙ্গনে সরকারি ন্যায্য মূল্যে নামে ১৬.৫১% ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন ঐ ন্যায্যমূল্যের দোকানীরা।

এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কিছু আয়া রোগীদের সাথে অশোভ আচর করে। তাদেরকে বকশিস নামে অর্থ দিয়ে তারা কাজ করেন, না দিলে কোন কাজ করেন না। রাতের ডিউটির সময় গেইটে তালা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে, ভর্তি রোগী এসে বারান্দায় পড়ে থাকে। আয়াদের অনেক ডাকা-ডাকি করে ঘুম থেকে তুলতে পাড়লে রোগীরা ওয়ার্ডে যেতে পারেন। আর ঘুম থেকে তুলতে না পাড়লে রোগীরা বারান্দায় পড়ে থাকেন। এ ধরনের পরিদর্শন বাড়িয়ে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেয়া হলে আমরা সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবো, সেবাও পাবো।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রধান সহকারি মো. সফিউল আলমের কাছে তথ্য চাইলে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা করে বলেন, বিষয়টি আমাদের নিজস্ব। আর তত্ত্বাবধায়কের অনুপস্থিতিতে আমি কোনো তথ্য দিতে পারবো না। তত্ত্বাবধায়ক তিনদিন পর চাঁদপুরে এলে তখন আপনারা ওনার কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে নিয়েন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের প্রধান সহকারি মো. সফিউল আলমের সাথে যোগসাজসে হাসপাতাল চলাকালীন সময় অনেক ডাক্তাররা একাধিক প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন। তাই তারা হাসপাতালে আসা রোগীদের ভালো করে দেখেনা। বরং কয়েকজন ডাক্তার হাসপাতালে বসে রোগী দেখে প্রাইভেটের ভিজিটও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ট্রেন্ডার হয়। ঐ সময় প্রধান সহকারি মো. সফিউল আলম তার পছন্দের লোকজনের সিডিউল নিজের কাছে রাখেন। ট্রেন্ডার বাক্স খোলার সময় তার কাছে রাখা ঐ শিডিউল উপরে রেখে পছন্দের লোকদের কাজ পাওয়ার ব্যবস্থা করে কমিশন খান। শুধু এখানেই শেষ নয় গত বছর প্রধান সহকারি মো. সফিউল আলমের যোগসাজসে হাসপাতালের কিছু যন্ত্রাংশ পাচারকালে জনতা কতৃক আটক হয়েছে। ঐ সংবাদ জাতীয় পত্রিকাসহ স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালের প্রধান সহকারি মো. সফিউল আলম অনেক বছর ধরে হাসপাতালের এই পদে অধিষ্ট রয়েছেন। তাকে এই পদ থেকে সড়িয়ে দিলে হাসপাতালের সেবা অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ২২ ডাক্তার ৩৬ নার্স

স্টাফ রিপোর্টার : দুনিয়া কাঁপানো মহামারীকালে যাঁরা কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস নামে এক প্রাণঘাতী গুপ্ত ভাইরাসে আক্রান্ত …

vv