ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ফিচার / ডাকাতিয়ার বাতাসের গন্ধ খোঁজে এই মন

ডাকাতিয়ার বাতাসের গন্ধ খোঁজে এই মন

স্মৃতিরা মাথা নেড়ে উকি দেয়, মন ছুটে যায় বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর তীরে। ডাকাতিয়ার তীরের বাতাসের গন্ধ খোঁজে এই মনে। মন ছুটে পিছনে আর মস্তিষ্ক সামনে। তাই মন আর মস্তিষ্ককের সামঞ্জস্য রেখেই ভাবনা আসে। স্কুলের কোন অনুষ্ঠানের স্টেজে দাঁড়িয়ে বলতে হবে। এই স্কুল আমাকে তাঁর সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছে। আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়েও নিঃসন্দেহে প্রিয় শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা আর উদ্যমই ছিল বেশি। তাদের অনুপ্রেরণা আর আমার খানিকটা পরিশ্রমের জন্য আজ আমি স্টেজে। তাই ছুটে চলছি পরিচয়ের খোঁজে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছোট সুন্দর আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে পরিচয় হয় ২০০৭ সালে। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি পরীক্ষার পরপরই বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা শুরু। কে যেনো ডেকে নিয়ে কবিতা আবৃতিতে নাম লিখালো ঠিক মনে নেই। তারপর থেকে স্কুলটাকে দেখতে শিখা, জানতে শিখা। প্রাথমিক পেরিয়ে মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমত শিক্ষকদের খুব ভয় পেতাম। কিন্তু বছর না গড়াতেই শিক্ষকরা বন্ধু সুলভ হয়ে উঠলো। জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু সুধা, তন্বী, নুসরাত, কনা, তটিনী, সিলমা, সুমনা, আয়েশা, মুনিয়া, ফাতেমা, অনুপ, সঞ্জয়, অনিক, নাসির সবাইকে এখান থেকেই খুঁজে নিলাম। পথচলা শুরু তাদের সাথে নিয়ে আর শিক্ষকদের হাত ধরে। এরমধ্যেই শেষ হলো ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণী। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে ভালো ফলাফল নিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হলাম। ভালো ফলাফল অর্জনের সুবাদে সত্যজিৎ স্যার আর প্রয়াত হারাধন স্যারের সাথে আরো ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো।
তখনও জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয়নি। তাই বৃত্তির জন্য বিশেষ  কোচিং এ ক্লাশরুম আলাদা হলো। বন্ধুরা সবাই সহ আমিও কোচিং শুরু করলাম। সাথে আড্ডা মারাটাও শিখে গেলাম ভালো করে। আত্মার বন্ধন গড়ে উঠলো বন্ধু আর শিক্ষকদের  সাথে। আত্মার বন্ধন অটুট থাকে, সেই বন্ধনে বিদেহী প্রিয় শিক্ষক হারাধন চন্দ্র পাল এখনো বেঁচে আছেন মনে, আর মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরনে। সে থাকবে আমরণ। প্রত্যেকদিন স্বর্নাক্ষরে মনে লেখা আছে, শব্দ ফুরিয়ে যাবে, স্মৃতিরা তবুও খিলখিল করে হাসবে।

প্রতি বছরই রবীন্দ্র-নজরুল বলে গলা ফাটানো, ক্রিকেট খেলায় জিতার আনন্দ, শিক্ষকদের বকাঝকা, দ্বিতীয় বেঞ্চে বসা, ভোরের আলো ফোটার আগে মরহুম ফজলুল স্যারের বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়া, ক্লাশ শেষ করে হারাধন স্যারের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া, ক্লাশে এবং খেলা মধ্যে একাই একশ ভাব নেয়া, আসা-যাওয়ার সময় রাস্তা নিজের মত করে পুরা রাস্তা নিয়ে হাটা, ক্লাশে আসার সময় ১৫মিনিট আর ফেরার সময় এক ঘন্টা রাস্তায় সময় কাটানো, প্রতি ঘন্টায় পিপাসা থাকুক কিংবা না থাকুক পানি পান করবো বলে বের হওয়া, কলিজা’র বন্ধু হলেও প্রতিযোগিতায় কাউকে ছাড় না দেয়া, শিক্ষকদের শাসন ও আদর, ছাত্র-ছাত্রীদের একত্রে ক্লাসে বসা ও মাঠে খেলা করা, স্কুল ছুটির সাথে হৈহুল্লুর করে আনন্দের সাথে স্কুল ত্যাগ করা। সবই যেনো অম্লান স্মৃতি।
স্কুল জীবনের শুরু থেকেই প্রত্যেক শিক্ষকের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা দেখাতে সমর্থ হয়েছিলাম। এ দুটি গুণের জন্য বিদ্যালয়ের মধ্যে অচিরেই আমার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক শিক্ষকের স্নেহ ও সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টির কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। তাই আমার স্কুল জীবন হয়ে উঠেছে আনন্দ ও গৌরবময়। বিদ্যালয়ের শেষ দিনটি যেনো স্কুল জীবনের প্রতিচ্ছবি। এ দিনটি স্মরণ করলেই স্মৃতিপটে ভেসে উঠে স্কুল জীবনের অসংখ্য চিত্র। “পুরনো সে দিনের কথা ভুলবি কিরে” – গান শুনলেই ফিরে যাই স্কুল জীবনে। ভালো থাকুক আত্মার আত্মিয় শিক্ষকেরা হয়তো এপাড়ে নয়তো ওপাড়ে।দীর্ঘজীবী হোক বন্ধু আর বেঁচে থাকা শিক্ষকরা। চিরজীবী হোক ছোট সুন্দর আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়।
লেখক পরিচিতিঃ
আফসানা মিমি
অনার্স তৃতীয় বর্ষ (হিসাব বিজ্ঞান)
চাঁদপুর সরকারী কলেজ।
Facebook Comments

Check Also

স্মৃতিতে প্রিয় বাবা

রোটাঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় যদি হুট করে একা হওয়া যেতো, আকাশের মতো, আমি চুপ করে …

vv