ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বাংলাদেশ / জাতীয় / জাতীয় ঈদগাহে ভিক্ষুকদের উৎসবমুখর অবস্থান

জাতীয় ঈদগাহে ভিক্ষুকদের উৎসবমুখর অবস্থান

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। সওয়াব লাভের আশায় রমজানের শেষে ঈদের দিনে গরিব-মিসকিনদের অনেকেই দান করে থাকেন।

এ কারণে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে ও জাতীয় ঈদগাহের আশপাশের এলাকায় আজ দেখা মিলেছে শত শত ভিক্ষুকের। এ সব এলাকায় ছিল তাদের দীর্ঘ সারি।

ঈদ মানেই খুশি আর আনন্দ। আর সেই আনন্দে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই উদ্বেলিত। তেমনি রাজধানীর ভিক্ষুকরাও আজ যেন আনন্দিত। তাই সকাল থেকেই তাদের তোড়জোড় দেখা যায়।

কিন্তু জাতীয় ঈদগাহকে ঘিরে আশপাশের রাস্তায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করায় নামাজের আগে কিছু ভিক্ষুকের দেখা মিললেও যাদের হাত-পা নেই, অন্ধ এবং পেশাদার ভিক্ষুক এদের সংখ্যা একটু কমই ছিল। তবে নামাজ শেষ হওয়ার পরই রাস্তায় শত শত ভিক্ষুক বসে যায়।

জাতীয় ঈদগাহের মূলগেট থেকে শুরু করে পূর্বদিকে কদম ফোয়ারা, প্রেসক্লাব হয়ে সচিবালয়ের পল্টন মোড় পর্যন্ত রাস্তা দখর করে নেয় শিশু-বুড়ো ভিক্ষুকরা। এদিকে উত্তরদিকে কদম ফোয়ারা, পূর্তভবন ও মৎস্য ভবন পর্যন্ত আশপাশের শিল্পকলা একাডেমিসহ সবর্ত্রই একই চিত্র দেখা যায় ভিক্ষুকদের।

অন্যদিকে জাতীয় ঈদগাহর গেট থেকে দক্ষিণ দিকে শিক্ষা ভবন, সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেট সংলগ্ন দোয়েল চত্বরের দিকেও একই চিত্র দেখা গেছে।

সকালে মুসল্লিরা ঈদগাহ পৌঁছানোর অনেক আগেই ভিক্ষুকরা আশপাশে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার জন্য তারা ঈদগাহ এর পাশে ভিড়তে পারেননি। নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তারা পৌঁছে যান মুসল্লিদের রাস্তার কাছে।

এদিকে প্রেসক্লাবের উত্তরদিকের রাস্তা ধরে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত ভিক্ষুকদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এক কথায় জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে ছিল ভিক্ষুকদের উৎসবমুখর অবস্থান।

জাতীয় ঈদগাহে সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মিলিত হয় লাখ লাখ মুসল্লি। সেখানে তখন ভিক্ষুক দেখা যায়নি। তবে, ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর জড়ো হতে থাকে ভিক্ষুকদের দল।

সকালে সবগুলো রাস্তায় আচওয়ে দিয়ে মানুষের দেহ তল্লাশি করে শুধুমাত্র জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়। যে সকল মুসল্লি ছাতা এবং ব্যাগ নিয়ে ঈদের জামাতের উদ্দেশে এসেছিলেন তাদের ব্যাগ ও ছাতা আচওয়ে পর্যন্ত আসার পরই আটকে দেয়া হয়। তাই ভিক্ষুকরাও আটকে ছিলেন। কিন্তু নামাজের পর তারা যে সুযোগ পেয়েছিল তা কাজে লাগিয়েছে।

সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামায়াত। এর আগে ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে ঈদগাহে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি আসার ১০ মিনিট পরই অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত।

পল্টন থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত নারী, শিশু, বয়স্ক আর প্রতিবন্ধী মিলিয়ে শত শত ভিক্ষুকের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তাদের একটাই আশা, কখন শেষ হবে ঈদের জামাত। কারণ, জামাত শেষ হলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত দান খয়রাত।

ভিক্ষার থালা আজ তাদের ভরপুর। নামাজ শেষে কমবেশি সবাই টাকা-পয়সা দান করেছেন বলে প্রায় সব ভিক্ষুকের মনেই খুশির জোয়ার বইছে।

জাতীয় ঈদগাহ থেকে নামাজ আদায় করে বের হলেন মিল্টন আনোয়ার। তিনি জানান, ঈদের দিন বলেই আজ ভিক্ষুকদের ভিড় অনেক বেশি। কমবেশি টাকা তো দিতেই হয়। তবে এতো বেশি ভিক্ষুক যে কাকে রেখে কাকে দেয়া যায় সেটাই মুশকিল।

জাতীয় ঈদগাহে আজ নামাজ পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

প্রতিবেদন: বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

Facebook Comments

Check Also

আজ নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক : বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। ২০০৪ সালের …

vv