ব্রেকিং নিউজঃ
Home / আইন-আদালত / জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের সাথে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)
ছবিতে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) ষ্টলটি উদ্বোধন করছেন মোঃ সেলিম মিয়া, বিচারক (জেলা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল; পাশে রয়েছেন শামসুন্নাহার পিপিএম, পুলিশ সুপার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটোয়ারী, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ; মোঃ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, মেয়র ও সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের সাথে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)

বিশেষ সংবাদদাতা : “উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ – লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হল ৬ষ্ঠ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০১৮। চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা ও লিগ্যাল এইড মেলার আয়োজন। দিবসের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা সহ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ৯ টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি জজ কোর্ট ভবন থেকে শুরু করে শহরের ইলিশ চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার জজ কোর্ট ভবনে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিজ্ঞ আইনজীবিগণ অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালী শেষে লিগ্যাল এইড মেলায় অংশগ্রহণরত বিভিন্ন ষ্টলের ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) অংশগ্রহণ করে এবং প্রকল্পের বিভিন্ন উপকরণ উপস্থাপন করে। অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ ঘুরে ঘুরে মেলা পরিদর্শন করেন।

এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এবং চেয়ারম্যান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সেলিম মিয়া, বিচারক (জেলা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল; আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটোয়ারী, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ; শামসুন্নাহার পিপিএম, পুলিশ সুপার, মোঃ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, মেয়র ও সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ; মোঃ মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সৈয়দ মোঃ কায়সার মোশারফ ইউসুফ, চীফ জুডিশিয়াল (ভারপ্রাপ্ত) ও মোঃ আব্দুল লতিফ শেখ, জেলা বার সভাপতি; উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গ্রাম আদালতে মামলা খরচ খুবই কম। দেওয়ানী মামলা জন্য ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার জন্য ১০ টাকা মাত্র। দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় মামলার ক্ষেত্রে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে রায় ঘোষণার এখতিয়ার গ্রাম আদালতের রয়েছে। তবে গবাদী পশু চুরি ছাড়া অন্যান্য সকল চুরির ক্ষেত্রে এ এখতিয়ার ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালতের বেঞ্চ গঠিত হয়। এতে সভাপতি হিসেবে থাকেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। বাকী চার জনের মধ্যে দুই জন মনোনীত করেন মামলার আবেদনকারী এবং অন্য দুই জন মনোনীত করেন প্রতিবাদী অর্থ্যাৎ যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে প্রচলিত আদালতগুলোতে মামলার চাপ অনেক কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ স্থস্তি ফিরে পাবে।

সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প’ -এ সহযোগী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ষ্ট্রাষ্ট (ব্লাষ্ট) চাঁদপুর জেলায় কাজ করছে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে আইনজীবী স‌হকারী স‌মি‌তির নির্বাচ‌ন সম্পন্ন, সভাপ‌তি কৃষ্ণ সম্পাদক ব‌শির

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দি‌য়ে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী স‌হকারী স‌মি‌তির …

vv