ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর / ছাত্রনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি; সাধারন মানুষের হৃদয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন

ছাত্রনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি; সাধারন মানুষের হৃদয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন

মাসুদ হোসেন : ছাত্রনেতা থেকে জনগনের সেবক হয়ে মানুষের জন্য বিভিন্ন নিরলসভাবে কাজ করে ইউনিয়নবাসীর প্রিয় ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী। তিনি চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি থাকাকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানেরশীষ প্রতীক পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৯ ভোট।

জয়ের পর ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২৬ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব নিয়ে বেসরকারী হিসেবে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের প্রতিনিধি হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এই মানুষটি। সরকারের দেয়া বরাদ্দ সঠিকভাবে বন্টন ও কাজ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেত্রী শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি এমপি’র মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে রামপুর ইউনিয়নের জনসাধারণের সেবা করে গত সাড়ে ৪ বছর অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। ইউনিয়নের সকল স্তরের মানুষের কাছে খুব অল্প সময়ে হৃদয়ের মনিকোটায় স্থান করে নিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীর বিগত বছরের কর্মকান্ড নিয়ে ইউনিয়নের মনিহার এলাকার সিএনজি চালক আরিফ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে মামুন ভাই অনেক ভালো। তার কারন হচ্ছে আমাদের এলাকায় নেশা, জুয়াসহ অনেক অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটতো, ওনাকে রাতের যেকোন সময় ফোন দিলে কখনো প্রশাসনসহ আবার কখনো নিজেই একা ঘটনাস্থলে চলে আসতো এবং প্রতিহত করতো।

বর্তমানে এসব কর্মকান্ড এখন আর এ এলাকায় তেমন একটা হচ্ছে না। অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় অর্থাৎ স্বাধীনের পর এই প্রথম বর্তমান পরিষদের তত্বাবধানে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে এ এলাকায়।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ ফজলুল করিম বাছেত বলেন, এত কম বয়সে যে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব নিয়েছে তা আমি প্রথমে অন্যভাবে নিলেও এখন সে ভুলটা কেটে গেছে। তার সাড়ে চার বছরের কর্মকান্ডে ইউনিয়নবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, উনি আসলেই কতটুকু যোগ্য চেয়ারম্যান। উন্নয়নসহ এলাকাবাসীর বিপদে আপদে কাছে থেকে সহযোগিতা করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। উনি ইউনিয়নের কৃষক থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের মানুষকে যথাযথভাবে শ্রদ্ধার সাথে মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের গত কমিটির উপদেষ্টা ও ছোট সুন্দর এ. আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোক্তার আহমেদ মাষ্টার বলেন, আল মামুন পাটওয়ারী ওনার কর্মজীবনে গত সাড়ে চার বছর ধরে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন আমার বিশ্বাস। তার বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ শুনিনি যে, তার জন্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কারো কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কিছু করা এমন কোন অভিযোগ পাইনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, উনি যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং জনগন ও দলীয় নেতৃবৃন্দের আস্থাভাজন হয়ে থাকেন তাহলে তাকে অবশ্যই দলীয় মনোনয়ন দিবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। তবে জনপ্রতিনিধিত্ব করার যে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা সে বিগত বছরগুলোতে অর্জন করেছে। সে লক্ষ্যে আগামীতেও তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করলে ইউনিয়নবাসী অনেক উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যেহেতু সে পূর্বের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন যোগ্য চেয়ারম্যান।

এদিকে চেয়ারম্যান হিসেবে সহকর্মীদের সাথে কেমন ছিলেন তা জানার জন্য গ্রাম পুলিশের দপাদার মোঃ বাচ্চুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে চেয়ারম্যান সাহেব অনেক ভালো। আমার ১৯ বছরের চাকরী জীবনে বর্তমান চেয়ারম্যান অনেক ভালো। আমার জানা মতে আমাদের গ্রাম পুলিশ কারো সাথে কোনদিনই খারাপ আচরণ করেননি। যদিও কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে অধিকারের সহিত বুঝিয়ে দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মোঃ মমিন উদ্দিন পাটওয়ারী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি আমার দশ বছরের মেম্বার থাকাকালীন সময় এবং এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারীর সময়ও পরিষদের সাথে থাকাকালীন চেয়ারম্যানদের মধ্যে আল মামুন পাটওয়ারী সাহেব একজন বিচক্ষণ মানুষ। তার কোন তুলনাই হয় না।

তিনি সকল ইউপি সদস্যদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউনিয়নবাসীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী জনগনের সেবা করার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজেও জড়িত থেকে মানুষের আরো কাছাকাছি আপন হতে পেরেছেন।

তিনি রামপুর আলিম মাদ্রাসার বিদ্যুৎসায়ী সদস্য, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও সরকারী নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, মহামায়া শাখা, চাঁদপুরের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এর আগে তিনি রাজনৈতিক ভাবে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের জিয়া হল শাখার সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ক্রিয়া সম্পাদক ও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ৫নং রামপুর ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতির দায়িত্ব যথেষ্ঠ সুনামের সাথে পালন করে এসেছেন। ছাত্র রাজনীতি শেষ করে বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই পর্যন্ত ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৮ টি ঘাটলা নতুন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৪টি ঘাটলার কাজ চলমান, ৭টি বাড়িতে সিসি ঢালাই করা হয়েছে এবং ১০টি বাড়িতে সিসি ঢালাইয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন, বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে ৮টি এবং প্রক্রিয়াধীন ১টি, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে ৭টি এবং প্রক্রিয়াধীন আছে ৪টি, ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফুট গাইড ওয়ালের কাজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৩ টি স্পটে আরও ৩২০ ফুট গাইড ওয়ালের কাজ প্রক্রিয়াধীন, ইরি স্কীমের ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে ৪৫০ ফুট এবং চলমান রয়েছে ৫০০ ফুট, হেরিং বন্ড তথা ইটের সোলিং ৩টি রাস্তায় প্রায় ৭ হাজার ৫’শ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার, পাকা সড়ক সংস্কার করা হয়েছে প্রায় ১৩ কিলোমিটার, পাকা সংস্কারাধীন চলমান রয়েছে ৫ কিলোমিটার, নতুন পাকাকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৬ কিলোমিটার, স্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হয়েছে ৭০ টি এবং প্রক্রিয়াধনি রয়েছে ১৯টি, ইউনিয়নে প্রায় সকল মসজিদে ৮৩ টি হোম সোলার, মন্দিরে ৫টি হোম সোলার, এবং ৪০ টি বসত ঘরে হোম সোলার স্থাপন করা হয়েছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭টি বৈদ্যুতিক বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন চেয়ার-টেবিল ও আলমারির সরবরাহ করা হয়েছে।

মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী বলেন, আমি বাংলাদেশ আ’লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এ ইউনিয়নে “যার জমি আছে ঘর নেই” তাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে ১ লক্ষ টাকা করে ২৫টি ছোট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩টি ঘরের কাজ প্রক্রিয়াধীন। কাবিখা প্রকল্প থেকে নতুন ৩টি টিনসেট ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ডাকাতিয়া নদীর ওপর ভাষাবীর এম. এ ওয়াদুদ সেতু নির্মাণ কাজ শেষের পথে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মহতি উদ্যােগ সর্বমহলে প্রশংসিত

সজীব খান : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের মহতি উদ্যােগে সর্বমহলে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। …

Shares
vv