ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুর হামানকদ্দি চরে আবাদি জমির মাটি চুরি, কৃষকের মাঝে চরম ক্ষোভ
দক্ষিন হামানকদ্দি চর থেকে চুরি করে মাটি নেওয়ার ফলে এভাবেই জমিগুলো গভীর হয়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুর হামানকদ্দি চরে আবাদি জমির মাটি চুরি, কৃষকের মাঝে চরম ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলা ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নে দক্ষিন হমানকর্দ্দি চরের আবাদি জমির মাটি চুরি হওয়ায় চলতি রবি শস্য মৌসুমে কৃষকদের আবাদি জমিতে আবাদ করতে চরম ভোগান্তীর কবলে পড়তে হচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে এক শ্রেনীর অসাধু নৌকার মালিকরা নৌকা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময়ে দক্ষিন হামানকদ্দি চর ( বেড়ী বাঁধের বিলের) মাটি চুরি করে নিয়ে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, দক্ষিন হামানকদ্দি বেড়ি বাঁধের বিলটি বর্ষা মৌসুমে জনশূন্য থাকে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেনীর নৌকার মালিকরা বর্ষা মৌসুমের মাটি কাটার শ্রমিক দিয়ে বিভিন্ন জমি থেকে মাটি চুরি করে কেটে নিয়ে আসে। আর সে মাটি আশ পাশের বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডে অধিক টাকায় বিক্রি করে। বর্ষা শেষে উক্ত জমিতে আবাদ করতে গিয়ে বিষয়টি প্রতি বছর কৃষকদের চোখে ধরা পড়ে। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। বিভিন্ন জমি থেকে মাটি চুরি করার গর্ত ভরাট করতে কৃষকদের প্রচুর অর্থের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক জমির খনন কৃত গর্ত ভরাট করতে না পারায় পুরো বছর সেসব জমি অনাবাদি থাকে। এর ফলে কৃষকদের বছরে অনেক টাকা লোকশানের কবলে পড়তে হচ্ছে। ইরি বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকদের চরম প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

ক্ষতিগ্রস্থ মৃত মাস্টার আবদুল মান্নান খানের ছেলে মফিজুর রহমান মুকুুল, মৃত খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর ছেলে আলী আকবর পাটওয়ারী, আবুল হোসেনের ছেলে সাওয়ার হোসেন গাজী, আবিদ খানের ছেলে গফুর খান জানান, বর্ষা মৌসুমে দক্ষিন হামানকদ্দির চরে কিছু অসাধু ব্যাক্তি নৌকা/ ট্রলারে করে আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের জমি থেকে মটি চুরি করে মাটি কেটে নিয়ে যায়। যা বর্ষা শেষে জমিতে আবাদ করতে গেলে বিষয়টি সকলের চোখে ধরা পড়ে। এভাবে আমাদের জমি থেকে মাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে আমাদের জমিতে ফলস উৎপাদন করতে মারাত্মক সমস্যা হয়। সরকার যেখানে কৃষি উৎপাদান বৃদ্ধির জন্য, কৃষি জমি রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, সেখানে রাতের আঁধারে, দিনের বেলায় বর্ষা মৌসুমে কিছু অসাধূ ব্যাক্তির যোগসাঁজসে এভাবে মাটি কাটা কতটা আইনগত বৈধতা থাকে। এভাবে চুরি করে জমি থেকে গর্ত করে মাটি নিলে ভষিৎতে আমাদের জমিগুলো অনাবাদি থাকবে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, দক্ষিন হামান কদ্দির লফিত মৃধার ছেলে খলিল মৃধা, কলমতর খানের ছেলে হেলাল খান, জামাল গাজীর ছেলে কাইউম গাজী, নোয়াব আলী গাজীর ছেলে ছাত্তার গাজীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দক্ষিন হামানকদ্দি এলাকায় নৌকা দিয়ে মাটির ব্যবসা করে থাকে। তাদের যে কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তারা জানান।

সিবিএফ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার জসিম জানান, নৌকার মালিকদের কাছে থেকে সকল ব্রিকফিল্ডের মালিক মাটি ক্রয় করে। মাটি ক্রয় করার বিষয়ে মালিকদের কোন প্রকার সম্পৃততা নেই। জমির মালিকরা নৌকার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করে।

Facebook Comments

Check Also

পুলিশের কবজায় হাইমচরের ‘দাদাভাই’

বিশেষ প্রতিনিধি : হাইমচরে শীর্ষ সন্ত্রাসী, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি ইসমাইল হোসেন দাদাভাইকে …

vv