ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর / চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ৫ দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৭ জেলে আটক

চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ৫ দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৭ জেলে আটক

অমরেশ দত্ত জয় : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃক পরিচালিত মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের ৫ দিনে ৭ অসাধু জেলেকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। যাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।  ১৪ অক্টোবর সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ তথ্য জানা যায়।
চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, এ বছর অক্টোবরের ৯ তারিখ হতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা ও মেঘনা অভয়াশ্রমে সব ধরণের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই সাথে এ সময় সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ অথবা বিক্রয়ও নিষিদ্ধ রয়েছে।কিন্তু তবুও সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে যেন প্রতিযোগিতা নিয়ে চলছে অবাধে জাটকা নিধন। তাই অসাধু জেলেদের থেকে জাটকা রক্ষা করতে চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃক নদীতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র আরো জানায়, ৯ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের তথ্যে ৭ জন অসাধু জেলে আটক হয়েছে। যাদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৪ জনকে ১ বছর মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ডে সাজা দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৩জনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র আরো জানায়,আটক এসব জেলেদের থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সমমূল্যের ২৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং প্রায় ৮০ হাজার টাকা সমমূল্যের ২ হাজার মিটার সুতার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এর সাথে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মা ইলিশ উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি।
চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ হাসনাত জামান জানান, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় পিছিয়ে নেই চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। আমরা চাঁদপুর নৌ এসপি স্যারের নির্দেশে জাটকা সংরক্ষণে প্রতিনিয়ত অভিযান করছি। এখন পর্যন্ত ৭ জেলেকে জাল সহ আটক করতে পেরেছি। আটককৃতদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এ সময় জালে যে পরিমাণ ইলিশ ছিলো। সেসবও মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা এবং আটককৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
 তিনি আরো জানান, নদীতে যাওয়ার জন্য আটককৃত এসব অসাধু জেলেরা যেই ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যবহার করতো। ওই সব ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলো আমরা নদীতেই ধ্বংস করেছি। তাই এর কোন হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। তাছড়াও জাটকা সংরক্ষণে আমরা মৎস বিভাগ,জেলা প্রশাসন,নৌ বাহিনী সকলে সমন্বয় করেও কাজ করছি।
দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি রক্ষা করতে নদীতে আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Facebook Comments

Check Also

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে চাঁদপুরের জনজীবনে ভোগান্তি

মাসুদ হোসেন : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুর থেকেই চাঁদপুরে গুঁড়ি …

vv