ব্রেকিং নিউজঃ
Home / স্বাস্থ্য / চাঁদপুর সদর হাসপাতাল করোনা পরীক্ষা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে সীমাহীন দুর্ভোগ

চাঁদপুর সদর হাসপাতাল করোনা পরীক্ষা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে সীমাহীন দুর্ভোগ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুরে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ কারণে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে মানুষের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসা নিয়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষা থেকে শুরু হয় ভোগান্তি, আক্রান্ত হলে চিকিৎসা পর্যন্ত চলে দুর্ভোগ। এর শেষ হয় মৃত্যু অথবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মাধ্যমে। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পরীক্ষা করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে ১০ জন রোগী চিকিৎসাধীন মারা গেছেন। এর মধ্যে কিছু রোগী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন মারা যান। তাদের দুজনের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। রোববার সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন মোস্তফা কামাল (৬০)। তিনি ভর্তির ৫০ মিনিটের মাথায় মারা যান। অন্যদিকে একই দিন বিকালে আবদুল কাদের পাটওয়ারী (৬৫) হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। করোনার উপসর্গে মারা যাওয়া উভয়ের পরিবারের লোকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়।

তারা বলেন, করোনার উপসর্গ বেশি দেখে আমরা অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তারা ভালোভাবে না দেখেই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কীভাবে আছেন, কী চিকিৎসা দিচ্ছেন এসব কথা জিজ্ঞেস করলে খারাপ আচরণ করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

চাঁদপুরে করোনা চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থেকে যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন কথা হয় তাদের কয়েকজনের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন বলে এখনও বেঁচে আছি। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে যাওয়ার পর থেকে নিজেদের মধ্যে একরকম ভীতি সৃষ্টি হয়েছিল। মনে হয়েছিল, এই বুঝি মারা যাব।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা আমাদের কোনো কথা শুনতে নারাজ ছিলেন। কোনো রকমভাবে আমাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ থাকত, তাদের কাছেও কেউ যেত না।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক প্রকার মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হয়। এত সমস্যার পরও চাঁদপুরে বাড়েনি হাসপাতালে সেবার মান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সব রকম প্রস্তুতি আছে, তা হলে কেন হাসপাতালে গিয়ে কাক্সিক্ষত সেবা পাবে না রোগীরা। জানা যায়, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ক্লিনার, আয়া বা সহায়তাকারী লোকবল নেই। এ ছাড়া নেই আইসিইউ ইউনিট। ভেন্টিলেশনের সুবিধাও নেই।

অন্যদিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের এরএমও ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেলের বিরুদ্ধে করোনা উপসর্গ রোগী ও পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ বেড়ে চলেছে। হাসপাতালে আগতরা জানান, ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল ঠিকভাবে রোগী দেখেন না। তিনি তার কক্ষে সর্বদাই ব্যস্ত থাকেন। করোনার উপসর্গ রোগী এলে তিনি ভালো করে না দেখেই বাড়ি কিংবা আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। রোগীর পরিবারের সদস্যরা তার কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলেই উত্তেজিত হয়ে কথা বলে বের করে দেন।

এছাড়া অভিযুক্তদের কথা মতে গত সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের আরএমও ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেলের কক্ষে যাওয়া হয়। ওই সময় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও থেকে আসা করোনার উপসর্গ তাজুল ইসলামের (৬১) মেয়ে মরিয়ম বেগমের আকুতি ছিল দেখার মতো।

তিনি বলছিলেন, আমার বাবাকে বাঁচান। সারা দিন অপেক্ষা করেছি, করোনা পরীক্ষা নেয়নি।

এভাবে আকুতি করায় উত্তেজিত হয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল। একপর্যায়ে তাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মরিয়ম বেগম বলেন, আমার বাবা অনেক অসুস্থ। তার করোনার উপসর্গ রয়েছে। হাসপাতাল থেকে বলেছে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। তার পরপরই আমি নাম, ঠিকানা সব দিয়েছি কিন্তু আমার বাবার করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। বাবা ও কোলের বাচ্চাটাকে নিয়ে সারা দিন অপেক্ষা করেছি। আমরা এই বিষয়ে আরএমও ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেলের কাছে যাই। কিন্তু তিনি বলেন, আমাদের কি আর কাজ নেই।

হাসপাতালে অপেক্ষা করেন, রাত ১০ পর আপনাকে ফোন দেব। এ বলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে রুম থেকে বরে করে দেয়।

Facebook Comments

Check Also

ফরিদগঞ্জ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সম্পাদক শহিদুল্লাহ’র মৃত্যুতে দোয়া ও সহায়তা প্রদান

এস.এম ইকবাল : বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চাঁদপুর জেলা ফরিদগঞ্জ শাখার প্রায়ত সাধারণ সম্পাদক মো. …

vv