ব্রেকিং নিউজঃ
Home / স্বাস্থ্য / চাঁদপুর সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে নেয়া হচ্ছে করোনা পরীক্ষা : দেয়া হচ্ছে সকল সেবা

চাঁদপুর সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে নেয়া হচ্ছে করোনা পরীক্ষা : দেয়া হচ্ছে সকল সেবা

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার একমাত্র করোনা হাসপাতাল ২৫০ শয্যা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যেখান থেকে সুস্থ হয়ে ফিরছেন অনেকেই। তবে এ হাসপাতালটিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নিজ উদ্যোগে সেন্ট্রাল অক্রিজেন প্লান স্থাপন করা হবে।

পিসিআর ল্যাব না থাকলেও ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় জুলাইতে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে এ ল্যাব স্থাপন করা হবে। এই ল্যাব স্থাপনের প্রধান উদ্যোক্তা হচ্ছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

২৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ২৭ জুন শনিবার পর্যন্ত গত ৩ মাসে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে কোভিড ১১১ জন ও নন কোভিড ১২৫ জন। আর এদের থেকে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। মৃত্যুর পরে নমুনা সংগ্রহ করে জানা যায় ৯ জন করোনায় আক্রান্ত। আর বাকী ১৯ জন নন কোভিড। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে কোভিড ১০ জন ও নন কোভিড ১৫ জন। হোম আসোলেশনে আছেন ৪৮ জন। যারা হোম আইসোলেশনে আছেন তাদের অনেকেরই ২য় নমুনা অপেক্ষমান আছে। আর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও এবং করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল।

এছাড়াও গত ২০ জুন চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কোভিড-১৯ হেল্পলাইন এর ফেসবুক পেইজে রাত সাড়ে ৯টায় জুম অ্যাপ্স এর মাধ্যমে জেলার করোনা বিষয়ক চিকিৎসাসেবা নিয়ে একটি লাইভ সম্প্রসার হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিনের উপস্থাপনায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন ২৫০ শয্যা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো: মাহাবুবুর রহমান, বিএমএ চাঁদপুরের সাধারন সম্পাদক ডা. মাহমুদুন্নবী মাসুম, ২৫০ শয্যা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডা. মো: মাহাবুবুর রহমান বলেন, জেলার ২৮ লক্ষ মানুষের যে সদর হাসপাতালে শুরুতে করোনা চিকিৎসার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩০ শয্যার। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে আমরা সেটাকে ৬০ শয্যায় তৈরি করেছি। এর মধ্যে ৩০ শয্যা কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য এবং বাকী ৩০ শয্যা সাসপেকটেড কোভিড রোগীদের জন্য।

এ পর্যন্ত শুরুতে আমরা কিছুটা জনবল সংকটে ছিলাম কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠেছি। তবে যদি চিকিৎসক কিংবা নার্স অসুস্থ হয়ে গেলে জনবল সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

জেলার একমাত্র রোপারেল এই হাসপাতালে বর্হিবিভাগ, অর্ন্তবিভাগ, অন্যান্য আইএফসিআই, ইপিআই এর পাশাপাশি আমাদের এই কোভিড-১৯ সেবাটা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে যে ফ্লু কর্ণার আছে সেখানে সাসপেকটেড রোগীদের সেপারেট করা হয়। এখান থেকে কোভিড রোগীদের আইসেলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি দিই। আর যদি মনে করি কোভিডের কোন লক্ষণ নেই তাহলে সাধারন রোগীদের সাথে ভর্তি দেই। আর প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার জন্য দুপুর ১টা থেকে ১০৯ নম্বর কক্ষে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা হাসপাতালে ৫টি টিম করেছি। যাতে যে যেই ডিউটিতে থাকবেন তিনি ঐখানে কাজ করবেন। কোভিড ওয়ার্ডে ৩টি টিম করেছি। প্রতিটি টিমে ৬জন করে চিকিৎসক, ১২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ৬ জন ক্লিনার ও ৬ জন ওয়ার্ড বয় কাজ করেন। একটা টিম একটানান ১০ দিন কাজ করার পরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকে, ৬দিন পরিবারের সাথে অবস্থান করে পূণরায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

১০ দিন কর্মকালীন সময় ও কোয়ারেন্টাইন কালীন সময়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় একটি হোটেলে অবস্থান করেন। সেখানেই তাদের খাওয়া এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখাশুনা করা হয়।

Facebook Comments

Check Also

এইচ ড্যাব এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিন: সভাপ‌তি ডা. শ‌ফিকুল ও মহা‌সচিব ডাঃ জা‌কির

স্টাফ রিপোর্টার : হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচ ড্যাব) এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। …

vv