ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিরূটে যানবাহন চলাচল আশঙ্কাজনকহারে কমছে!

চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিরূটে যানবাহন চলাচল আশঙ্কাজনকহারে কমছে!

চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিরূটে যানবাহন চলাচল দিন দিন কমে যাচ্ছে। গত মে মাসের দশদিনের সাথে চলতি জুন মাসের দশদিনের তুলনা করলে দেখা যায় যে, এ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার মে মাসের দশদিনের চেয়ে অর্ধেকেরও কম হয়েছে জুন মাসের দশদিনে। শরীয়তপুর-মাদারীপুর এবং চান্দ্রা-ফরিদগঞ্জ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এ ফেরিরূটটিতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা এভাবেই আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে। এখন বর্ষা মৌসুমে এই সড়কগুলোর অবস্থা খুব বেশি খারাপ হয়ে গেছে। রাস্তার দুরবস্থার কারণে এখন এ রূটে গাড়ি নিয়ে আসতে চাচ্ছে না চালকরা। তাই যানবাহন না থাকায় ফেরিঘাট পার্কিং ইয়ার্ড প্রায়ই ফাঁকা থাকে। এ ঘাটকে ঘিরে যে মানুষের কর্মচাঞ্চল্যতা থাকতো, তা এখন অনেকটা নেই বললেই চলে। ফেরিঘাট কেন্দ্রিক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্রেতাবিহীন অলস সময় পার করছে। কমে গেছে ঘাটের বেচাকেনা। বিগত দিনে প্রতিদিন এ পথে ২ শতাধিক গাড়ি পারাপার হলেও বর্তমানে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এভাবে গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় এই ফেরি কেন্দ্রিক সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক কমে গেছে।

স্থানীয় দোকানী মঞ্জিল মাঝি, আবদুল্লাহ ও বাচ্চু মিয়া জানান, এখানে যত গাড়ি আসবে আমাদের বেচা বিক্রিও ততো বাড়বে। কিন্তু গত একমাস ধরে গাড়ি কম আসায় আমাদের বেচাকেনাও অনেক কমে গেছে। হরিণা ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, এই রূটে চারটি ফেরি দিয়ে প্রতিদিন ১২-১৩টি ট্রিপ দেয়া হতো। বর্তমানে দু’টি ফেরি দিয়ে তার অর্ধেকেরও কম ট্রিপ দেয়া হয়। মে মাসের প্রথম দশদিনেই এই রূটে ফেরি দিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে ১৬৫৫টি। আর জুন মাসের প্রথম দশদিনে এর সংখ্যা মাত্র ৬শ’ ৪৭টি। যা মে মাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। চালকরা বলছে, ফেরি ঘাটের দু’পাশের সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এতে গাড়ির কলকব্জা নষ্ট হচ্ছে। তাই সময় বেশি লাগলেও গাড়িগুলো অন্য পথে চলে যাচ্ছে।

আবদুল জলিল, মোবারক হোসেন ও বিল্লাল মিয়া নামে ক’জন চালক জানান, ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা সড়কের বেহাল অবস্থা। এছাড়া শরীয়তপুর-মাদারীপুর রাস্তারও খুব খারাপ অবস্থা। এ কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই চালকরা অনেক ব্যয়বহুল হলেও ভিন্ন সড়ক ব্যবহার করছে।

হরিণা ফেরিঘাটের ম্যানেজার পারভেজ খান জানান, এ ঘাটে আগে চারটি ফেরি ১০-১২টি ট্রিপ দিতো। আর বর্তমানে তিনটি ফেরি ৫-৬টি ট্রিপ দেয়। আগে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে অর্ধেকে। দ্রুত দু পাড়ের সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজ করার দাবি জানান ঘাট ম্যানেজার।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে অনেক কম দূরত্ব ও নিরাপদ রূট হচ্ছে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিরূট। এ ফেরিঘাটে সরকারের রাজস্ব আয়ও হতো অন্যান্য ঘাটের চেয়ে অনেক বেশি। তাই দ্রুত শরীয়তপুর-মাদারীপুর এবং চান্দ্রা-ফরিদগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন কাজ করার দাবি সংশ্লিষ্ট সবার।

প্রতিবেদন: প্রিয় চাঁদপুর প্রতিবেদক

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দহুলীয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র …

vv