ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুর মহিলা অধিদপ্তরে জীবিকায়নের প্রকল্পে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
বামে থেকে-জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাফিয়া ইকবাল এবং প্রোগ্রাম অফিসার সাজিয়া আফরিন।

চাঁদপুর মহিলা অধিদপ্তরে জীবিকায়নের প্রকল্পে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

অমরেশ দত্ত জয় : চাঁদপুরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাফিয়া ইকবাল ও প্রোগ্রাম অফিসার সাজিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পে নিয়োগ বাণিজ্য ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে (২০/২৫ লক্ষ টাকা) মোটাদাগে টাকা খেয়ে ওই প্রকল্পে গোপনে ৫ জন নিয়োগ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
যাদের কে চাকরী পায়িয়ে দিবে বলে আগে থেকেই প্রত্যেকের থেকে ৪/৫ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন।ওদের কালো টাকা সাদা করার দায় সারার জন্য ২৯ শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ তোলেন ওই প্রকল্প থেকে বাদ পড়া ৪ প্রশিক্ষক।
অভিযোগকারীরা হলেন, কম্পিউটার প্রশিক্ষক সোহেল রানা, ব্লক/বাটিক প্রশিক্ষক শামীমা নাসরিন, দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষক সালমা আক্তার, বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষক রুমা আক্তার। এদের মধ্যে ব্লক/বাটিক প্রশিক্ষক শামীমা নাসরিন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৭ সালের ৭ই ডিসেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে ব্লক/বাটিক পদে মহিলা অধিদপ্তরে কর্মরত ইতির নিকট দরখাস্ত জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। যেখানে উল্লেখ ছিলো পূর্বে যারা আবেদন করেছে তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। এখন তারা নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে অনিয়ম করে আমাকে ইন্টারভিউ কার্ড পর্যন্ত দেয়নি।
এমনকি আমি বিষয়টি রাফিয়া ইকবাল মেডামকে অবহিত করলে তিনি কোন সাড়া না দিয়ে উল্টো আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। আমি আমার চাকরি ফিরত পেতে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কম্পিউটার প্রশিক্ষক সোহেল রানা, দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষক সালমা আক্তার, বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষক রুমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ডব্লিউটিসি প্রকল্প ২০১১ সালের ৫ই মে থেকে শুরু হয়।
প্রকল্প ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত চলে।ডব্লিউটিসি এর অর্থায়নে ২০১৪ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর সদর কার্যালয়ের মৌখিক ও ২০১৪ সালের ৪ই সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। এতে ২০১৭ সালের ১২ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করি।২০১৬ সালের ৩০শে অক্টোবর জেলার উপ-পরিচালক পদে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করেন। ২০১৭ সালের জুনে আমাদের বকেয়া বেতন ও এরিয়ার বিল ৩ লক্ষ টাকা আসে। পরে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এই টাকা থেকে বেনিফিট চান। আর তা না দেওয়ায় আমাদের জুলাই/১৭ হতে ডিসেম্বর/১৭ পর্যন্ত বেতন আটকিয়ে দেয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন করা হয় ঐ তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ২০১৮ সালের ২৮শে মে আমাদের প্রশিক্ষকদের পক্ষে দেন।
যা বর্তমান জেলা কর্মকর্তা রাফিয়া ইকবাল তিনিও জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে উল্লেখ করেন আমাদের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন প্রতিবন্ধকতা দৃশ্যমান হয়নি। তারা সাংবাদিকদের আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি মহোদয়ও আমাদের পক্ষে সুপারিশ দেন। আমরা সুপ্রিমকোর্ট থেকে নোটিশও প্রদান করি কিন্তু আমাদের বেতন ও আটকিয়ে রাখা হয়।হাইকোর্টের নোটিশের পরও জবাব দেওয়া হয়নি।
এমনকি আমাদের চাকুরী বহাল না করে নতুনভাবে কিছু লোক থেকে মোটাদাগে টাকা (প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকা) নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। আমরা উর্দ্ধতনদের নিকট এ ব্যপারে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে সাজিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেইনি। আমার বিরুদ্ধে লোক নিয়োগের কথা বলে ৪/৫ লক্ষ করে টাকা নিয়েছি এমন কোন প্রমাণ নেই। আর একই পদে ১০/১২ বছর রয়েছি সেটি আমার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতায়।তাই আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাফিয়া ইকবালের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি কারো থেকে কোন টাকা-পয়সা নেইনি। সম্পূর্ণ বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে। এখানে আগে থেকে কাউকেউ সিলেক্ট করে রাখা হয়নি। সম্পূর্ণ অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা। উল্টো ওরা যাতে তাদের বকেয়া টাকা দ্রুত পেয়ে যায় আমি সে ব্যপারে ওদেরকে যথেষ্ট সাহায্য করেছি।
এদিকে গতকাল দুপুরে ইন্টারভিউ নেওয়ার স্থানে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানকে অভিযোগগুলো অবহিত করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি এসব কিছুই জানতাম না। আর এখন অনেকটা দেরী হয়ে গেছে। শামীমা নাসরিনের বিষয়টি আমরা দেখি কিছু করা যায়কিনা! তবে কিছু করা না গেলে ভুক্তভোগী সবাইকে স্ব উদ্যোগে আইনী পক্রিয়ায় যেতে ইচ্ছে হলে সে ব্যবস্থা নিতে বলা হলো।
Facebook Comments

Check Also

সুনামগঞ্জে ইউএনও-এর নম্বর ক্লােন করে টাকা দাবি

রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ : জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান-এর সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লােন করে …

Shares
vv