ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চাঁদপুরে না’, হাজীগঞ্জে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চাঁদপুরে না’, হাজীগঞ্জে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর জেলা শহরের চরাঞ্চলে নদীর পাড়ে কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে রাষ্ট্রিয় অর্থ অপচয় না করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অচিরেই হাজীগঞ্জে স্থাপনের দাবিতে চাঁদপুর জেলা শহরের হাজিগঞ্জে স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অনুসন্ধান কালে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, চাঁদপুরের বহরিয়া এলাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এক মাত্র লাভবান হবেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: সেলিম খান। সেখানকার এ জায়গা নিয়ে দুনিতী দমন সংস্থা দুদুক তাদের প্রতিবেদনের এ জায়গার বিরুদ্বে প্রতিবেদনে উল্লেখ,করেছেন। তা’পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা বিড়িয়ে আসবে।

চাঁদপুরের চরাঞ্চলগুলো মারাত্বক নদী ভাঙ্গন এলাকা হিসেবে রুপ নিয়ে বিগত বহু বছর যাবত ভাঙ্গছে।। যেখানে চাঁদপুর শহর রক্ষার জন্য সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে, সেখানে ‘বহরিয়া’ নামক একটি অতিনদী সিকিস্তী এলাকায় চরাঞ্চল এলাকায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় কেন স্থাপন করা হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন বক্তারা। বিশ^বিদ্যালয়টি জেলার মধ্যবর্তী স্থান হাজীগঞ্জে স্থাপনের দাবিতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আজ শুক্রবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাজীগঞ্জ সচেতন নাগরিক ফোরাম’ এর ব্যানারে আজ শুক্রবার বাদ জুমআ বৃষ্টি উপেক্ষা করে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতারাসহ দল-মত নির্বিশেষে উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়। এ ছাড়াও ‘জাগ্রত তরুণ জনকল্যাণ সংস্থা’ হাজীগঞ্জ উপজেলার শাখা নামক অপর একটি সংগঠন এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে জেলার মধ্যবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলা। এখানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’ স্থাপন হলে চাঁদপুর জেলার সকল উপজেলাসহ পাশ্বর্বতী লক্ষীপুর, নোয়াখালি ও কুমিল্লা জেলার একাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপকৃত হবে।

ভিডিও খবর দেখুন…

তাছাড়া চাঁদপুরের চরাঞ্চল নদী ভাঙ্গন এলাকা এবং এর পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা-মেঘনা নদীর অবস্থান। সেখানে কোন জনপথ নেই। তাই ভৌগলিক অবস্থান ও জনপথের কথা বিবেচনা করে হাজীগঞ্জে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়া উচিত বলে মনে করে হাজীগঞ্জবাসী। এজন্য শিক্ষামন্ত্রী ও সংর্শ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শুকুর আলম শুভ, সাবেক ছাত্রনেতা চঞ্চল সাহা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এস.এম ফয়সাল হোসাইন, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল হাসানসহ হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, সংবাদকর্মী, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানসহ পাঠদান ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণকল্পে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত বছরের (২০২০) ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
এরপর চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী মাসে ড. মো. নাছিম আখতারকে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার এবং বিশ^বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে চাঁদপুর সদর জেলার লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নে (চর বহরিয়া) নামক এলাকাটি নির্ধারণ করা হয়।

চাঁদপুরের চরাঞ্চলগুলো নদী ভাঙ্গন এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে মনে করে লক্ষ-লক্ষ মানুষ। তাই জেলার মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে হাজীগঞ্জে বিশ^বিদ্যালয়টি স্থাপনের দাবি জানান হাজীগঞ্জবাসী।
অনুসন্ধান কালে পাওয়া তথ্য থেকে আরো উল্লেখ করা যেতে পারে যে চাঁদপুরের বহরিয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এক মাত্র লাভবান হবেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: সেলিম খান।

তিনি বিভিন্ন পন্থায় বহরিয়া এলাকার মানুষ থেকে নাম মাত্র অর্থ ব্যয় করে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জোর করে জমি সংগ্রহ করে সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার চেস্টা করে যাচ্ছেন।
যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে সে স্থানে দুনীতি দমন সংস্থা দুদুক গত বছর চাঁদপুরে মো: সেলিম খান চেয়ারম্যান এর সম্পদের হিসাব জানতে এসে তদন্তকালে তাদের প্রতিবেদনে লিখেছেন,সেলিম খান জোর করে হিন্দু পরিবার ও এলাকার গরীব মানুষের জায়গা জোর করে দখল করে নিজ নামে দলিল করে নিয়ে তাদেরকে নিস্ব করে পথে বসিয়ে দিয়েছেন।

অভিজ্ঞ মহলের মতে জোর করে হিন্দু ও গরীবের জায়গা দখলকারী ব্যক্তির জায়গায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এক ব্যক্তি বিরাট অংকের অর্থ পেয়ে লাভবান হবেন। সে দিক বিবেচনায় নিয়ে ও নদী ভাঙ্গন এলাকার কথা চিন্তা করে বহরিয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাজিগঞ্জে স্থাপন করা জনস্বার্থে উচিত হবে।

Facebook Comments

Check Also

অনিদ্রার কারণ ও প্রতিকার

: হাকীম মিজানুর রহমান : অনিদ্রা একটি রোগ, এটি হয়তো সবাই জানেন না। অনিদ্রা থেকে …

Shares
vv