ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুর ড্যাফোডিল কলেজের ক্যাম্পাসের আবেদনে জাল-জালিয়তির আশ্রয়!

চাঁদপুর ড্যাফোডিল কলেজের ক্যাম্পাসের আবেদনে জাল-জালিয়তির আশ্রয়!

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বিভিন্ন জাল-জালিয়তি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে নানান অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এমন অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী। শুধু তাই নয়, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞান শাখায় ৩.৫০ ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২.৫০ মানবিক শাখায় ২.০০ প্রচার করলেও বোর্ড থেকে ১জিপিও-তে ভর্তি অনুমোদন রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দুই এর নিচে জিপিএ নিয়েও অনলাইনে আবেদন করতে পারে। অথচ প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারকরা বিজ্ঞাপনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।

এছাড়া এসএসসিতে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের ভর্তি ফি ৫০% এবং বেতন ৫০% মওকুফ। জিপিএ ৪.২৫-৪.৯৯ প্রাপ্তদের ভর্তি ফি ২০% এবং বেতন ২০% মওকুফ উল্লেখ করলেও এতেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। যেখানে বেতন ১৫শ টাকা নিচ্ছে সেখানে ৫০% হয় সাড়ে ৭শ টাকা। আর ২০% এ মুওকুফ হয় মাত্র ৩শ টাকা। অর্থাৎ ২০% মওকুফ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দিতে হয় ১২শ টাকা করে। অবশ্য এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতি নগণ্য।

বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে প্রায় একহাজার শিক্ষার্থী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। সমাজসেবামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও সুনামের আড়লে এভাবেই বাণিজ্য করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষ কিছু টাকা ছাড় দেয়া হয়। তাও সর্বোচ্চ ২হাজার টাকা। যেখানে ছাত্রপ্রতি নেয়া হয় ১০হাজার টাকা।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড- কুমিল্লা হতে ১৭এপ্রিল ২০১৬সালে দুই বছরের জন্যে পাঠদানের অনুমতি পায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। একই বছরের ৪ এপ্রিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেয়া। নির্ধারিত দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্যাম্পারে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও তারা শহরের প্রাণকেন্দ্র ১২২২/১১২৩ স্টেডিয়াম রোড (ফায়ার সার্ভিসের বিপোরীত পাশে) কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১৭এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটি অস্থায়ী স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্যে আবেদন করে। আবেদনের সাথে যেসকল নথি সংযুক্ত করার কথা তা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি আশ্রয় নিয়েছে জাল-জালিয়তির।

বিশেষ করে চাঁদপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসি ল্যান্ড) অফিসের যে প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে তা জাল-জালিয়তি করা হয়েছে। সহ-ক-ভূমি-চাঁদ-বিবিধ-১৯/ ৪৮৭ স্মারকে যে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয় তা সম্পূর্ণ জাল। যা সরাসরি সরকারের পরিপত্র জাল-জালিয়তির অপরাধের মধ্যে পড়ে।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৮নং দাসাদী মৌজায় এসএ -৩০৯নং খারিজী ৬৫৯, হাল খারিজী ১৭৩১নং খতিয়ানে, এসএ ৭০৯নং দাগে ৭৫শতাংশ (অখন্ড) ভূমির মালিক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর (ডিআইসি) ওয়ার্ড নং-১৪ বাবুরহাট মডেল টাউন, বাবুরহাট ৩৬০২ চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। উক্ত ১৪২২-১৪২৫ বাংলা সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা আছে। বর্তমানে ভূমিটিতে ৭৫ শতাংশের মধ্যে ১৪শতাংশের উপর ছয়(০৬) তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এবং অবশিষ্ট অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ প্রত্যয়পত্রটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের দায়িত্বরত অধ্যক্ষ মোঃ জামশেদুর রহমান সত্যায়িত করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন। অথচ চলতি বছর উল্লেখিত স্মারকে কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়নি চাঁদপুর সদর এসি ল্যান্ড অফিস।

সরেজমিনে বাবুরহাট মডেল টাউনে গিয়ে দেখা যায়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ এর ভবন নির্মাণাধীন। অথচ তারা তাদের ডিজিটাল নকশা কে নির্মাণ সম্পন্ন ভবন বলে জমা দিয়েছে। এমনকি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে সেখানে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খেলার মাঠ ব্যবহার করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।

এধরণের কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়ার নিয়ম নেই বলেও জানান বর্তমানে দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) ভূমি ইমরান হোসাইন সজিব। তিনি বলেন, চলতি বছরের ৪৮৭স্মারকে এমন কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়নি। তা ছাড়া প্রত্যয়নপত্রে যে সহকারি কমিশানারের সিল সাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তিনিও বর্তমানে দায়িত্বে নেই। আল আমিন নামে যে এসি ল্যান্ড দায়িত্বে ছিলেন তিনি মূলত ১৭নভেম্বর ২০১৩ থেকে ২৭অক্টোবর ২০১৪সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। তাছাড়া তিনি বর্তমানে পদন্নতি পেয়ে অন্য জেলার দায়িত্বে আছেন। মূলত এ প্রত্যয়নপত্র সম্পূর্ণ ভূয়া।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যায়নরত কয়েকজ শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শুনেছি এটি নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার মান অনেক ভালো। তাই টাকা বেশি নিলেও খুব বেশি আপত্তি করা হয় না। আর আপত্তি করলেও লাভ নেই। ভর্তি যখন করিয়েই ফেলেছি দুই বছর (এইচএসসি) কোনো মতে পার করতে পারলেই হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভর্তির আগে যে ধরণের সুবিধা বলে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় তার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। মূলত তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয় বাণিজ্য। না হয় ভর্তির সময় কিভাবে ১০হাজার টাকা নিতে পারে?
এ বিষয়য়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জামশেদুর রহমান জানান, আমরা অনেক শিক্ষার্থী নাম মাত্র বেতনে পড়াই। যারা এসএসসিতে ভালো ফলাফল করেছে তাদের অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। তবে কয়েকদিন পর জাল জালিয়তি বিষয়ে কথা বলার জন্যে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হলেও আর স্বাক্ষাত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শওকত ওসমান (শিক্ষা ও আইসিটি) জানান, যদি বিষয়গুলো সত্য হয় তবে অবশ্যই তারা প্রতারণা করেছে। আর ফেইক ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করলে তা অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া আমরা যেহেতু বিষয়টি অবগত হয়েছি সেহেতু অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে মাদক সম্রাট জসীমের তাণ্ডব, মৎস্য ব্যবসায়ীর মাছ ছিনতাই

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে মাদক সম্রাট জসিম জেল গেটে বেরিয়ে এসে আবারও তাণ্ডব শুরু করেছে। সদর …

vv