ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বাংলাদেশ / রাজনীতি / চাঁদপুর ছাত্রলীগে স্থবিরতা: জেলা কমিটিকে দায়ী করছে তৃণমূল

চাঁদপুর ছাত্রলীগে স্থবিরতা: জেলা কমিটিকে দায়ী করছে তৃণমূল

চাঁদপুরের তৃণমূল পর্যায়ে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম। অর্ধযুগ বা এক যুগের অধিক সময় ধরে কাজ চলছে একই কমিটি দিয়ে। নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। এজন্য বর্তমান জেলা কমিটিকে দায়ী করছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আর জেলা কমিটির নেতারা দায়ী করছেন জেলার এমপিদের।

জেলার প্রায় সকল ইউনিটেরই কমিটি গঠিত হয়েছিল সাত থেকে আট বছর বা তারও পূর্বে। বহুপ্রতীক্ষার পর চলতি বছরের ২৯ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের ৮ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এরপর তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা দিলেও, নতুন কমিটির ভূমিকায় হতাশ হন তারা। দীর্ঘ ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও জেলা শাখারও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।

এই ৫ মাসে নবগঠিত আংশিক কমিটি ও ইউনিটগুলির নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে অধিকাংশ ইউনিটই এখন চলছে অছাত্র নেতৃত্ব দিয়ে। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে এ পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে কোনো সভা বা যোগাযোগ হয়নি বলে জানান কর্মীরা।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর সরকারি কলেজ শাখা। এ শাখার সভাপতি আবু সিদ্দিক ছাত্রত্ব হারিয়েছেন অনেক আগেই। আর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পারভেজ নতুন ঘোষিত জেলা কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। ফলে কলেজ কমিটি এখন নেতৃত্বশুন্য।

আবার অনেক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগেই পেরিয়ে গেছে আংশিক কমিটির মেয়াদ। আবার কোথাও কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও তার নেতারা হারিয়েছেন ছাত্রত্ব। চাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগ শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালে। কিন্তু তিন বছরেও কমিটি পূর্নাঙ্গ করা হয়নি। সদর উপজেলা ছাত্রলীগ শাখার কমিটি ঘোষণা হয় ২০১২ সালে। আর পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। কমিটির সভাপতি আবুল বরাকাত মোহাম্মদ রেজওয়ান দায়িত্ব পাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই বিয়ে করেন। তারপরও তিনি বহাল আছেন সভাপতি পদে। এই ইউনিটের ১৪টি ইউনিয়ন ও সরকারি বেসরকারি প্রায় ১০টি কলেজ আছে। এর কয়েকটি শাখার কমিটি দেয়া হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় বছর পূর্বে।

হাইমচর উপজেলা শাখার সভাপতি সুমন সর্দার বর্তমানে জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ২ সন্তানের জনক। ২০০৬ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হয়। এর পর থেকে আর কোনো কমিটি হয়নি।

উত্তর মতলব ও দক্ষিণ মতলব উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে অনেক বছর। এ কমিটির ২ জন জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কচুয়া উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন কমিটিই নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাসেল নামে একজনের মাধ্যমই চলছে কাজ।

শাহরাস্তি উপজেলায় কয়েকবার কমিটি দেওয়ার পর কেন্দ্র থেকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বর্তমানে এ উপজেলায়ও কোন কমিটি নেই।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ করিম বাবু যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বা ইউনিটগুলোর কমিটি গঠন করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের সিভি নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকেও আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী ২ মাসের মধ্যে সকল ইউনিটে কমিটি দেওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, সমস্য হলো আমাদের এমপিদের নিয়ে। তারা চাচ্ছেন তাদের মতো করে কমিটি করতে। কিন্তু তারা কাকে কোথায় চাচ্ছেন তাও আমাদের জানার সুযোগ হয়নি। আমরা নতুন কমিটি দায়িত্বে আসার পর থেকে চেষ্টা করছি এমপিদের সঙ্গে বসার জন্য। কিন্তু তারা অধিকাংশ সময়ই থাকেন বিদেশে। তারা এলাকাতে আসেনই না। তাই আমরা এখন ঠিক করেছি ঈদের আগে ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনে ২/৪ দিন অবস্থান করে এমপিদের সঙ্গে কথা বলে আসব। ঈদের আগেই শাহরাস্তি এবং কচূয়ার কমিটি দেওয়ার জন্য আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। বাকি কমিটিগুলোও ধারাবাহিকভাবে হয়ে যাবে।

সূত্র: যমুনা নিউজ:

লিংক: http://jamunanews24.com/jbn/index.php/show/news/16398

Facebook Comments

Check Also

মতলব উত্তর উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ জহিরুল …

vv