Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুর চান্দ্রায় মাদকের রমরমা বাণিজ্য, ডিলার ও হকারদের থেকে টাকা উত্তোলন

চাঁদপুর চান্দ্রায় মাদকের রমরমা বাণিজ্য, ডিলার ও হকারদের থেকে টাকা উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে মরণব্যাধি ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সহ অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্যে আসক্ত হয়ে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কক্সবাজার-টেকনাফ ও কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে খুব সহজে চাঁদপুর জেলায় বিভিন্ন মাদক দ্রব্য প্রবেশ করায় দিনদিন মাদকাসক্ত হচ্ছে যুবকরা।

চাঁদপুর জেলা থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এই মাদক পাচার করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নে মাদক বিক্রির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন এই এলাকার মাদকের ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির জন্য হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে চান্দ্রা ইউনিয়ন সহ অন্যান্য উপজেলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তারপরেও মাদকের ডিলাররা ছত্রছায়ায় থেকে রূপ পরিবর্তন করে তাদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চান্দ্রা ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় মাদক সম্রাট কালাচান গাজী ও চান্দ্রা বাজার এলাকার কবির মাদক সম্রাজ্ঞী নার্গিসের ভাই সোহেল, শামীম, লেংটা বাবলুর মাদক ইয়াবা,গাঁজা বেশ কয়েকজন হকার ভাসমান ভাবে বিক্রী করে আসছে। আর এ সকল হকার ও ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিদিন চান্দ্রা বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মিন্টু জমাদার ও তার ছেলেরা টাকা উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চান্দ্রা বাজার ও সড়কের পাশে হকাররা দাঁড়িয়ে থেকে বহিরাগত যুবকদের কাছে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রী করে আসছে। বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মিন্টু জমাদার লোকজন পাহারায় রেখে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মাদক বিক্রির সহযোগিতা করছে।
প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি চান্দ্রা বাখরপুরে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জামালকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইয়াবাসহ আটক করার পর চান্দ্রা ইউনিয়ন এর মাদকের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নাম একে একে প্রকাশ পেতে থাকে। জামাল গ্রেফতার হওয়ার একদিন পূর্বে চান্দ্রা চৌরাস্তার মাদক ব্যবসায়ী কালাচান গাজীর কাছে ৫ কেজি গাঁজা বিক্রি করেছে বলে সে জানিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী কালাচান গাজী তাদের লোকজন এর মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি ভাবে ইয়াবা,গাঁজা বিক্রী করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন।

এছাড়া হানারচর ইউনিয়নের মুখোশধারী মাদকসম্রাট বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হরিনা ফেরিঘাট এলাকার সেন্টু ও আলামিন এর মাধ্যমে ইয়াবার বড় চালান যাত্রীবাহী বাসের মাধ্যমে অন্যান্য জেলায় প্রচার করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কিছুদিন পূর্বে এই মাদক সম্রাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে সেন্টু সহ ৪ জনকে ইয়াবা নিয়ে গভীর রাতে জব্বর ডালীর দোকান এলাকা থেকে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে দু’জনকে থানায় এনে উৎকোচের বিনিময়ে ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করলে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে মাদকের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।এই ২ ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে।

এসকল মাদকের ডিলার ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের পর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ও হানারচর ইউনিয়ন থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এই দুই ইউনিয়নের অন্যান্য মাদক সম্রাটের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

Facebook Comments

Check Also

সড়কে একসঙ্গে একই পরিবারের ছয়জন লাশ, কান্নার রোল

মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একই পরিবারের নিহত ছয়জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার (৪ …

Shares
vv