ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে ২৩ কোটি টাকার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি
চাঁদপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০১৯ অর্থ বছরের প্রথম কিস্তির চলমান কাজের একটি চিত্র।

চাঁদপুরে ২৩ কোটি টাকার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি

সজীব খান : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০১৯ অর্থ বছরের প্রথম কিস্তির কাজ চলছে। ৩১ ডিসেম্বর কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও একমাস কাজের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৪০ দিনের কাজের প্রথম কিস্তির কাজ সমাপ্ত করতে হবে।

এ বছর চাঁদপুর জেলায় জন্য ২৩ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬শত ৫৯ টাকার বরাদ্ধা দেওয়া হয়েছে। জেলার ৮ উপজেলার জন্য এ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের চিঠিতে এ প্রকল্পের টাকা উল্লেখ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের এ বরাদ্ধের বিপরীতে এ প্রকল্পের জন্য শ্রমীক নির্ধারন করা হয়েছে ২৭ হাজার ১শত ৬৭ জন।

বরাদ্ধের মধ্যে শ্রম মজুরী ২১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার, ননওয়েজ কষ্ট ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬শত ৫৯ হাজার, সরদার মজুরী ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, মোট ২৩ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬শত ৫৯ টাকা চাঁদপুর জেলার জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

দেশের গ্রামীন জনপদের উন্নয়ন ও অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রথম প্রর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু শর্ত সাপেক্ষে এ প্রকল্পের জন্য এ অর্থ বরাদ্ধ দেন।

নিয়মানুযায়ী শ্রমীক ও গনফুট মিটার মাটি কেটে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ রয়েছে। কর্মসূচির সমাপ্তির ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পের খরচ, হিসাব, ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রেরন করতে হবে। এবং অব্যয়িত টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয় ঠিঠিতে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনারয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্ম সংস্থানের জন্য শ্রম মজুরি, নন ওয়েজ কষ্ট এবং সরদার মজুরি নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্প সঠিক ভাবে করার নির্দেশনা রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫শত ৩২ জন, তাদের জন্য শ্রম মজুরি ২ কোটি ৮২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, নন ওয়েজ কষ্ট ১৫ লাখ ১ হাজার ৪শত ৪৯ টাকা, সরদার মজুরি ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা, সর্ব মোট টাকা ৩ কোটি ৮ লাখ ১ হাজার ৪৯ টাকা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ৪ হাজার ৪শত ৮২ জন, শ্রম মজুরি ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার, নন ওয়েজ কষ্ট ১৯ লাখ ৩ হাজার ৪শত ৫৫ টকা, সরদার মজুরি ২ লাখ ৭০ হাজার, সর্ব মোট টাকা ৩ কোটি ৮০ লাখ ২৯ হাজার ৪শত ৫৫ টাকা।

হাইমচর উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৭শত ৮৭, শ্রম মজুরি ১ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার, নন ওয়েজ কষ্ট ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭শত ৬৭ টাকা, সরদার মজুরি ১ লাখ ৮ হাজার, সর্ব মোট টাকা ১ কোটি ৫১ লাখ ৬২ হাজার ৭শত ৬৭ টাকা।

হাজীগঞ্জ উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ৩ হাজার ৮শত ৮ জন, শ্রম মজুরি ৩ কোটি ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, নন ওয়েজ কষ্ট ১৬ লাখ ১৭ হাজার ১শত ৩৪ টাকা, সরদার মজুরি ২ লাখ ১৬ হাজার, সর্ব মোট টাকা ৩ কোটি ২২ লাখ ৯৭ হাজার ১শত ৩৪ টাকা।

কচুয়া উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ৫ হাজার ৩শত ১৮ জন, শ্রম মজুরি ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, নন ওয়েজ কষ্ট ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৪শত ৬৯ টাকা , সরদার মজুরি ২ লাখ ১৬ হাজার, সর্ব মোট টাকা ৪ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪শত ৬৯টাকা।

মতলব দক্ষিন উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ১শত ৫৩, শ্রম মজুরি ১ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার, নন ওয়েজ কষ্ট ৯ লাখ ১৪ হাজার ৫শত ৫২ টাকা, সরদার মজুরি ১ লাখ ৮ হাজার, সর্ব মোট টাকা ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৬ হাজার ৫শত ৫২ টাকা।

মতলব উত্তর উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ৩ হাজার ৩শত ৮ জন৯, শ্রম মজুরি ২ কোটি ৭১ লাখ ১২ হাজার টাকা, নন ওয়েজ কষ্ট ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪শত ৬২ টাকা, সরদার মজুরি ২ লাখ ৫২ হাজার, সর্ব মোট টাকা ২ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৪শত ৬২ টাকা।

শাহরাস্তি উপজেলার উপকারভোগী শ্রমীক সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৬শত ৯৮ জন, শ্রম মজুরি ২ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার, নন ওয়েজ কষ্ট ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬শত ৬৮ টাকা, সরদার মজুরি ১ লাখ ৮০ হাজার, সর্ব মোট টাকা ২ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার ৬শত ৬৮ টাকা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম মিজি ও ইউপি সচিব মুনসুর আহম্মেদ বলেন বালিয়ার প্রতিটি প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে, কোন প্রকার অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই, কারন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সব সময় কাজের তদারকি করছে। আমাদের পরিষদ থেকে ও কঠিন ভাবে বলা আছে। কোন প্রকল্পে যাতে কোন প্রকার অনিয়মের অভিযোগ না আসে। সে দিকে পরিষদ কঠোর ভাবে নজরধারীতে রেখেছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মস্থংস্থান চাঁদপুরে সঠিক নিয়মে হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত শ্রমীক ও ঘনফুট মাটি কাটা ইতিধ্যে অব্যাহত রয়েছে। যেখানে অনিয়মের অভিযোগ আসছে, সেখানেই সাথে সাথে যাওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। সরকারের এ প্রকল্প যাতে সঠিক ভাবে কাজে লাগে সেজন্য সব সময় প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে। অনিয়ম হওয়ার কোন প্রকার সুযোগ নেই।

জেলা ত্রান ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা কেবিএম জাকির হোসেন বলেন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের কর্মসূচির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে শেষ করার জন্য ১ মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের প্রকল্পের অর্থ কর্তন হবে। সে টাকা সরকারি কোষাঘারে জমা পড়ে যাবে। প্রকল্পে কোথায় কোন অনিয়মের অভিযোগ আসলে স্ব স্ব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা পিআইওকে জানালে তারা ব্যবস্থা নিবে।

Facebook Comments

Check Also

অনিয়মের মধ্যেই পড়ে আছে রামপুরের সেই আলোচিত ৫শ’ বছরের মসজিদ!

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করে …

vv