ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে ২’শ ১০ টাকায় ঠেকেছে পিয়াজের কেজি: বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

চাঁদপুরে ২’শ ১০ টাকায় ঠেকেছে পিয়াজের কেজি: বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

মাসুদ হোসেন : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও পিয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পিয়াজের দাম কেজি প্রতি ২’শ ১০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। তবে পিয়াজের দাম রয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ক্রমাগত দাম বৃদ্ধিতে তা ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
এতে করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তারা। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো। চাঁদপুরের বিভিন্ন বাজার ও মুদি দোকানগুলোতে প্রতিকেজি দেশি পিয়াজ ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলে সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কোথাও কোথাও তা ২০০ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) চাঁদপুরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি জাতের পিয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। আবার কেউ কেউ পিয়াজের দাম চাওয়া হচ্ছিল প্রতিকেজি ২০০-২১০ টাকা। একইদিন মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী মাষ্টার বাজারেও একই চিত্রের দেখা মিলেছে। এছাড়াও চাঁদপুর জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারগুলোতেও এর কমতি নেই। এদিকে পিয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হোটেল রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খাবারের মান নিম্ন হয়ে যাচ্ছে। তার কারন হচ্ছে ব্যবসায়ীরা বেশী দামে পিয়াজ কিনে খাবারের সাথে দিয়ে তারা পোষাতে পারছে না। তাই অল্প কিছু পিয়াজ অথবা পিয়াজ বিহীন পণ্য তৈরি করে নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করছেন।
স্বল্প আয়ের ক্রেতারা বলেন, পিয়াজের যে দাম তাতে আমাদের না খেয়েই থাকতে হচ্ছে। আমাদের যে আয় তা দিয়ে পিয়াজ কিনে খাওয়া কোনো মতেই সম্ভব নয়। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে স্বল্পহারে পিয়াজ কিনে নিচ্ছেন তারা। তবে কি কারনে পিয়াজের দাম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বাজার মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান ক্রেতারা।
তাছাড়া বাজারে এখন সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও পিয়াজের দাম আকাশচুম্বী। এদিকে, পিয়াজের দাম বাড়ার সাথে সাথে পিয়াজের বিক্রিও কমেছে। মহামায়া বাজারের বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ার কারণে পিয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। আগে দিনে যা বিক্রি করতাম এখন এর চার ভাগের এক ভাগও পিয়াজ বিক্রি হয় না। বাজারের তাফাজ্জল ষ্টোর ও পাটওয়ারী ষ্টোরে পিয়াজের দাম চেয়েছে ২১০ টাকা।
দাম বৃদ্ধি নিয়ে মহামায়া পশ্চিম বাজারের সালাহউদ্দিন ষ্টোরের পাইকারি বিক্রেতা জানান, ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধ। সত্যিকার অর্থেই বাজারে পিয়াজের প্রচুর সংকট রয়েছে। তবে আগামি মাসে দেশি পিয়াজ বাজারে আসলে এর দাম কিছুটা কমার আসংখ্যা রয়েছে।
কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আমদানি করা পিয়াজ সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। আর সেই কারণেই এখন বাজারের এই পরিস্থিতি। জানা গেছে, সর্বশেষ পিয়াজের দাম বেড়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে ঘিরে। গত শনিবার বুলবুল আঘাত হানার একদিন আগে থেকে নতুন করে বাড়তে থাকে দাম। তার আগে খুচরা বাজারে পিয়াজের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে কৃষক দিনমজুরের ভয় করোনা নয়, ‘সংসার চলবে কি করে’!

এস. এম ইকবাল : গোটা পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। চারিদিকে ভাইরাস নিয়ে চিন্তার …

vv