ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে হারিয়ে যাওয়া শিশু তাহামিম অপহরনকারীদের হাত থেকে রক্ষা !

চাঁদপুরে হারিয়ে যাওয়া শিশু তাহামিম অপহরনকারীদের হাত থেকে রক্ষা !

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরে একটি মাদ্রাসার নজরানার শিক্ষার্থী হারিয়ে যাওয়ার ১৬ ঘন্টা পর অপহরনকারী চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পুলিশের উদারতায় গভীর রাতেই পিতা-মাতার কোলে ফিরে গেল শিশু তাহামিম পাটওয়ারী।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী জামিয়া মোহাম্মদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আরবী নজরানা বিভাগের দশ বছরের শিশু শিক্ষার্থী বাই সাইকেল চালিয়ে চাঁদপুর শহরে এসে পথ ভুলে হারিয়ে যায়। পরে তাকে অপহরন চক্র নিয়ে যাওয়ার জন্য চেস্টা চালালেও শিশুটির বুদ্বিমত্তায় অপহরন চক্র ব্যর্থ হয়।

পরে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নেতা নূরুল ইসলাম রাজিবের নজরে পড়ায়,তার হস্তক্ষেপে, সহায়তায় ও চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নিদের্শে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: নূরুল আমিনের উদারতায় হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীকে গতকাল বুধবার(১৩ অক্টোবর) গভীর রাতেই তার পিতা-মাতার কোলে ফিরিয়ে দিয়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চাঁদপুর জেলা পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের মূখ উজ্জল করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে,গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোর্টস্টেশন এলাকার চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে। ছাত্র নেতা রাজিব শিশুকে দেখে তাৎক্ষনিক তার হোটেলে শিশু শিক্ষার্থী তাহামিমকে বসিয়ে রেখে অভিভাবকের সন্ধান খুজছিল। এ কিছুক্ষনের মধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে মডেল থানার পুলিশ জানতে পেরে পদক্ষেপ গ্রহন করে।

এ ঘটনায় আমাদের সমাজ সচেতন সূধী মহল শুনে বলেছেন,আমাদের চাঁদপুরের পুলিশ যে কাজ করেছে,তা’সত্যিকার অর্থে প্রশংসার দাবীদার হলো চাঁদপুর জেলা পুলিশ। তারা এ মহৎ কাজটি করে একটি পরিবারের পিতা-মাতাকে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের হৃদয়ে সন্তানকে হারানোর যন্ত্রনা থেকে রক্ষা করেছেন বলে ঐ হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর বাবা ও মা’ তাদের অনুভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে এ কথা বলেন।

হারিয়ে হাওয়া শিশু শিক্ষার্থীর সাথে শহরের চাঁদপুর হোটেলে কথা বলে ও পুলিশের কর্মকর্তা মো: নূরুল আমিনের দেওয়া তর্থ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে,চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের বাগাদী জামিয়া মোহাম্মদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার নজরানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছোবানপুর গ্রামের মুনছুর আলী পাটওয়ারী বাড়ির মো: নাছির পাটওয়ারীর এক মাত্র ছেলে মো: তাহামিম পাটওয়ারী ।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে প্রতিদিনের মত মাদ্রাসার উদ্দের্শে বাহির হয়। পথি মধ্যে তার এলাকার ছেলেদের সাথে দেখা হলে তাদের পরামর্শে মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে বাই সাইকের যোগে সাইকেল চালিয়ে চাঁদপুর শহরে চলে আসে।

চাঁদপুর এসে শহরের পর্যটন কেন্দ্র বড় স্টেশন মোলহেডে,রেলওয়ে স্টেশন,চাঁদপুর ক্লাব,চাঁদপুর প্রেস ক্লাব, ৫নং নদীর পাড়,লঞ্চ ঘাট,ডিসি অফিস এলাকা, বাসস্টেশন,নতুন বাজার ও কোর্টস্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দিন ভর ঘুরে ঘুরে সময় ্অতিবাহিত করে। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলে সাথে থাকা অন্যদের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়ে পথ ভুলে যায়।

পরে তাকে অপহরন চক্রের একটি সি এনজি চালিত স্কুটারের চালক চক্ররা তাকে বাড়ি পৌছে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ভাবে তার সাথে চক্রান্ত করতে থাকে।

এতে করে শিশুটির বুদ্বিমত্তায় ও তার সাথে থাকা বাই সাইকেল থাকায় তাকে প্রতারক চক্র জোর করে তাদের চক্রান্তে ফেলতে পারেনি। এ সুযোগে শিশু তাহামিমের খিদে লাগলে সে কোর্টস্টেশন এলাকার চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে বাই সাইকেল নিয়ে দাড়িয়ে কাঁদতে থাকে।

এ সময় চাঁদপুর হোটেলের মালিকের ছোট ছেলে মো: নুরুল ইসলাম রাজিব তাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হলে শিশু শিক্ষার্থীকে হোটেলে বসিয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত যেনে তাকে চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ভিতরে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে রাখে। এর মধ্যে তার অভিভাবকের সন্ধ্যান করার চেস্টা চালায়। পরোক্ষনে রাত সোয়া ১২টা দিকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শওকতআলী চাঁদপুর হোটেলে প্রবশ করে শিশু শিক্ষার্থীর সাথে আলাপচারিতায় জানতে পারে শিশুটি পথ হারিয়ে ফেলেছে,যার জন্য সে মাদ্রাসা বা বাড়িতে যেতে পারছেনা।

তাৎক্ষনিক তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদকে বিষয়টি অবগত করেন। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: নূরুল আমিন ও সর্ঙ্গীয় ফোর্স পাঠান। তারা চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে এসে শিশু শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে তাকে উদ্বার করে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে যান।

পরে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বিষয়টি অবগত হয়ে,তার নির্দেশে মোতাবেক চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: নূরুল আমিন ও সর্ঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ শিশু শিক্ষার্থীর বাড়ির ঠিকানা বেড় করে,সদর উপজেলার বাগাদী এলাকার ছোবানপুর মুনছুর আলী পাটওয়ারী বাড়িতে বুধবার রাত ১টা ২৩ মিনিটে গিয়ে শিশুকে তার পিতা-মাতার কাছে তাদের হাতে তুলে দেন। এ সময় তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে পিতা-মাতা তাৎক্ষনিক আবেগ আপ্লুত হয়ে দু:খের মধ্যে আনন্দের হাসি দিয়ে শিশুকে জড়িয়ে ধরে, আদর করতে থাকেন এবং পুলিশকে মনভরে দোয়া করেন।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় মাদক ব্যবসায়ী তুষার ৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার

মো: রাছেল : চাঁদপুরের কচুয়া থানার পুলিশ ০৯ কেজি গাঁজাসহ তুষার (২৩) নামের এক মাদক …

Shares
vv