ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে ‘হয়রানি আর নাজেহাল, আহারে, সরকারি হাসপাতাল′

চাঁদপুরে ‘হয়রানি আর নাজেহাল, আহারে, সরকারি হাসপাতাল′

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এ সমস্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের মাধ্যমে রুগী পাঠানো ও ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের নির্দেশনা মোতাবেক ঔষধ লিখে মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নেয়াই যেন সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের মূল পেশাগত দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে।
এতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুগীরা হচ্ছে সেবা বির্তক। সাধারণ রুগীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
সরেজমিনে হাসপাতাল গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সন্নিকটেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারী ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এসব হাসপাতালের দালালরা সরকারি হাসপাতালের ভিতরে, মূল ফটকে, বিভিন্ন ডাক্তাদের চেম্বারের দরজায় ও রুমের ভিতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। চিকিৎসা নিতে রোগী আসতে দেখলেই তাদের বিভিন্ন প্রলোভনে রোগীদের কান ভারি করে ফেলায় রুগীরা কোথায় চিকিৎসা নিবে তার সঠিক স্বিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। এই সুযোগটি গ্রহণ করে প্রাইভেট হাসপাতালের দালালরা। রুগী ভাগিয়ে নেয়া দালাল কর্তৃক রোগীদের টানাটানির দৃশ্যও মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে।
বিভিন্ন বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিজস্ব সীলের মাধ্যমে ডাক্তাররা তাদের স্বাক্ষরযুক্ত টেষ্টের জন্য সেখানে পাঠান।  চিকিৎসা পত্র নিয়ে রুগীরা ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গেলে তার কমিশন জমা হয় ডাক্তারদের নামে। সরকারি হাসপাতালে কোন রোগের পরীক্ষা করাতে যা খরচ হয় তার চেয়ে তিনগুন বেশি খরচ হয় ওইসব ডায়াগনষ্টিক গুলোতে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে কিছু সংখ্যক স্টাফও এ কাজে জড়িত। তারা এ কাজের জন্য প্রতিনিয়ত মোটা অংকের কমিশন পেয়ে থাকে। ডাক্তার দেখানোর পর রোগীরা বের হলে ডাক্তারের চেম্বারের দরজার সামনে থেকে শুরু করে হাসপাতালের মুল ফটকের সামনে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি। তারা রোগীদের হাতে থাকা ব্যবস্থা পত্রের ছবি তাদের মুঠোফোনে তুলতে থাকে। ফলে রোগীরা নিত্য ভোগান্তিতে পরে।
প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের মধ্যে আজাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খুরশিদা, মিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রতন, তাকওয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মহসীন পাটোয়ারী, গ্রীন ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মিনতি ও ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অরুণীসহ আশপাশের সকল ডায়াগনস্টিকের দালালরা হাসপাতাল চত্বরে রুগী ভাগিয়ে নিতে সব সময় অবস্থান করেন। এতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকেবঞ্চিত হয়।
চাঁদপুর সরকারী হাসপাতালের প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র এটি। গতকাল কয়েকজন ডাক্তারদের চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় তারা রোগীদের লাইনে রেখে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক, হাসপাতালের দালাল ও ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে গল্পে মেতে রয়েছেন। অথচ কক্ষের দরজার বাইরে অপেক্ষমান রোগীরা চিকিৎসা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অহেতুক কষ্ট করছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে রোগীরা তাদের কষ্টের কথা জানান।
এছাড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা, হাসপাতালের অপরিছন্ন পরিবেশ, দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট, নিন্ম মানের খাবার পরিবেশন, সঠিক সময়ে খাবার না দেয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ রুগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের রোগীরা জানান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের কিছু দালাল প্রতিনিয়তই হাসপাতালের  ইমারজেন্সি রুমসহ হাসপাতাল চত্তরে ঘুরে বেড়ায়। চাঁদপুর জেলার আশপাশের এলাকা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নিম্ম আয়ের অসহায় রোগীদের স্বল্প ব্যয়ে ভাল সেবা দেয়ার কথা বলে তাদের কর্মরত হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের আচরণ সন্দেহ জনক হওয়ায় প্রতিবাদ করলে দালালরা রুগীদের সাথে অসদাচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। অনেক সময় স্বল্প আয়ের এ সব রোগীরা দালালদের প্ররোচনায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভিটা-বাড়ি বিক্রয় করে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে পথে বসে যায়।
বিষয়টি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য হাসপাতাল সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান ভুক্তভোগী রোগীরা।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষের কাছ থেকে ডাক্তার ও ব্রাদাররা কৌশলে রোগী সরবরাহের নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি যেন বৈধ। অনেক মসয় প্রকাশ্যেই এ কাজটি করতে দেখা যায় ডাক্তার ও ব্রাদারদের।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন সরকারি হাসপাতালে দূর দূরান্ত থেকে রোগীরা তাদের প্রাপ্য সেবা নিতে আসেন। রোগীরা তাদের পরীক্ষা- নিরীক্ষাগুলো হাসপাতালের বাহিরে করালে অবশ্যই তাদের পছন্দমতো ডায়াগনস্টিকেই করাবে। কোন দালাল যদি রোগীদের সাথে এই ধরনের প্রতারণা করেন তাহলে হাসপাতালের নিচে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রে অবগত করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা চাই দালালমুক্ত হাসপাতাল।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক  আনোয়ার হোসেন জানান, আগত রোগীদের সহায়তা, অতিরিক্ত রােগীর জটলা, দালালমুক্ত ও হাসপাতালের রােগীদের নিরাপত্তা জোড়দার করতেই পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম বার স্যারের নির্দেশে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।এখানে রােগীরা হয়রানি, ছিনতাইসহ যেকোন সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিক অবহিত করে সেবা নিতে পারবেন।
জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা রেখে এই পুলিশ বক্সে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টাই পুলিশ মােতায়েন থাকবে। এদিকে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন রােগী ও রােগীর স্বজনরা।
সুযােগ সন্ধ্যানী দালালরা যাতে নতুন কোন কৌশলে তাদের দালালি চালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যপারেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগীরা।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কর্মচারী সমিতির হাত ধোয়া অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোটার : মরণঘাতী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে চাঁদপুর জেলা …

vv