ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে সোনালী ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক

চাঁদপুরে সোনালী ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক

মাসুদ হোসেন : কৃষক-কৃষানীর কর্মব্যস্ততায় এখন মাঠে মাঠে বইছে বাংলার চিরায়িত দৃশ্য। চাঁদপুরে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে সোনালী ফলন দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ঝিলিক। সর্বত্রই সোনালী নতুন ধানের মৌ মৌ সুগন্ধ বইছে। ইতোমধ্যে গ্রামে গঞ্জে নতুন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

বৈশাখের দখিনা বাতাসে দোল খেতে খেতে দেশের প্রধান এ খাদ্যশস্য হাসি ফুটিয়েছে কৃষকদের মুখে। বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের ব্যস্ততা। মাঠের বাম্পার ফলন এখন গোলায় তুলতে ব্যস্ত চাঁদপুরের কৃষকরা। যদিও বাজারে কিছুটা মন্দাভাব, তারপরও কষ্টে সৃজিত ফলন আনন্দ-চিত্তেই ঘরে তুলছেন কৃষক।

জেলার আশিকাটি, শাহমাহমুদপুর, রামপুর, বাকিলা ও উপদিী দক্ষিণ ইউনিয়নের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, দিবা-রাত্রী রোধ বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষক পরিবার মাঠের মধ্যে ত্রিপালের তাবু টানিয়ে বোরো ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মাঠজুড়ে চলছে অনেকটা উৎসবের আমেজ। সেই উৎসব সোনালী স্বপ্ন বোরোধান গোলায় তুলার। কৃষকদের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষাণীদেরও। শত ব্যস্ততার পরও ফলন ভালো হওয়ায় সকল ক্লান্তি ভুলে তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে খুশির ঝিলিক।

এ চিত্র কেবল উপরোল্লিখিত এলাকাগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন ধান গোলায় তুলার এ উৎসব আয়োজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জেলার ৮টি উপজেলার প্রতিটি কৃষকের ঘরে। তবে কিছুদিন আগে বয়ে যাওয়া দু’দফা কালবৈশাখী ঝড় পরিশ্রম বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষকদের। অনেক স্থানেই ঝড়ে মাটির সাথে লেপ্টে গেছে ধান গাছ। এসব ধান কেটে বাড়ি নেওয়া কৃষকদের জন্য একটু বেশিই বিড়ম্বনার।

কথা হয় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের সাথে। তিনি প্রিয় চাঁদপুরকে জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এই রকম খরা যদি আরো কয়েকদিন থাকে তাহলে কৃষকরা ধান কেটে মাড়াইয়ের পর শুকিয়ে গোলায় তুলতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের বাকরা গ্রামের জাফর বকাউলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তপ্ত খরা এই রোদে দিয়ে কষ্ট হলেও ধান কেটে বাড়ি পৌছানোর জন্য দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টি এলে আমাদের কষ্টের সীমা বাড়িয়ে দেয় এবং ফলন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বেশী। তবে গতকালের বৃষ্টিতে কৃষকদের কিছুটা কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান জাফর বকাউল।

তবে বিভিন্নএলাকা ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফসলের মাঠে বাম্পার ফলনের পরও একদিকে বাজারের
ধানের মূল্য হ্রাস অপরদিকে শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা হতাশাও বিরাজ করছে চাঁদপুরের কৃষকদের মাঝে। তবে তাদের আশা, এখন না হোক- কিছুদিন পর হলেও বাড়বে ধানের দাম।

অধিক ফলনের মতো লাভের অঙ্কটাও প্রত্যাশা করছেন জেলার প্রতিটি কৃষকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। যাতে করে ফলনের কোন ধরনের সমস্যা না হয়।

Facebook Comments

Check Also

এনজিও কর্মীদের কিস্তির চাপে দিশেহারা চাঁদপুরের ঋণ গ্রহীতারা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : দেশে চলমান করোনা মহামারিতে নানা পেশার শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সাধারন …

vv