ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে মেঘনায় লাইটার জাহাজ থেকে ১৬০ ব্যারেল চোরাই তেল পাচার

চাঁদপুরে মেঘনায় লাইটার জাহাজ থেকে ১৬০ ব্যারেল চোরাই তেল পাচার

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবারো চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন রাতে চট্টগ্রাম থেকে আসা বিভিন্ন লাইটার জাহাজ থেকে নদীর মাঝখানে স্টিল বডি ট্রলারে চোরাই তেল চিনি,গম, ক্লিংকার সহ বিভিন্ন মাল উঠিয়ে অন্যত্রে পাচার করছে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চোরাকারবারীরা গোপনে জাহাজ থেকে চোরাই ভাবে মাল পাচার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুরে চোরাকারবারির মূল হোতা খায়ের ভূইয়া ও তার সহযোগী কাশেম দীর্ঘদিন যাবত নদী থেকে চোরাই ভাবে বিভিন্ন মাল পাচার করছে।

রোববার গভীর রাতে চোরাকারবারির হোতা খায়ের ও কাশেম মোহনপুর মেঘনা নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আসা এম টি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে ১৬০ বেরেল পানিস অয়েল (কালো তেল) স্টিল বডি ট্রলারে উঠিয়ে পাচার করার খবর পাওয়া গেছে।
সেই চোরাই মাল সোমবার সকালে দাউদকান্দি দিয়ে উঠিয়ে পরে ট্রাক যোগে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করে। একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, চোরাকারবারির মূল হোতা খায়ের ভূঁইয়া দীর্ঘদিন যাবত মেঘনা নদীতে বিভিন্ন লাইটার জাহাজ থেকে চোরাই ভাবে মাল চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করছে। কয়েক বছরে এই চোরাকারবারি হোতা খায়ের ভুঁইয়া অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

শহরের আদালত পাড়ায় ছয়তালা বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন এছাড়া শহরে নামে-বেনামে বিভিন্ন জায়গায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি মালিক হয়েছে। নদীতে চোরাকারবারির ব্যবসা করে অবৈধ টাকার পাহাড় বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে চাঁদপুর শহরের কোট স্টেশন সংলগ্ন ভূঁইয়া বিগ বাজার নামে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দিয়েছেন। সেখানে বসেই সে নদীতে তার চোরা কারবারির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

মক্কা ট্রেডার্স নামে তার চাঁদপুরে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে এ সকল একাউন্টে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করার তথ্য মিলেছে। এই চোরাকারবারির খায়ের ভূঁইয়া এমটি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে চোরাই মাল পাচার করার ঘটনায় চট্টগ্রামের মালিকপক্ষ তার নামে মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রামের খায়ের ভূইয়া দুটি মামলার আসামি হয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছে। সেই তথ্য প্রমাণ ও নদীতে চোরাকারবারি মাল পাচার করার ছবি সাংবাদিকদের কাছে রক্ষিত রয়েছে। খায়ের ভূঁইয়া প্রথম পার্টি হিসেবে লাইটার জাহাজ থেকে মাল ক্রয় করে দ্বিতীয় পার্টির কাছে বিক্রি করে। তদ্রূপ রোববার গভীর রাতে ১৬০ বেরেল পানিস অয়েল (কালো তেল)এমটি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে চুরি করে নামিয়ে সেই মাল দ্বিতীয় পার্টি কাসেমের কাছে বিক্রি করে। কাসেম সেই মাল দাউদকান্দি দিয়ে উঠিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা বিক্রি করে।

দ্বিতীয় চোরাকারবারি কাশেমের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়। সে চাঁদপুর কাঁচা কলোনি এলাকায় বসবাস করে নদীতে চোরাই মাল ক্রয় করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে। এ বিষয়ে চোরাকারবারি কাশেম জানায়, নদীতে জাহাজ থেকে যে মাল পাচার হয়েছে তা আমার নেই সেই মাল সম্পর্কে খায়ের ভূঁইয়া ভালো জানেন। তার সাথে যোগাযোগ করলে সব কিছু জানতে পারবেন। নদীতে লাইটার জাহাজ থেকে তিনি প্রথম পার্টি হিসেবে মাল ক্রয় করেন। ১৬০ বেরেল কালো তেল তিনি কার কাছে বিক্রি করেছেন তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে খায়ের ভূঁইয়া জানান, নদীতে অনেক বছর পূর্বে মাল কেটেছি। বর্তমানে আমি এর সাথে জড়িত নই। এই মাল সম্পর্কে কাশেম ভালো জানেন তার নাম্বারটি আমার কাছ থেকে নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করেন সেই এর উত্তর দিবে।

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, চাঁদপুর মেঘনা নদীতে চোরাকারবারীরা ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নৌ পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তারা নদী থেকে চোরাই ভাবে লাইটার জাহাজ থেকে মাল চুরি করে অন্যত্র পাচার করছে। কোস্টগার্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা প্রতিদিন রাতে মেঘনা নদীর হাইমচর উজানে ও মোহনপুরে চলন্ত লাইটার জাহাজে সাথে স্টিল বডির ট্রলার বেঁধে চোরাই তেল নামিয়ে পাচার করছে। রবিবার রাতে এই তেল জাহাজ থেকে নামিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে বিক্রি করে।

পানিস অয়েল (কালো তেল) দিয়ে মূলত বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ও বিভিন্ন কারখানার মেশিনে ব্যবহার করা হয়। সরকারি সম্পদ এভাবে চোরাই ভাবে এসকল চোরাকারবারিরা চুরি করে বিক্রি করে ফেলছে।তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নদী থেকে চোরাকারবারি অনেকাংশে কমবে ও দেশের সম্পদ রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দহুলীয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র …

vv