ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরে মামা ও কাজীর সহযোগীতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে; থানায় জিডির পর তদন্ত শুরু

চাঁদপুরে মামা ও কাজীর সহযোগীতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে; থানায় জিডির পর তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের পল্লীতে ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে গভীর রাতে গোপনে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বাল্যবিয়ের কাজে সহযোগিতা করেছেন, বলে শিক্ষার্থীর আপন মামা, কাজীসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্বে ও অভিযোগ উঠেছে। পেশী শক্তি ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম না মেনে শিক্ষার্থীর মামা বাদশা গাজী নিজ বাড়িতে বাল্যবিবাহ সংগঠিত করে আইন লঙ্ঘন করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ করে জানান।

নিকাহ রেজিস্টারের পক্ষে কাজীর সহযোগী ইসমাইল হোসেন সাড়ে ৪ লাখ টাকার দেনমোহরে এ বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে সত্যতা শিকার করেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি সাধারন ডায়েরী করে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছেন,বলে থানার নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি, বুধবার গভীর রাতে হলেও বাল্য বিবাহের ঘটনা জানতে পেরে চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদকে বিষয়টি অবগত করেন। তিনি তাৎক্ষনিক উপ-পরিদর্শক মো: আবুল কালামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্য বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে আসেন।

ঘটনাটি ঘটেছে,গতকাল বুধবার গভীর রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা গাজীর বাড়িতে। ৫নং ওয়ার্ড মধ্য মদনা গ্রামের কালু রাঢ়ির ছেলে জুম্মন রাঢ়ির সাথে দক্ষিণ বলিয়া গ্রামের আলমের মেয়ে চান্দ্রা ইয়াকুব আলী স্বরক উচ্চ বিদ্যালয় নবম শ্রেনীর ছাত্রী খাদিজা আক্তার (১৪) এ বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদশা গাজী জানান, ভাগ্নি খাদিজা আক্তারের বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও ভালো ছেলে পাওয়ায় বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ আসলেও তাদেরকে বুঝিয়ে শুধুমাত্র তেল খরচের টাকা দিয়ে তাদেরকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। বাবা-মা গরিব বলে ভাগ্নিকে যৌতুক ছাড়া বিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটোয়ারী জানান, মধ্য মদনা গ্রামে বাল্য বিয়ের ঘটনা জানতে পেরে পুলিশকে অবহিত করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সাথে ম্যানেজ হয়ে ফিরে চলে যায়। রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে তাহলে কী করার আছে। আমরা জন প্রতিনিধি হিসেবে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি, কিন্তু তারাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। এই বিয়ে যদি ইউনিয়ন কাজীর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মো: সাইদুর রহমান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেনকে কাজীর মুঠোফোনে ফোন করে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিকাহ রেজিস্টার কাজী মো: সাইদুর রহমান অসুস্থ্যতার কারনে তার অনুমতি নিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া মেয়েটি গরীব হওয়ায় এ কাজটি অপরাধ হলেও করতে হয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই আবু কালাম জানান, ইউনিয়নের জনৈক ব্যক্তি ফোন করে বাল্যবিয়ের ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বিয়ে কাজ পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই ওসি সাহেবের নির্দেশে তাদের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে সেখান থেকে চলে আসি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানার এসআই আবু কালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এখন তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments

Check Also

মৃত্যুর আগে সেলিম ফিরতে চান চাঁদপুরের আপনজনদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৪০ বছর আগে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সেলিম মিয়া, তখন সবেমাত্র ম্যাট্রিক …

Shares
vv