ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ইমামকে প্রধান আসামি করে মামলা
মসজিদের ইমাম ফয়সাল আহমেদ

চাঁদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ইমামকে প্রধান আসামি করে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোড রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল আহমেদ খান জোরপূর্বক মাদ্রাসা ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার ঘটনায় মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধর্ষিতা মেয়ের মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে লম্পট ইমাম ফয়সাল আহমেদ সহ তার সহযোগীদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষণের পর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চাঁদপুর প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও ভাবে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। অবশেষে চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরী হস্তক্ষেপে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ধর্ষিতা কিশোরী সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ফাজিল ডিগ্রী দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। মাদরাসার ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষক ইমামের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। অবশেষে ধর্ষণকারী ইমাম ফয়সাল আহমেদকে ধরতে তার বাড়িতে গিয়ে এলাকার যুব সমাজ ঘেরাও করেন।

ঘটনার পর থেকে ধর্ষক ইমাম ফয়সাল আহমেদ খান তার সহযোগী উত্তরা হাসা খান বাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ওসমান ও তারেকের ইন্দনে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ধর্ষিতা মাদ্রাসার ছাত্রী বাবা একজন জেলে মাছ ধরে তার জীবিকা নির্বাহ করেন।
এই অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ঘটনা জানতে পেরে চাঁদপুর সদর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি মোক্তার আহমেদ মিজি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা সহ সকল ধরনের আর্থিক সহযোগিতা তিনি করেছেন।

পুলিশ জানায়, মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় এর সাথে উপযুক্ত ইমাম ফয়সাল আহমেদ সহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।খুব দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্ষিতার মা জানান, রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল এর কাছে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় মেয়ে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের জন্য মসজিদে যায়। এ সময় লম্পট ফয়সাল মসজিদ এর অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দেওয়ার পর মসজিদের সাথে তার রুম পরিষ্কার করার জন্য বলে।

এ সময় ইমাম ফয়সাল সুযোগ বুঝে তার রুমে ঢুকে দরজা আটকে জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে।

মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও তার নগ্ন ছবি মানুষকে দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে প্রতিদিন তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করতো।
মেয়ে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বুঝতে পেরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশেষে সে লম্পট ইমাম ফয়সাল আহমেদ জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ফয়সাল মেয়েকে বিয়ে করার আশ্বস্ত করলেও তার সহযোগী উত্তর হাসা জামে মসজিদের ইমাম ওসমান ও বাখরপুর ১নং ওয়ার্ডের তারেক তাকে কু বুদ্ধি দিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে রাখে।

একটি সূত্র জানায়, ধর্ষণকারী ফয়সাল আহমেদ খান সহ তার সহযোগী ওসমান, তারেক ও মমিন রাহাবার শিল্পগোষ্ঠী নামে একটি সংগঠন জড়িত থেকে এর আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। তারা বিভিন্ন মসজিদের ঈমামতি করার নামে জঙ্গী সংগঠনের কার্যকলাপের সাথে জড়িত রয়েছে।

এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জে স্ত্রীর মৃত্যুর পর চলে গেলেন স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার : হাজীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ দিন পর স্বামীও করোনা উপসর্গে …

vv