ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে মসজিদের ঈমামকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের কয়েকভাগে নামাজ আদায়
তালতলা বাজার জামে মসজিদে ঈমামের সাথে দ্বন্ধে মৈশাদী তালতলা রেলওয়ে স্টেশনে মুসল্লীদের নামাজ আদায়ের সময় তোলা।

চাঁদপুরে মসজিদের ঈমামকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের কয়েকভাগে নামাজ আদায়

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী তালতলা বাজার জামে মসজিদে ঈমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (৬০)কে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের কয়েক ভাগে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এতে মুসল্লিদের মারাত্মক সমস্যার কবলে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

মুসলমান ধর্মে মুসলিমদের ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ, তাই ধর্মবিরু সবাই বেশি নেকী পাওয়ার আশায় মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করে। কিন্তু তালতলা বাজার মসজিদের বর্তমানে ঈমামের কারনে মুসল্লিদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। নামাজ আদায় নিয়ে ঈমামের কারনে আযানের পর মসজিদে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মুসল্লিদের থাকতে হচ্ছে। প্রায় ১ মাস হতে যাচ্ছে তালতলা মসজিদে নামাজ আদায় নিয়ে এ সমস্যা হচ্ছে। ঈমামের কারনে তালতলা মসজিদের মুসল্লিগন বেশ কিছুদিন তালতলা রেলওয়ে স্টেশনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছে।

সম্প্রতি সময়ে প্রচন্ড তাপদাহের মধ্য দিয়ে ও ফ্যান ছাড়া গরমের ভিতরে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। ইসলাম যেখানে শান্তির কথা বলেছে, সেখানে ঈমামকান্ডে তালতলা বাজার জামে মসজিদের মুসল্লিগন ঈমামের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে রয়েছে। মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ও নানাহ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন ঈমাম আর শত শত মুসল্লি। সভাপতির ভূমিকা কোন দিকে থাকা প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠেছে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ছাড়া কমিটির অন্যারা ও ঈমামকে নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছে। নানাহ ওজুহাত দিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে এখন পর্যন্ত মুসল্লীদের দ্বিধাদ্বন্ধে রেখে বহাল তবিয়তে ঈমাম নিজে ঈমামতি করে যাচ্ছে। যেখানে কয়েকজন মুসল্লি জামাতে অংশ নিচ্ছে বলে মুসল্লীরা জানিয়েছে। বাকীদের নামাজ আদায় করতে কিছুটা বেগপেতে হচ্ছে।

বর্তমানে মসজিদের ঈমামকে নিয়ে তালতলা বাজারে বিতর্কের শেষ নেই। মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ (৬০) এর আগে ও মাদ্রাসার ছাত্রদের শারীরিক নির্যাতনের কারনে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ঈমামতি করার পর হঠাৎ করে নামাজ শেষে মুনাজাত দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার ও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মুসল্লিদের সাথে কয়েকবার তার তর্ক বির্তক হয়। এ নিয়ে পেৎনা সৃষ্টি হওয়ার পর নামমাত্র ঈমাম আবুল কালাম আজাদ মুনাজাত দিয়ে নামাজ শেষ করেছে। একজন ঈমাম যখন মুসল্লিদেরকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য ওয়াজ নচিহত করবে, তা না করে যদি ঈমামের বিরুদ্ধে নানাহ অভিযোগ আসতে থাকে তাহলে সাধারণ মুসল্লিরা কোথায় যাবে।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতির কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বক্তব্য দিতে না চাইলে পরে তিনি বলেন, এ মসজিদ মাদ্রাসার সম্পত্তি আমার বাবা দান করেছে, মসজিদের ঈমাম দীর্ঘ ৩৪ বছর ঈমামতি করেছে, এখন তিনি খারাপ হয়েছে, মসজিদের ঈমাম বিভিন্ন স্থান থেকে দান খরাত এনে মসজিদ মাদ্রাসা পরিচালনা করছে। মসজিদের পাশে আমাদের সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে তিনি বিভিন্ন ফলের গাছ রোপন করেন।

তিনি বলেন, ঈমাম ও মুসল্লীদের মাঝে দ্বন্ধের বিষয়ে কিছুদিন আগে বসেছি, ঈমামকে বলেছি, ঈমামের ভু্লত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে সবার সাথে মিলে মিশে চলার জন্য বলেছি, নতুবা কোরবানি ঈদের ১৫ দিন পর তাকে নিয়ে আবার বসবো, প্রয়োজনে মসজিদ মাদ্রাসার উপদেষ্টা করে তাকে সম্মানের সাথে বিদায়ের ব্যবস্থা করবো। যারা ঈমামের পিছনে নামাজ আদায় করতে অনিহা তারা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য অনুমতি দিয়েছি।

ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাদক্ষ মুফতি এইচ এম আনোয়ার মোল্লা জানান, বর্তমানে মসজিদের ঈমামের সাথে মুসল্লিদের যে সমস্যা চলছে, তা স্থানীয় ওলামায়ে কেরামদের সাথে নিয়ে এবং পাশবর্তী ঈমামদের সাথে পরামর্শ করে এলাকার শান্তির লক্ষে সমস্যাগুলো সমাধান করাই ঈমামের দায়িত্ব। এ ছাড়া মসজিদ কমিটি আলাদা মসজিদের দ্বিতীয়তলায় নামাজের ঘোষনা দিয়ে আরেকটি পেতনা সৃষ্টি করেছে। এ ভাবে মসজিদে নামাজ পড়া ঠিক না। মুনাজাত নিয়ে যে প্রশ্র উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরজ নামাজের পর মুনাজাত দেওয়া মোস্তাহাব, যেহেতু ওনি আগে মুনাজাত দিয়ে এসেছেন, এখনও ঠিক মত মুনাজাত দেওয়া ওনার দায়িত্ব।

মুসল্লিরা অভিযোগ করে বলেন, ঈমামের বয়স ৬০ এর উপরে হওয়ায় অনেক সময় নামাজে যে সূরা পরে তা বুঝা যায়না, একজন ঈমাম সুস্পর্শ ভাষাভাষী হওয়ার নিয়ম থাকলেও এখন তালতলা মসজিদের ঈমাম বয়সের ভারী হওয়ার অনেক সময় নামজের সূরা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। ঈমাম সম্মানী একটা পেশা, সে সম্মানের সাথে এখন তার ঈমামতি থেকে অবসর নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী অনুরোধ করেছে।

এবিয়ষে ঈমামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ মসজিদ মাদ্রাসা আমার হাতে গড়া, আমি বিভিন্ন স্থান থেকে অনুদান এনে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করছি। এখন কিছু লোক তাদের স্বার্থের জন্য আমার বিরোধীতা করছে। আমি মসজিদ কমিটির সভাপতির সাথে সব কিছু সমন্বয় করে করছি। মসজিদের মুসল্লিরা কেন নামাজ পড়তে আসেন্ জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, এটা বাজারের মসজিদ, নিদিষ্ট কোন মুসল্লি নেই, আর যারা আসেনা, এটা তাদের ব্যাক্তিগত কারন। দীর্ঘ ৩৪ বছর ঈমামতি করেছে, এখানের মুসল্লিদের আপনি চিনেন, তারা কেন হঠাৎ করে মসজিদে আসেনা তাদের কাছে কি আপনি গেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন না আমি কেন যাবো, আমার যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। সভাপতি যে ভাবে বলে আমি সে ভাবেই চলি।

Facebook Comments

Check Also

মতলব উত্তর থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিন্দা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল এর বিরুদ্ধে সামাজিক …

Shares
vv