ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরে বিয়ের প্রলোভনে মেলামেশা, আটকের পর দালালের মধ্যস্থতায় মুক্তি

চাঁদপুরে বিয়ের প্রলোভনে মেলামেশা, আটকের পর দালালের মধ্যস্থতায় মুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে বিয়ের প্রলোভন ও সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আপন খালাতো বোনের সাথে অবৈধ মেলামেশা করেছে এক প্রতারক। নাম তার মো. চাঁন মিয়া। বয়স-২৭। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের মো. ছোবহান খাঁর ছেলে। থাকতেন ওমানে। সেখানে থেকে নিজের খালাতো বোন শ্রাবনির সাথে ফোনে আলাপচারিতা। এক সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ফোনে ছুটিয়ে প্রেমও করেন তারা। শ্রাবনিকে আশ্বাস দেন দেশে আসলে তাকে বিয়ে করবেন। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের স্বপ্ন দেখেন শ্রাবনি। অবশেষে চাঁন মিয়া দেশে আসেন।

অপেক্ষার পালা শেষ। দু’জনের সাক্ষাত হলে প্রেমিক ও খালাত ভাইকে সরল বিশ্বাসে এবং বিয়ের করবেন ভেবে অবৈধ মেলামেশা হয় তাদের। কিন্তু সহজেকি চাঁন মিয়ার অভিভাবক এই বিয়ে মেনে নিবে। অভিভাবকদের চাপে পড়ে অন্যত্র বিয়ে করার জন্য মেয়ে দেখতে শুরু হয় চাঁন মিয়ার জন্য। শ্রাবনির সম্ভ্রম লুটে নিয়ে এখন বিয়ে করতে নারাজ চাঁন মিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) শ্রাবনি তার নিজ বাড়ী নারায়নগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন চাঁদপুরে। চাঁন মিয়ার অন্যত্র বিয়ের কথা শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। গতকালই শহরের কালিবাড়ী এলাকায় শ্রাবনির সাথে সাক্ষাৎ হয় চাঁন মিয়ার। শ্রাবনি চাঁন মিয়াকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বলে তুমি আমাকে এখনই বিয়ে করতে হবে। তা নাহলে আমি ট্রেনের নীচে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করবো। তাদের বাক বিতন্ডার কথা টেরপায় আশপাশের মানুষ। পরে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়।

চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

শ্রাবনি পুলিশকে বলেন, চাঁন মিয়া আমার খালাতো ভাই। আমার সাথে কয়েক বছর প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। বিয়ে করবে বলে আমাকে কোরান শরীফে হাত রেখে দুজনেই ওয়াদা করি। তারপর থেকে আমরা দু’জনে স্বামী স্ত্রীর মত থাকতাম। আমার সব লুটে নিয়ে এখন সে বলে আমাকে বিয়ে করবেনা এই বিচার আপনেরাই করুন। এরপরে পুলিশ চাঁন মিয়া ও শ্রাবনির পরিবারকে থানায় আসার জন্য বলেন।

এসময় উপস্থিত হন দুই দালাল সাংবাদিক নামধারী হাবু আর বাবু। ওই যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য চুক্তি হয় তাদের সাথে ৩০ হাজার টাকায়। পরে ঐ দুই দালাল মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হস্তনেস্ত করে ফেলে।

শ্রাবনির বাবা মা নারানগঞ্জ থাকেন থানায় উপস্থিত না হতেই প্রবাসী চাঁন মিয়ার পরিবার ও দুই দালাল সহ কিছু লোকজন তাদেরকে বিয়ে দিবেন বলে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন।

থানা থেকে বের হওয়ার পর মেয়েকে তার বাড়িতে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেয় ও ছেলেকে নিয়ে চলে যায়। বিয়ে তো দূরের কথা আর কোনদিন ছেলেকে বিয়ের কথা বললে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

প্রতারিত হওয়া শ্রাবণী জানান, পবিত্র কোরআন শরীফে হাত রেখে শপথ করে আমাদের দুজনের বিয়ে হয়। যার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি আমার কাছে রক্ষিত আছে। কিন্তু চান মিয়া আমার সাথে অবৈধ মেলামেশা করে অন্যত্র বিয়ে করার চেষ্টা করছিল।

খবর শুনে চাঁদপুরে এসে তার সাথে দেখা হয় কোট স্টেশন এলাকায়। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায় থানায়। কিন্তু বিয়ের কথা স্বীকার করলেও পরে সাংবাদিক নামধারী দুই দালাল হাবু আর কালা বাবু এসে ভয়-ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয় চান মিয়াকে।

চাঁন মিয়া আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে যদি আমার সাথে সংসার না করে তাহলে আমি নিজেই আত্মহত্যা করার পথ বেছে নিব। আর এর জন্য দায়ী থাকবে তার পরিবারের লোকজন ও দুই দালাল।

এই ঘটনায় আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে সংখ্যালঘুদের জায়গা দখলের পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের পুরান বাজারে সংখ্যালঘুদের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা দখলের পায়তারায় ভুমিদস্যুরা। মঙ্গলবার সকাল …

vv