ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটির বয়া ও সরকারি মাল চুরির নেপথ্যে রতন দাস

চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটির বয়া ও সরকারি মাল চুরির নেপথ্যে রতন দাস

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএর নদীতে ভাসমান বয়া চুরি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লৌহজাতীয় মালামাল চুরি হওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন সুপরিচিত পুরাতন লোহা ব্যবসায়ী রতন কান্তি দাস । পদ্মা মেঘনা নদীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ডুবোচরে বিআইডব্লিউটির যেসকল বয়াগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই চুরি করে নিয়েছে চোরচক্ররা। সেসকল ভাসমান লৌহজাতীয় বয়াগুলো চুরি করে এনে লোহা ব্যবসায়ী রতন বাবু কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এই চোর চক্রের সিন্ডিকেটের হোতা রতন কান্তি দাস (রতন বাবু) চাঁদপুরে বিভিন্ন জায়গায় চোরদের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লোহা জাতীয় মালামাল চুরি করে এনে সে সেগুলো নিজেই রূপ পরিবর্তন করে কেটে তার গোডাউনে রক্ষিত রাখে। সেই মাল খন্ড খন্ড করে বিক্রি করার পর অবশিষ্ট মালগুলো ট্রাক বোঝাই করে ঢাকায় রোলিং মিলে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

এই সিন্ডিকেটের হোতা রতন কান্তি দাস বর্তমানে চাঁদপুর ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি চুরি হওয়া মালামাল ক্রয় করে অধিক মূল্যে তা বিক্রি করছে।

সম্প্রতি রতন কান্তি দাস ও তাঁর সহযোগী মতলব দক্ষিণের খোকন সহ কয়েকজন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নদীপথে চোরাই লাইটার জাহাজ ও স্টিল বডি ট্রলার চুরি করে এনে রাতের আধারে শ্রমিক লাগিয়ে সেগুলো কেটে রূপ পরিবর্তন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

তেমনি কিছুদিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনটি চোরাই লাইটার জাহাজ এনে সেগুলোর মধ্যে দুটি কেটে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই লাইটার জাহাজের মালিক ঘটনা জানতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই তিনটি জাহাজের একটি বর্তমানে ইচলী ঘাট ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। জাহাজ মালিক মামলা করায় ও মামলা চলমান থাকায় সেই চোরাই লাইটার জাহাজটি তারা এখনো কেটে বিক্রি করতে পারছেনা।

এই ঘটনার পরেই চাঁদপুর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান চোর চক্রের সিন্ডিকেটের হোতা রতন বাবু।
সে বর্তমানে তার বন্ধু খোকনসহ ঢাকা গুলশান এলাকায় অবস্থান করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি চোরাই মাল ক্রয বিক্রয় সাথে জড়িত থেকে তাদের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। রতন কান্তি দাস বর্তমানে চাঁদপুরের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তার বড় ভাই মৃদুল কান্তি দাস ও ভাতিজা। রতন কান্তি দাসের বাড়ি চট্টগ্রাম সাতকানিয়া এলাকায়।

তার বাবা রবি কান্তি দাস চাঁদপুর থানায় কনেস্টেবল হিসেবে চাকরি করার সুবাদে সপরিবারে তারা চাঁদপুরে থাকেন। বাবা মারা যাওয়ার পর দীর্ঘ বছর রতন বাবু চাঁদপুর শহরের পালে বাজার ভিতরে বকুলতলা একটি দোকান দিয়ে তার এই পুরনো লোহার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সেখান থেকে সে পাঁচ নাম্বার ঘাট ডাকাতিয়া নদী পারে একটি ডগ তৈরি করেন।
সেই ডগে চোরাই টলার ও নদী পথে আসা চোরাই মালামাল সেখানে এনে রাতের আধারে কেটে তাদের গোডাউনে স্থানান্তর করেন।

এছাড়া ৫ নম্বর ঘাটে তাদের রয়েছে চট্টগ্রাম লৌহ বিতান নামে বিশাল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে পুরনো অ্যাঙ্গেল কাটা প্লেট সহ বিভিন্ন লোহার মালামাল রেখে ক্রয়-বিক্রয় করছে। চাঁদপুর জেলার রেলওয়ের মালামাল ও রেললাইন চুরি করে এনে এই রতন বাবুর কাছে বিক্রি করছে চোরচক্ররা।

কিছুদিন পূর্বে পদ্মা সেতু থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪ টন অ্যাঙ্গেল ও লোহার মালামাল স্টিল বডি ট্রলারে এনে রতন বাবু পাঁচ নাম্বার ঘাট দিয়ে উঠেয়ে সেই মাল কেটে সেগুলো ট্রাক যোগে ঢাকা রোলিং মিলে বিক্রি করে দেয়।

এছাড়া বিআইডব্লিউটির ভাসমান চুরি হওয়া বয়া এনে রতন তার লোকের মাধ্যমে কেটে ঢাকায় বিক্রি করে ফেলে। এই ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী তার গোডাউনে গিয়ে সেই মাল কাটা অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর পর অবশেষে রতন বাবু টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে সেই যাত্রায় রক্ষা পায়।

কয়লাঘাট পদ্মা তেলের ডিপো থেকে চুরি করে পুরনো তেলের ট্রাংক খন্ড খন্ড করে কেটে রাতের আধারে রতন বাবু তার গোডাউনে এনে রাখে। সেই ঘটনা জানাজানি হলে অবশেষে সেগুলো রাতেই ফেরত দেওয়া হয়। এরকম অনেক ঘটনা সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে চোরচক্রের সিন্ডিকেটের হোতা রতন বাবু ও তাঁর ভাই ভাতিজা।

সর্বশেষ কয়েকদিন পূর্বে মেঘনা ভয়াবহ ভাঙ্গনে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রের অধিকাংশ ভেঙ্গে গিয়েছে। সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের লোহার জালনা দরজা চোর চক্ররা খুলে এনে রতন বাবু কাছে বিক্রি করে। রতন মোবাইল ফোনে চাঁদপুরে থাকা তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে এই চোরাই মাল গুলো ক্রয় করে তার গোডাউনে রক্ষিত রাখে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রতন কান্তি দাস (রতন বাবু) জানায়, জাহাজ ক্রয়ের ঘটনায় মামলা হওয়ায় সেই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় অবস্থান করছি।

এরপূর্বে সরকারি মালামাল ক্রয় বিক্রয় বিষয়টিতো ভাইয়ের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তবে গুচ্ছগ্রামের দরজা জানালা এক লোক মারফত এনেছে কিন্তু সে মাল ক্রয় করা হয়নি ‌। চাঁদপুরে এসে সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা জানাবো।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মাহমুদুল হাসান থানদার জানান,নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএর ১৩টি বয়া ছিল। এর মধ্যে দুটি বয়া হারিয়ে গেছে সেগুলো খুঁজে বের করে আনা হবে। তবে চুরি হওয়ার বিষয়টি জানা নেই যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি সূত্র জানায়, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া চোর চক্রের হোতা রতন বাবু বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার চোর চক্রদের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। সে ঢাকা গুলশানে থেকে মদ জুয়া ও নারী আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ঢাকা গুলশানে একজনকে বলৎকার(সমকামী) করার ঘটনায় হাতেনাতে ধরা খেয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এই সমকামী (বলাৎকারের) দৃশ্য সুকৌশলে ভিডিও ধারণ করা হয়।

এই দুশ্চরিত্রা ও চোর চক্রের সিন্ডিকেটের হোতা রতন বাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ার ১ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মুয়াজ্জিনের উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : কচুয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কড়ইয়া মুন্সী বাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কচুয়া …

vv