ব্রেকিং নিউজঃ
Home / জনপ্রতিনিধি / চাঁদপুরে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতিকালে ইউপি চেয়ারম্যানের অনন্য ভূমিকা

চাঁদপুরে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতিকালে ইউপি চেয়ারম্যানের অনন্য ভূমিকা

মাসুদ হোসেন : সময় তখন রাত ১০ টা। ঘরভর্তি মানুষের আনাগোনা। এসেছে কিছু আত্মীয়স্বজনও। মেয়ে বসে আছে খাটের উপর।ঘরের মধ্যে একদিকে বইছে আনন্দের উৎসব, অন্যদিকে চলছে আনাগোনা। মেয়ের মা-বাবা ভয়ে পালিয়ে গেছে বাড়ির অন্যত্র। ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা মেয়ের প্রধান দুই অভিবাবককে। আছে শুধু মেয়ের কাকী, ফুফু ও ফুফাতো বোনসহ বাড়ির কয়েকজন মানুষ। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে বাল্যবিবাহের সম্মুখীন পিয়াসার (ছদ্দনাম) বাড়িতে।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যার পরেই চাঁদপুর সদরের ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকার বিপ্লবের (ছদ্দনাম) মেয়েকে দেখতে আসে ছেলে পক্ষ। দুই পক্ষের কথাবার্তা চূড়ান্ত হলে বিয়ে হয়ে যাবে। এ সংবাদটি এলাকার কোন এক সচেতন লোক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে জনায়। সাথে সাথে ইউএনও কানিজ ফাতেমা শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদকে বিষয়টি জানান এবং তাঁর নির্দেশে রাত ১০ টায় ইউপি চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক পরিষদের দফাদার নুরুল ইসলাম, গ্রাম পুলিশ সাদ্দামকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়েই এর সতত্যার প্রমান পান।
তবে মেয়ে পক্ষ বলছে, মেয়েকে দেখতে আসছে এটা সত্য। কিন্তু বিয়ে করার জন্য না। কথাবার্তা ফাইনাল হলে আংটি পড়িয়ে যাবার উদ্দেশ্যেই এসেছিলো তারা।
অন্যদিকে ছেলে মহসিন বলতেছে৷ বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়াতে ফিরে আসি আমরা। এমনটাই জানালেন ইউপি চেয়ারম্যানকে।
ছেলের বাড়ি হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের রামড়া গ্রামে। এদিকে মেয়েকে দেখতে আসা অথবা বিয়ে হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এবং চেয়ারম্যানের আসার বিষয়টি জেনে ঘর থেকে ভয়ে পালিয়ে যান মেয়ের মা ও বাবা। তাৎক্ষনিক ঘটনার সত্যতা উপলব্ধি করতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ এক দৃষ্টান্ত ভূমিকা পালন করেন। তাঁকে সহযোগিতা করছেন একজন সংবাদকর্মী ও গ্রাম পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ভয় না পাবার আশায় মেয়ের মা ও বাবাকে ডেকে এনে মেয়েসহ মেয়ের মা-বাবা, বাড়ির লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে বসে তাদের কথা শুনেন। মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে না দেবার প্রতিশ্রুতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বলে প্রতিজ্ঞা করেন মেয়ের মা।
পরিশেষে একটি অঙ্গিকার নামায় মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ে হবেনা এমন শর্তে স্বাক্ষর করেন মেয়ে, মেয়ের মা-বাবা, বাড়ির এক সম্মানিত ব্যক্তি ও মেয়ের ফুফাতো বোন।
জানা যায়, মেয়ে পিয়াসা স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। তার পারিবারিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। বাবা একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। ছোট্ট একটি ঘরের জায়গা ছাড়া কোন সম্পত্তি নেই তাদের। ৩ ভাই ১ বোনের মধ্যে পিয়াসা দ্বিতীয়। তাদের পড়াশোনা ও ভরনপোষণ চালিয়ে নিতে না পেরে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেয়ের পরিবার। এমনটাই জানালেন তার মা।
অসহায় এই পরিবারটির দুঃখের কথা শুনে নিজেকেও সেসময় অসহায় মনে করেন ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ। তাৎক্ষণিক পিয়াসার পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই জনপ্রতিনিধি। এসময় প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেবার শর্তে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ।
এ বিষয়ে স্বপন মাহমুদ বলেন, ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে সাথে সাথেই মেয়ের বাড়িতে আমরা চলে আসি। অপ্রাপ্ত এই মেয়েকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়েছি। এবং তার পড়াশোনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে আগামীতে পড়ালেখা করার জন্য সহযোগিতা করা হবে। আর পারিবারিক অন্যান্য সমস্যা পরিষদের মাধ্যমে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, মেয়ের পরিবার সত্যতা স্বীকার করে অঙ্গিকার করায় ও মেয়ের ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে তাদের পরিচয় গোপন করা হয়েছে।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে ইউপি মেম্বারের পাঁচ শতাধিক ফলজ গাছ রোপন

স্টাফ রিপোর্টার : গাছ লাগাও দেশ বাঁচাও শেখ হাসিনার নির্দেশ, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতির …

vv