ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে প্লাস্টিকের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে আয় হচ্ছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা

চাঁদপুরে প্লাস্টিকের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে আয় হচ্ছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা

অমরেশ দত্ত জয় : বর্তমান সময়ে অপেক্ষাকৃত সস্তা এবং বহনযোগ্য হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী। তাই এর ব্যবহার নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু ব্যবহারের পর যেভাবে এগুলিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে, আপত্তি তাতেই৷ বিশেষ করে প্লাস্টিকের বোতল, গৃহস্থালির প্লাস্টিক কিংবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত প্লাস্টিক অধিকাংশই পুনর্ব্যবহার বা পুনঃচক্রায়ন না করে প্রাকৃতিক পরিবেশে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। যেহেতু প্লাস্টিকের সামগ্রী মাটিতে মিশতে পারেনা। তাই এর একাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এবং ক্রমশ তা বর্জ্য হিসেবে জমা হচ্ছে লোকালয়ের বুকে৷ আর তা থেকেই ছড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ এবং এটিই পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত।

তবে মানুষের ফেলা প্লাস্টিকের ওই সব বর্জ্য পরিশোধিত করা হচ্ছে চাঁদপুরের পুরানবাজারে। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিয়ে পরিবেশবান্ধব এই কাজটি করছেন উত্তম কুমার দে। যিনি ১০ নং ঘাটের হাজী শরিয়তুল্লা রোডে মেসার্স জুঁই প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্ট্রির সাইনবোর্ডে এগুলো করছেন। এখানকার কর্মচারীরা জানান,আনুমানিক ৫৩ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে বর্জ্য সংশোধনীতে। যেখানে পেড(পেপসি,সেভেনআপ,টাইগার,স্পীড জাতীয় বোতলের ৫ সুঁতা কাটিং),মুলাম(প্লাস্টিকের চেয়ার,বালতি,বদনার মতো বিভিন্ন আইটেমের ৮ সুঁতা কাটিং কুচা হয়)তৈরি হয়।

এ ছাড়াও আরএফএল বা পিপি রয়েছে।যা থেকে কেকরা সুঁতা তৈরি হয়।

কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে আরো জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১ টনের মতো কাজ হয় এখানে। যা করতে ২৫ জন পুরুষ এবং ১৫ জন মহিলা সহ ৪০ জন কর্মচারী এই কাজগুলো করে থাকে। তবে মালের চাপ কমবেশি অনুযায়ী কর্মচারীর সংখ্যাও কমবেশি হয়।

ওখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারী আরো জানান, জেলার ৭/৮ টি কাটিং সাইটের মধ্যে এটি অন্যতম প্রচীন। তাই এখানকার তৈরি পেড যায় চিটাগাংয়ে আর মুলাম যায় ঢাকায়। তবে সুঁতাগুলো এখান থেকেই বিভিন্ন মোকামে যায়। কেননা জেলায় কেকরা সুঁতা একমাত্র এখান থেকেই তৈরি হয়।

মেসার্স জুঁই প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্ট্রির সত্ত্বাধিকারী উত্তম কুমার দে জানান, এখানে পেড, মুলাম ও সুতা তৈরি করা হয়। পেডগুলি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। যার উপর ১০% ইনসেপ্ট দেয় সরকার। মুলামের কুচা দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন রিসাইকেলিং প্লাস্টিক মালামাল তৈরি হয়। যার মধ্যে বদনা,বালতি,চেয়ার সহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি করা হয়। আর কেকরা সুঁতাটা এখানকার পুরানবাজারে পাঠানো হয়।

তিনি জানান,২০১২ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারী তিনি ছোট্ট পরিসরে এই কাজটি শুরু করেন। এটি টোকাই,হকার ও ভাঙ্গারীর মোট ৩ শ্রেণীর প্রায় ১২ হাজার শ্রমিকের বিশাল কর্মযজ্ঞ। তাই এই শিল্প ব্যবসাটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে চাই প্রচুর ঋণ। কিন্তু আমি কোন ঋণের ব্যবস্থা না পাওয়ায় হতাশ।

৯ ফেব্রুয়ারি রবিবার এ ব্যপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাসেদ বলেন,সত্যিকার অর্থে পরিবেশবান্ধব এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমরাও চাই টিকে থাকুক। তাই সরকারিভাবে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার কোন সুযোগ থাকলে। আমরা অবশ্যই তাদের জন্য সে ব্যবস্থা করে দিবো।

চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, পুরানবাজারে দূর্ষিত প্লাস্টিক বর্জ্য যেভাবে পরিবেশবান্ধবভাবে রিসাইকেলিং করা হচ্ছে। তা সত্যিই একটি চমৎকার উদ্যোগ।এতে এখন ৫০ জন মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা হলেও তা বাড়ানো যেতে পারে। এ ব্যপারে ওরা যদি সাহায্য সহযোগিতা চায়। তাহলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওদেরকে ঋণ পায়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সহ সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

Facebook Comments

Check Also

মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে পৌরবাসীর সেবক হওয়ার ইচ্ছে আমার

গোলাম মোস্তফা : চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের  সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি,১৯৮৭,৯০,৯২ও ৯৫ সালে কারা নিযতীত সাবেক …

vv