ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে পদাবিকে ঋণ আদায় সম্পন্ন হয়েছে ১’শ ৯৯ কোটি টাকা

চাঁদপুরে পদাবিকে ঋণ আদায় সম্পন্ন হয়েছে ১’শ ৯৯ কোটি টাকা

অমরেশ দত্ত জয় : বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি (পদাবিক) এ চাঁদপুরে ১’শ ৯৯ কোটি ২০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ঋণ আদায় সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে ঋণ আদায় হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ভালো ভূমিকা রাখছে পদাবিক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পদাবিক দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীটি সরকারের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ। যেখানে পল্লী অঞ্চলের বিত্তহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা অনানুষ্ঠানিক দলভুক্ত হয়ে গ্রামভিত্তিক মানব-অবকাঠামো সৃষ্টিতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।আর সেই দল সংগঠিতভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, তাদের নিজস্ব মূলধন গঠন, আয় বর্ধক কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা প্রদান, আত্মকর্মসংস্থান সৃজন এবং তাদেরকে স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।

সূত্রে আরো জানা যায়, পদাবিকের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী বাহিনী এ সকল কার্যক্রম চাঁদপুরে সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।যেজন্য বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচনে বিআরডিবি’র সহায়তায় বাসত্মবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্প/কর্মসূচির পাশাপাশি।পদাবিকের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য সর্বমহলে প্রশংসিত।

এদিকে এ সম্পর্কিত এক অনুসন্ধানে উপজেলা জুনিয়র অফিসার মোঃ আবদুল গণি জানান, চাঁদপুর জেলায় মোট ৫’শ ৩০টি দল রয়েছে। যেখানে পুরুষ দল ১’শ ৩৬টি এবং মহিলা দল ৩’শ ৯৪টি। তবে অপর এক তথ্যে দেখা যায়,পদাবিকের মোট দল ছিলো ৭’শ ৪টি।

যার মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১’শ ১৭টির স্থলে রয়েছে ৬৩টি এবং ফরিদগঞ্জে ১’শ ৮০টির স্থলে রয়েছে মাত্র ৬০টি।অন্যান্য উপজেলায় ঠিক থাকলেও সঠিক মনিটরিং ও তত্ত্বাবধানের অভাবে চাঁদপুর সদরে ৫৪ এবং ফরিদগঞ্জে ১’শ ২০টি দল সহ মোট ১’শ ৭৪টি দল স্থগিত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র নিয়মিত ঋণ আদায় না করা এবং সঞ্চয় জমা নেওয়ায় নানা অনিয়ম করার জন্যই পদাবিক এর এই দল গুলো স্থগিত হয়ে গেছে।

৯ ফেব্রুয়ারী রবিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের উপপরিচালক এস এম জুয়েল আহমেদের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, জেলায় দল ৭’শ ৪ টিই সঠিক। হয়তো উপজেলা অফিসগুলো থেকে ভুল তথ্য আসতে পারে। তবে এ ভুলটি সামনে নিয়ে আনার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ। এ নিয়ে আমরা মাসিক মিটিংয়ে কথা বলবো।

বিআরডিবি চাঁদপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জেলায় পদাবিক-এ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ২’শ ৮ কোটি ৮০ লক্ষ। যাদেরকে এই প্রকল্পে এই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২’শ ১২ কোটি ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। তবে এই ঋণ প্রায় ৯৮% হারে মোট ১’শ ৯৯ কোটি ২০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। অর্থাৎ প্রাপ্ত তথ্যে ঋণ বকেয়া রয়ে গেছে মাত্র ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৬৩ হাজার।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের উপপরিচালক এস এম জুয়েল আহমেদ আরো জানান, আখতার হামিদ খানের কুমিল্লা পদ্ধতিটি উপজেলা সমবায় সমিতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর বিআরডিবির উপজেলা অফিসগুলো পরিচালিত হয় উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচিত কমিটি ও বিআরডিবি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। যেখানে পদাবিক প্রকল্পে চাঁদপুর জেলায় ১৯৯৫ থেকে ২০১৯ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে শুধুমাত্র সঞ্চয়-ই আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৭ হাজার। তবে বিতরণকৃত ঋণের কিছু টাকা আদায় না হওয়ায় বকেয়া রয়েছে। যা উদ্ধার করতে আমাদের মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের ৫৫ জন নানা রকমভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

পদাবিক এর সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা করি।

Facebook Comments

Check Also

অনিয়মের মধ্যেই পড়ে আছে রামপুরের সেই আলোচিত ৫শ’ বছরের মসজিদ!

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করে …

vv