ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে নৌ-পুলিশ যাত্রীবাহী লঞ্চে মাছ ডাকাতি, সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মাছ লুট!

চাঁদপুরে নৌ-পুলিশ যাত্রীবাহী লঞ্চে মাছ ডাকাতি, সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মাছ লুট!

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর মেঘনা নদীতে নরসিংহপুর নৌ পুলিশ যাত্রীবাহী এম ভি টিপু জিরো লঞ্চ থেকে ৪ ঝুড়ি বোঝাই বড় সাইজের ইলিশ মাছ ডাকাতি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলু বাজার ফেরি ঘাট সংলগ্ন নরসিংহপুর নৌ পুলিশ আইন বহির্ভূতভাবে চাঁদপুর সীমানায় প্রবেশ করে নদীর মাঝখানে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালায়।

চাঁদপুরের দালাল, নরসিংহ পুর নৌ পুলিশের সোর্স দেলু ও আব্বাসের তথ্যমতে মাছ ব্যবসায়ী ৪ ঝুড়ি ইলিশ মাছ স্টিল বডি টলারে উঠিয়ে শরীয়তপুর নিয়ে বিক্রি করে।

বেশ কয়েক মাস ধরে নরসিংহপুর নৌ পুলিশের ইনচার্জ মামুন ও তার সহযোগী এএসআই হাসান এবং সোহেল চাঁদপুর সীমানায় প্রবেশ করে নদীর মাঝখান থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চে মাছ ডাকাতি করেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

সোমবার গভীর রাতে এমবি টিপু লঞ্চটি হরিনা ফেরিঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর মাঝখান দিয়ে যাওয়ার পথে নরসিংহপুর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মামুনের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা পাঁচজন সোর্সকে সাথে নিয়ে ভুয়া অভিযান চালায়।
এ সময় এম ভি টিপু লঞ্চের থাকা মাছের পার্টি বরিশাল মেহেদীগঞ্জ থানা কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী রিপনকে আটকের ভয় দেখিয়ে ৪ ঝুড়ি ইলিশ মাছ নিয়ে যায়।

সে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে মামলার ভয় দেখিয়ে দ্রুত স্টিল বডি ট্রলারে মাছের ঝুরি উঠিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাছের মালিক রিপন জানান, বরিশাল কালিগঞ্জ লঞ্চঘাট পল্টন থেকে ৪ জুড়ি বড় সাইজের ইলিশ ও পোয়া মাছ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিঝুম এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হই।

রাতে এমভি টিপু লঞ্চটি হরিনা ফেরি ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর মাঝখানে আসার পরে নরসিংহপুর নৌ পুলিশের পাঁচজন সদস্য ও ৬ জন সোর্সসহ ১১ জন লঞ্চে উঠে। তারা কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করে ধারালো দা দিয়ে ঝুড়ির মুখ খুলে ইলিশ মাছ দেখতে পেয়ে মাছের ঝুরি গুলো টলারে উঠায়।

এ সময় প্রতিবাদ করলে নৌ পুলিশ তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বেশ কয়েকটা আঘাত করে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ট্রলার নিয়ে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়। এরপূর্বে নরসিংহপুর নৌ পুলিশ বেশ কয়েকটি লঞ্চ থেকে ইলিশ মাছের ঝুরি ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানাই।

এ বিষয়ে নরসিংহপুর নৌ পুলিশের ইনচার্জ মামুনের কাছে মাছ ডাকাতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। মাছ ডাকাতির ঘটনা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি এই প্রতিবেদককে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেন।

এদিকে চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ জানায়,নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ বেআইনিভাবে সোর্সদের সাথে নিয়ে চাঁদপুর সীমানায় প্রবেশ করে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালায় যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। তাদের কারণে নৌ থানা পুলিশের বদনাম হচ্ছে এই ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানায়।

Facebook Comments

Check Also

শাহতলী ছমির উদ্দিন কারী ওয়াক্ফ এস্টেটের সভা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ্তলী বাজারস্থ হাজী ছমির উদ্দিন কারী ওয়াক্ফ এস্টেটের নব-গঠিত …

Shares
vv