ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা রাখছে ব্যবসায়ীরা : প্রয়োজন কঠোর নজরদারি

চাঁদপুরে নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা রাখছে ব্যবসায়ীরা : প্রয়োজন কঠোর নজরদারি

মাসুদ হোসেন : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি চলাকালে সরকার লকডাউন কিছুটা শিথিল ঘোষনা করেছে এবং সেই সাথে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শপিংমল, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এতে করে চাঁদপুরের কতিপয় ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকানপাট খোলা রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
অথচ চাঁদপুর জেলা জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ক্রেতা বিক্রেতাদের চলাফেরায় বুঝা যায় যেন, স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মতোই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখার প্রয়োজন মনে করছেন সচেতনরা।
গত ২৮ মে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ ইলাহীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, হাটবাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলসমূহ আবশ্যিকভাবে বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
এছাড়াও গত ৩০ মে বিকেল সাড়ে ৫টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেছেন, লকডাউন অনেকটা সীমিত করা হয়েছে। আর এই সময়ের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা মানার পাশাপাশি আমরা স্থানীয়ভাবে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি।
দুই নির্দেশনা সমন্বয় করে চলে জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। এসময় তিনি ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং খাবার হোটেল সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শুধুমাত্র ফার্মেসী ২৪ ঘন্টা খোলা রাখতে পারবে।
অথচ এর কোনটাই মানছে না চাঁদপুরের আট উপজেলার ছোট বড় বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেখা যায়, ভোর রাত থেকে শুরু করে রাত রাত অবধি খোলা রাখছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে সংক্রমণ রোধে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যথাসময়ে দোকান বন্ধ না করে খোলা রাখার কারণে আইন অমান্যকারী দোকানিদের করা হচ্ছে জরিমানা। কিন্তু তারপরও ব্যবসায়ীরা সতর্ক হচ্ছে না। জেলার অধিকাংশ বাজার ব্যবসায়ীরা বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত কিংবা নির্দেশনাও মানছে না।
এবিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী মঙ্গলবার বলেন, আমরা প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করে আসছি। পুলিশের নজরে আসলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। তবে সরকারী নির্দেশনা যেহেতু সবার জন্য তাই জেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসলে আইন অমান্যকারীর সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা জুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮শ’ ৭৪ জন ও মৃতের সংখ্যা ৫৭ জনে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরেই ৩২৯ জন আক্রান্ত ও মৃত ১৫ জন।
Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে করোনায় ৪ চেয়ারম্যান আক্রান্ত

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান আক্রান্ত …

vv