ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় মতলব দক্ষিণ / চাঁদপুরে নবাব মিয়া শখ থেকে স্বাবলম্বী, গড়ে তুলেছেন আল্লাহর দৃষ্টি’খামার’

চাঁদপুরে নবাব মিয়া শখ থেকে স্বাবলম্বী, গড়ে তুলেছেন আল্লাহর দৃষ্টি’খামার’

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিনের পল্লীতে কয়েক প্রকার পশুপালনের মাধ্যমে নবাব মিয়া প্রকৃতিবান্ধব ফার্মিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আল্লাহর দৃষ্টি’খামার গড়ে তুলেছেন। যা’নিয়ে এলাকাবাসীর কাছে সে প্রশংসার মাধ্যমে বেচেঁ থাকবেন অনেকদিন। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল তার উর্দ্যগেকে মহতী উদ্যেগ বলে দাবী করেন।

চাঁদপুর জেলাধীন মতলব দক্ষিন উপজেলার পৌরসভাস্থ ৬নং ওয়ার্ডের নবকলস গ্রামে মোঃ নবাব মিয়া সরকারি চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষে সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় নিজ উদ্যোগে পূর্ব শখ থেকে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন পশুপাখি প্রতিপালনের প্রতিষ্ঠান। তিনি সে খামারের নাম দিয়েছেন আল্লাহর দৃষ্টি” খামার।

জানা যায়, তিনি ইউটিউব, ইন্টারনেট, উপজেলাস্থ প্রাণি সম্পদ ও কৃষি অফিস থেকে প্রযুক্তিগত কলাকৌশল আয়ত্ত করে ফার্মিং কার্যক্রমে এগিয়ে যাচ্ছেন আপন গতিতে। দেশের বিভিন্ন জায়াগার খামার নিজে পরিদর্শন করে উন্নত জাতের পশুপাখি সংগ্রহ করাই তার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তার খামারে নানা জাতের পশুপাখি রয়েছে। উল্লেখযোগ্য এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৪০ জোড়া তিতি পাখি, ২৫ পিছ চায়না হাঁস, ৫ জোড়া কবুতর, ১ জোড়া ঘুঘু পাখি, ৫ পিছ প্রাপ্ত বয়স্ক দেশি মুরগী, ২জোড়া বাজিগর পাখি, বড় ও ছোট বাচ্চা সহ ১৫ পিছ খরগোশ, ২ জোড়া গিনিপিকের ছোট বাচ্চা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ফার্মে রয়েছে ১ জোড়া কালিম পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক এক জোড়া কালিম পাখির মূল্য স্বাভাবিক ভাবে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা হবে বলে তিনি জানান।

চলতি বছরের মার্চ মাসে মোঃ নবাব মিয়া সব মিলিয়ে ফার্মে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে শুরু করেন এ পশু পালন। এই খামার তিনি ব্যবস্থাপনায় ৬শত স্কয়ার ফিটের একটি শেড তৈরি করেছেন। এপর্যন্ত পশুপাখি লালন পালনে দৈনিক তার প্রকৃত ব্যয় হচ্ছে সব মিলিয়ে ৮শ টাকার মত। প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত খরচ হচ্ছে। এখনও আয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়নি। বেশ কিছু পশুপাখি সম্প্রতী বিক্রয়যোগ্য হয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই বেশির ভাগ পশুপাখির মধ্যে রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে প্রাপ্ত বয়স্ক পশুপাখি কেজি বা পিছ হিসেবে বিক্রি করে আয়ের সুবর্ণ সুযোগ সৃস্টি করার ইচ্ছা রয়েছে নবাব মিয়ার।

পশুপাখি প্রতিপালনে খামারে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রয়েছে সবুজ শাক-সবজি, উন্নত জাতের ঘাস ও বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাবার।

নবাব মিয়ার বয়স এখন ৬০ ছুঁই ছুঁই। তার পিতার নাম- মৃত- আবু বক্কর সিদ্দিক খাকী। এই বয়সে তার সৃজনশীল কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য ও দাবিদার বলে এলাকাবাসীর মন্তব্য। উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৮৭ সালে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর মতলব দক্ষিণে গাড়ী চালক হিসেবে ৩২ বছর নিযুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি সরকারি চাকুরী থেকে অবসর হয়ে চলে আসেন।

বর্তমানে তিনি অবসর গ্রহণের পর বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষে দশ শতক যায়গায় বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে এই ফার্মিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি তিনি খালি জায়গার অংশে বিভিন্ন সবজি ও ফল গাছের চারা রোপন করে কৃষি ফলন করেছেন।

এর মধ্যে ফল জাতীয় গাছ হলো- কাজী পেয়ারা, আম্ররুপালি জাতের আম গাছ, বিভিন্ন জাতের কলা গাছ, সবজির মধ্যে রয়েছে- ঢেড়স, ডাটাশাক, পুঁইশাক, লাউ, কুমড়া, মূলা, বেগুন ইত্যাদি জাতের ফসল। নবাব মিয়ার আকর্ষণীয় পশুপাখি পালনের খামার দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানের অনেক মানুষ এসে ভীড় জমায়। তিনি ফার্মিং কার্যক্রমের পাশাপাশি ছোট একটি ঘরে নিজে থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন। ভবিষ্যতে আরও বড়ো পরিসরে পশুপাখি পালনের উদ্দ্যেশে তার ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।

“আল্লাহর দৃষ্টি” খামারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ নবাব মিয়া বলেন, আমি প্রাথমিক অবস্থায় বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে নয়, ছোট পরিসরে মনের শখ থেকে পশুপাখি প্রতি পালন করার জন্য মনোনিবেশ করি। আমি পশুপাখি অনেক ভালোবাসি, ওরা হয়ত আমার ভালোবাসা টা বুঝতে পারে। জীবনে চলার পথে এটা আমার একটা স্বপ্ন ছিল বিভিন্ন জাতের পশুপাখি নিয়ে একটা বাসা বাঁধব।

মহান আল্লাহর দরবারে হাজার শুক্রিয়া আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ সফল হয়েছি। আয়ের বিষয় নিয়ে কোন প্রকার দুশ্চিন্তা নেই, মহান আল্লাহ তায়ালা যা ভাগ্যে রেখেছেন তা ই হবে। যুব সমাজ যদি পশুপাখি পালনে আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে দেশে মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে। আগ্রহী মানুষের জন্য আমি সর্বদা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারব। আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা খামার পরিদর্শনে অনেকেই আসে, তখন আমার মন ভরে যায় অনেক ভালো লাগে।

মানুষ অনেক কিছু জানতে চায়, অনেক কিছু আমাকে জানিয়ে যায়। যা থেকে অনেক জটিল বিষয়বস্তু সহজসাধ্য হয় ও মনোবল বৃদ্ধি পায় ও উৎসাহ পাই। আমি যে কোন সমস্যায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে থাকি। আমি যেন নিজেকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারি, সবাই আল্লাহর দরবারে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন একজন বড় খামারি হতে পারি এবং এলাকাবাসী উপকারে আসতে পারি ও বেকার যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান করতে পারি।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার নতুন করে ১০ জনের করোনা পজেটিভ

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৮.৭০%। শুক্রবার …

Shares
vv