ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরে চোরাকারবারির মূল হোতা খায়ের ও কাশেমকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান

চাঁদপুরে চোরাকারবারির মূল হোতা খায়ের ও কাশেমকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার : গভীর রাতে মতলব উত্তর মোহনপুর মেঘনা নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আসা এম টি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে ১৬০ বেরেল পানিস অয়েল (কালো তেল) স্টিল বডি ট্রলারে উঠিয়ে পাচার করার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

চোরাকারবারির হোতা খায়ের ভূঁইয়া ও কাশেমকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা খায়ের ভূঁইয়া ও তার সহযোগী কাশেম এলাকা থেকে ঘা ঢাকা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নৌ পুলিশ ও মডেল থানার পুলিশ পৃথকভাবে এই চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করার জন্য তাদের বাড়িতে ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। বেশ কয়েক বছর যাবৎ নদীতে চোরাচালানির মাল ক্রয় বিক্রয় করে এই চোরাকারবারি হোতা খায়ের ভুঁইয়া চাঁদপুরে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

শহরের আদালত পাড়ায় ছয়তালা বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন এছাড়া শহরে নামে-বেনামে বিভিন্ন জায়গায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি মালিক হয়েছে। নদীতে চোরাকারবারির ব্যবসা করে অবৈধ টাকার পাহাড় বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে চাঁদপুর শহরের কোট স্টেশন সংলগ্ন ভূঁইয়া বিগ বাজার নামে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দিয়েছেন। সেখানে বসেই সে নদীতে তার চোরা কারবারির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

গেল কয়েক মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনটি চোরাই জাহাজ ক্রয় করে চাঁদপুরে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে সেগুলো কেটে বিক্রি করে ফেলে। সেই ঘটনায় জাহাজ মালিক বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চোরাই জাহাজ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে খন্ড খন্ড করে কেটে ঢাকায় বিভিন্ন স্টিল কারখানায় বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রতিদিন রাতে চট্টগ্রাম থেকে আসা বিভিন্ন লাইটার জাহাজ থেকে নদীর মাঝখানে স্টিল বডি ট্রলারে চোরাই পেট্রোল, অকটেন, চিনি,গম, ক্লিংকার সহ বিভিন্ন মাল উঠিয়ে অন্যত্রে পাচার করছে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চোরাকারবারীরা গোপনে জাহাজ থেকে চোরাই ভাবে মাল পাচার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুরে চোরাকারবারির মূল হোতা খায়ের ভূইয়া ও তার সহযোগী কাশেম দীর্ঘদিন যাবত নদী থেকে চোরাই ভাবে বিভিন্ন মাল পাচার করছে। সোমবার গভীর রাতে চোরাকারবারির হোতা খায়ের ও কাশেম মোহনপুর মেঘনা নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আসা এম টি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে ১৬০ বেরেল পানিস অয়েল (কালো তেল) স্টিল বডি ট্রলারে উঠিয়ে পাচার করে।
সেই চোরাই মাল মঙ্গলবার সকালে দাউদকান্দি দিয়ে উঠিয়ে পরে ট্রাক যোগে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করে।

এই চোরাকারবারির খায়ের ভূঁইয়া এমটি ছামিয়া ২ লাইটার জাহাজ থেকে চোরাই মাল পাচার করার ঘটনায় চট্টগ্রামের মালিকপক্ষ তার নামে মামলা দায়ের করেন। চট্টগ্রামের খায়ের ভূইয়া দুটি মামলার আসামি হয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছে।

দ্বিতীয় চোরাকারবারি কাশেমের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়। সে চাঁদপুর কাঁচা কলোনি এলাকায় বসবাস করে নদীতে চোরাই মাল ক্রয় করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে। নদীর এই চোরাকারবারীকে বাঁচাতে স্থানে কিছু দালাল চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই দুই চোরাকারবারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নদী থেকে চোরাকারবারি অনেকাংশে কমবে ও দেশের সম্পদ রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments

Check Also

সৌদি আরবে মতলবের মামা-ভাগিনাসহ ৩ প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : সৌদি আরবের তায়েফ শহরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মামা-ভাগিনাসহ তিন প্রবাসীর …

Shares
vv