ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরে চাঁদাবাজি ভূমি দখল ও টাকা আত্মসাৎ করে হোসাইন কোটিপতি, থানায় অভিযোগ

চাঁদপুরে চাঁদাবাজি ভূমি দখল ও টাকা আত্মসাৎ করে হোসাইন কোটিপতি, থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে বিএনপির থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হোসাইন বেপারী ওরফে হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক অভিযোগ।
সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষিপুর মডেল ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক নেতা এই হোসেন বেপারী আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভূমি দখল, মানুষের টাকা আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ধ্বংস করে দেওয়ার গভীর পাঁয়তারা লিপ্ত রয়েছে। এই হোসাইন বেপারীর রয়েছে একটি বড় সন্ত্রাসী বাহিনী যাদের মাধ্যমে এসব অপকর্ম সংঘটিত করে নিজে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নামে-বেনামে, স্ত্রীর নামে চাঁদপুর শহর ও গ্রামে প্রতারণা করে ধোকা দিয়ে অন্যের শত শত একর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষিপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খানের কেয়ারটেকার হিসেবে থেকে কাজ শুরু করে এই হোসেন বেপারী। তারপর থেকেই চেয়ারম্যানের নাম বিক্রি করে অপকর্মের সাথে জড়িয়ে তার মান সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চালান।
চেয়ারম্যান সেলিম খান তাকে বুকে টেনে নিলে পরবর্তীতে তার চোখের আড়াল হয়ে সেলিম খানের ব্যবসা থেকে প্রায় কোটি টাকা সরিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে রক্ষিত রাখেন। টাকা আত্মসাৎ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই কেয়ারটেকার হোসেন বেপারী। সেই টাকায় নদীতে বালুর বলগেট, আনলোড ড্রেজার, স্পিড বোর্ড বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি ক্রয় করে এই অনুপ্রবেশকারী’ হোসেন বেপারী। তার এই ব্যাংক ব্যালেন্স ও শত শত একর সম্পত্তির মালিক হওয়া এবং চেয়ারম্যানের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তার মুখোশ উন্মোচন হতে শুরু করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বেপারী বাড়ির হারুন বেপারী ছেলে হোসাইন ওরফে হোসেন বেপারী একসময় যুবদলের নেতা ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দল পরিবর্তন করে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আওয়ামী লীগে যোগ দেয় হোসেন বেপারী। তার আত্মীয় স্বজন সবাই বিএনপির সাথে জড়িত রয়েছেন। তাদেরকে রক্ষা করতেই মূলত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হোসেন বেপারী। সে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হতে অবৈধ পন্থায় টাকা উপার্জন করতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দফায় দফায় তাদের উপর হামলা চালায় এই হোসাইন বেপারী।
সর্বশেষ তার সকল অপকর্ম ও মুখোশ উন্মোচন হওয়ার পর চেয়ারম্যান সেলিম খান তাকে কাছ থেকে সরিয়ে দিলে লক্ষ্মীপুর ও বহরিয়া এলাকার ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষরা মসজিদে মিলাদ পড়ান ও মিষ্টি বিতরণ করেন। তারপরেও থেমে নেই এই অনুপ্রবেশকারী’ হোসেন বেপারী, সে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।
সর্বশেষ রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে নিজের ব্যক্তিগত একটি অফিস নির্মাণ করে হোসেন। সেখানে রাতভর চলত জুয়ার আড্ডা ও বিভিন্ন অপকর্ম। সেই অফিসটি হোসেন নিজেই রাতের আধারে কয়েকটি চেয়ার ভেঙ্গে ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন সুমন খানের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়।
যুবলীগ নেতা এই সুমন খানের নামে শহরে বিভিন্ন জায়গায় পার্টি অফিস ভাঙচুর করার অপপ্রচার চালিয়ে পোস্টারিং করেন এই চক্রান্তকারী হোসেন বেপারী। এই ঘটনায় সুমন বেপারি বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মডেল থানা তদন্ত ওসি হারুনুর রশীদকে। এই অনুপ্রবেশকারী সাবেক যুবদল নেতা হোসেন বেপারীর বিরুদ্ধে থলের বিড়ালের মত বেরিয়ে আসতে শুরু করে একের পর এক অপরাধের ঘটনা।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনুসন্ধান চালিয়ে হোসেন বেপারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সচেতন মহল।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরের মৈশাদীতে ফরিদুল্লা পাটওয়ারীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদীতে ফরিদ উল্লা পাটওয়ারী নামে এই ব্যাক্তির মিথ্যা মামলায় ও …

vv