ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরে করোনা শনাক্তের ৬ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩১৭ : প্রাণ হারিয়েছে ৭৭ জন

চাঁদপুরে করোনা শনাক্তের ৬ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩১৭ : প্রাণ হারিয়েছে ৭৭ জন

মাসুদ হোসেন : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। দেশে করোনায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৬০ জন মানুষ মারা গেছে। আর আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার। চাঁদপুরেও করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে পারেনি। গত ৮ মার্চ দেশে তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার ঠিক একমাস পর গত ৮ এপ্রিল চাঁদপুরে প্রথম ১ জনের শরীরে মহামারী এই ভাইরাস ধরা পড়ে। আর এটি হয় মতলব উত্তর উপজেলায়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩১৭ জনে। এই সময়ে পুরো জেলায় করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা কমলেও নমুনা সংগ্রহ-পরীক্ষা ও সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার  সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কোন মৃত্যু না হলেও করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৭ জনে। এছাড়া নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১৭ জনে।
জেলায় গত ৮ এপ্রিল থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ মাসে ১১ হাজার ৪৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ২ হাজার ৩১৭ জনের করোনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৩২ জন। বাকী ১০৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৬ মাসে জেলায় মৃত ৭৭ জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ২২, ফরিদগঞ্জে ১১, হাজীগঞ্জে ১৭ জন, শাহরাস্তিতে ৭ জন, কচুয়ায় ৬ জন, মতলব উত্তরে ১০ জন, মতলব দক্ষিণে ৩ জন ও হাইমচরে ১ জন। আক্রান্ত ২ হাজার ৩১৭ জনের উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ৯শ’ ৩৬, হাইমচরে ১৫২, মতলব উত্তরে ১৯৫, মতলব দক্ষিণে ২৬২, ফরিদগঞ্জে ২৬১, হাজীগঞ্জে ১৯৯, কচুয়ায় ৮৫, ও শাহরাস্তিতে ২২৭ জন।
এদিকে চাঁদপুরে করোনা শনাক্ত হওয়া শুরু করে প্রথম সাড়ে ৩ মাসের মতো আক্রান্তের হার বেশী থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে। এর কারন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চাঁদপুরে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার স্থাপনের আগ পর্যন্ত এই জেলার স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতো। আর ডাকা থেকে রিপোর্ট আসতে এক সপ্তাহ থেকে ১০-১২ দিন সময় লেগে যেতো।
এই সময়েই সংক্রমণ বেড়ে যেতো। স্যাম্পল দেয়ার পর রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মানুষ অবাধে চলাচল করতো। আর তা থেকেই সংক্রমণ বাড়তো। কিন্তু ২৮ জুলাই থেকে যখন চাঁদপুরে স্যাম্পল পরীক্ষা করার কাজ শুরু হয়ে গেলো, তখনদিনের রিপোর্ট দিনেই পাওয়া যায়। ফলে আক্রান্ত রোগীকে ১০-১২ ঘন্টার মধ্যেই রিপোর্ট জানিয়ে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে করে তার থেকে আর কেউ সংক্রমিত হলো না। এভাবেই চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে।
Facebook Comments

Check Also

এনজিও কর্মীদের কিস্তির চাপে দিশেহারা চাঁদপুরের ঋণ গ্রহীতারা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : দেশে চলমান করোনা মহামারিতে নানা পেশার শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সাধারন …

vv