ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে করোনা মহামারীর স্বরণীয় একবছরে চলে গেলো ৯৫ প্রাণ

চাঁদপুরে করোনা মহামারীর স্বরণীয় একবছরে চলে গেলো ৯৫ প্রাণ

*আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৬৩ জন
*১ম আক্রান্ত ব্যক্তি মতলব উত্তরে (৯ এপ্রিল ২০২০)
*১ম মৃত ব্যক্তি চাঁদপুর সদরে (১১ এপ্রিল ২০২০)
*স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান সিভিল সার্জনের

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে মহামারি করোনার এক বছর বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পূর্ণ হয়েছে। গত বছরের ৯ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৯১৬ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৫২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ১৯ ও হোম আইসোলেশনে ৪৩৩ জন।
জেলায় গত বছরের ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রথম একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি গত বছরের ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামে আশ্রয় নেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল ঐ বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ওই ব্যক্তির শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।
৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সেখান থেকে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এদিনই চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করেন জেলা প্রসাশক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। এরপর প্রথম শনাক্তের ২ দিনের মাথায় ১১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় প্রথম মৃত্যু ঘটে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা গ্রামে। এর আগে ১ এপ্রিল নিহত ফয়সাল আহমেদ সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আসলে ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে মারা যান। এরপর থেকেই প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এছাড়াও ক্রমান্বয়ে প্রাণহানির ঘটনা তো ঘটছেই।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে, গত বছরের ৯ এপ্রিল চাঁদপুরে করোনাভাইরাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হলে ২ মাস পর ৮ জুন তা ২৭৭ জনে যায়। এর ঠিক তিন মাস পর ৭ সেপ্টেম্বর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ১৭১ জনে। এর পরের এক হাজার রোগী শনাক্ত হয় ছয় মাস ২৬ দিনে অর্থাৎ চলতি মাসের ১ এপ্রিল পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়ায় তিন হাজার।
সর্বশেষ এর সাত দিন পর ৮ এপ্রিল অর্থাৎ এই এক বছরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ জন। ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন শনাক্ত হয়েছে ৫২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ২৫ জন। চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ৩ হাজার ৪৬৩ জনের উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ১ হাজার ৫৮০, হাইমচরে ১৯৪, মতলব উত্তরে ২৫৪, মতলব দক্ষিণে ৩৩৭, ফরিদগঞ্জে ৩৬৬, হাজীগঞ্জে ৩১২, কচুয়ায় ১২২, ও শাহরাস্তিতে ২৯৮ জন। আর জেলায় মৃত ৯৫ জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৩২, ফরিদগঞ্জে ১৪, হাজীগঞ্জে ১৭ জন, শাহরাস্তিতে ৯জন, কচুয়ায় ৬ জন, মতলব উত্তরে ১১ জন, মতলব দক্ষিণে ৫ জন ও হাইমচরে ১ জন।
চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্র মতে, জেলায় এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ১১৩ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৪ হাজার ৯৩৯ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে  ২ হাজার ১৭৪ জন। পাশাপাশি এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২ হাজার ৫৯৭ জন। আর ছাড়পত্র নিয়েছেন ২ হাজার ৫৫৪ জন। বর্তমানে আছেন ৪৩ জন।
জানা যায়, চাঁদপুরে করোনা শনাক্তের প্রথম দিকে জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকলেও পরবর্তীতে গত বছরের ২৭ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ও তার বড় ভাইয়ের বদান্যতায় ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়। এর পরদিনই এই ল্যাবে ২১ জনের করোনা স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে একটি বিষয় হচ্ছে চাঁদপুর জেলায় করোনা শনাক্তের একবছর পূর্তির শেষ দিন (৮ এপ্রিল) করোনা টিকার ২য় ডোজ প্রদান শুরু হয়েছে। এবং প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৭ হাজারেরও বেশী মানুষ।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতে দৈনিক চাঁদপুর খবরকে বলেন, গত বছরের ৯ এপ্রিল মতলব উত্তর উপজেলায় চাঁদপুর জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এবছরের ৮ এপ্রিল তা এক বছরে পূর্ণ হয়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে জেলায় আক্রান্তের হার ২০ শতাংশের উপরে। আর মৃত্যুর সংখ্যাও সারাদেশের তুলনায় অনেক বেশী। এমতাবস্থায় সকলে স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া কোন উপায় নেই। যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তারা যেন দ্রুত করোনার পরীক্ষা করে নেন এবং আইসলেশনে থাকার জন্য অনুরোধ জানান জেলার এই সিভিল সার্জন।
তিনি আরো বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আন্তঃজেলা যোগাযোগ বন্ধ হলে এবং যথাযত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে জেলায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেকটা কমে আসবে।
Facebook Comments

Check Also

ক্ষুধার্ত-অসহায় পথচারীদের জন্য বিনামূল্যে ফ্রিজে খাবার বিতরণ

মনিরামপুরে অসহায় ক্ষুধার্ত পথচারীদের জন্য রাস্তার ধারে ফ্রিজ দিলেন আলী রেজা রাজু। আপনি যদি ক্ষুধার্ত …

Shares
vv