ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চাঁদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খানের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস, আদালতে মামলা

চাঁদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খানের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস, আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১ নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাশেম খানের নারী কেলেঙ্কারির অবশেষে ঘটনা ফাঁস হয়েছে। আর,ই,আর,এম,পি প্রকল্পের সরকারি টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাশেম খান গ্রাম পুলিশের ২য় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩০)কে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার হওয়া মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে নারি ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাশেম খান প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে না দিয়ে চরফতেজংপুর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের ভিতরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ও শরীলের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেয়। এই ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিত নারী।

এই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খানের বিরুদ্ধে জেলাপ্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএসবি, এনএসআই সহ সকল প্রসাশনিক দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে এ সকল বিষয় মিথ্যা ও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খান।

এদিকে মামলার এজাহারে ধর্ষিতা নারী উল্লেখ করেন, তার স্বামী আমজাদ মোল্লা মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সিদ্দিক খানের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

৪ সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করার কারণে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাশেম খান এর শরণাপন্ন হই। ইউনিয়ন পর্যায়ে আর,ই,আর,এম,পি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ জন করে মহিলা নামের তালিকা দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। সেই তালিকায় চেয়ারম্যান কাশেম খান বাদি মনোয়ারা বেগমের নাম দিলেও ৮ মাস যাবত কাজ না করে সেই ৪১,৬০০ টাকা কাশেম খান নিজেই তুলে নেয়। ১০ জন মহিলার মধ্যে ছয়জন কাজ করলেও বাকি চারজনের মাসে ২০ হাজার ৮০০ টাকা চেয়ারম্যান কাশেম খান নিজে আত্মসাৎ করেন। চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চাইলে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি চরফতেজংপুর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় আসতে বলে। তার কথামতো ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে গেলে রাতে দরজা আটকে ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।এই ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং যখন ডাক দিবে তখনই আসতে হবে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে দরজা আটকে মেঝেতে ফেলে পুনরায় ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। কাশেম খান শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এসময় তার সাথে বাকবিতন্ডা হলে সে দরজা আটকে মারধোর করে জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে ও এই ঘটনা কাউকে জানালে সন্তানসহ ধর্ষিতা নারীকে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দেয়।

এই ঘটনাটি নারী মনোয়ারা বেগম দ্বিতীয় স্বামী সিদ্দিক খান জানতে পেরে চেয়ারম্যান কাশেম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে তাকেও হুমকি দেয়।
এই লম্পট প্রতারক নারী নির্যাতনকারী ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খান এই রকম অনেক যুবতী মহিলাদের একই কায়দায় নির্যাতন করে জীবন শেষ করে দিয়েছে। তার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

সর্বশেষ রবিবার শারীরিক নির্যাতন করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার পর চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়।

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাসেম খানের ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।
এই লম্পট নারী নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানান নির্যাতিত নারী।

Facebook Comments

Check Also

সুনামগঞ্জে ইউএনও-এর নম্বর ক্লােন করে টাকা দাবি

রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ : জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান-এর সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লােন করে …

Shares
vv