ব্রেকিং নিউজঃ
Home / তথ্যপ্রযুক্তি / চাঁদপুরে আশংকাজনক হারে বাড়ছে অনলাইন গেমস আসক্তের সংখ্যা

চাঁদপুরে আশংকাজনক হারে বাড়ছে অনলাইন গেমস আসক্তের সংখ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনায় মহামারী থেকেও ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে অনলাইন গেমসে আসক্ত তরুণদের কর্মকান্ড। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে, ব্রীজের উপর কিংবা খালি মাঠে দলবদ্ধ হয়ে তারা সকলেই পাবজি, ফ্রি ফায়ার, তিন পাত্তি নামক অসংখ্য খেলা অনলাইনের মাধ্যমে খেলছেন৷ এতে করে অনলাইনের প্রতি আসক্তি বাড়ছে সকল শিক্ষার্থী তথা বেকার তরুণ সমাজের। কেউ কেউ অনলাইনে বিভিন্ন অফার ক্রয় করার মাধ্যমে খেলায় টাকা ঢালছে অবলীলায়। পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই অভিমান করে আত্নহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের একটি গ্রামে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য মতে অক্টোবর-২০২০ পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১০ মিলিয়ন, যার মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০২ মিলিয়ন। যা বছরের শুরুতে ছিল ৯৯ মিলিয়ন এবং তার মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৩ মিলিয়ন। ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন গেমের প্রচার-প্রসার।

বর্তমানে স্মার্টফোনের সহায়তায় নতুন প্রজন্ম আসক্ত হয়ে পড়েছে অনলাইন গেম নামের এক করুণ নেশায়। করোনার মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় ফাঁকি দিয়ে গেম খেলছে তারা। মাদকাসক্তির মতোই অনলাইন গেম বর্তমান তরুণদের গ্রাস করে ফেলছে। পূর্বে বাচ্চারা অবসর সময়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়াতো, বই পড়তো কিংবা ছবি আকতো। অথচ সেই সংস্কৃতি–সভ্যতার চর্চাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা এখন অনলাইনভিত্তিক গেমগুলোকে আপন করে নিচ্ছে। এতে করে বিলুপ্তি হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চার৷ আমরা অর্থব এক জাতির দ্বারপ্রান্তে নিজেদেরকে নিয়ে যাচ্ছি। এর দায়ভার আমাদের সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির। পিতা-মাতা, আত্নীয়, শিক্ষক, সমাজের অধিপতিরাই দায়ী এর জন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রকৃতপক্ষেই সন্তানরা আজ শিক্ষা থেকে দূরে থাকলেও বাবা ও মায়ের অসতর্ক মনোভাবে সন্তানগুলো আজ দিশেহারা ভাবে সমাজের এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমাজের অধিপতিরা বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন৷ শিক্ষক সমাজ শুধু দায়সারা কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন৷ কত জনই বা দায়িত্ব নিয়ে বিপথ থেকে ফেরাচ্ছেন এই অনলাইন আসক্ত সন্তানদের? মাদকের মতো আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর শিশু, যুবক ও তরুণ সমাজ।

শীঘ্রই উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সকল শ্রেনি-পেশার ভুক্তভোগী জনগন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল বলেন, ক্রমাগত এই অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তির কারণে অন্য কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলোতে চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। বিচ্ছিন্নতা ভাব তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা এ আসক্তিকে মনঃস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন দেশ গঠনের হাতিয়ার তরুণ সমাজ অনলাইন ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে বাস্তব জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজেদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার নতুন করে আরো ২১ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে একদিনে নতুন করে আরো ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৬৫ জনের …

Shares
vv