ব্রেকিং নিউজঃ
Home / অর্থনীতি / চাঁদপুরের সেই ফ্রুটস্ ভ্যালিতে এবার চাষ হচ্ছে ১৫ জাতের বিদেশী আম

চাঁদপুরের সেই ফ্রুটস্ ভ্যালিতে এবার চাষ হচ্ছে ১৫ জাতের বিদেশী আম

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলীতে পরিত্যক্ত ইটভাটায় চাষ হচ্ছে নানা জাতের বিদেশি আম। এ আম দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক খেতেও ভারি মিস্টি।
উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিনের পরিচালিত ‘ফ্রুটস্ ভ্যালি’ তে পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বখ্যাত পনেরো জাতের রসালো আমের চাষ করে এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই পনেরো জাতের বিদেশী আমগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়ান ক্যানসিংটন প্রাইড, কিং অব ম্যাংগো আলফোনসো, বিশ্বের সবচেয়ে দামি এ্যগ অব দ্য সান (সূর্যডিম), কিং অব চাকাপাত, মিয়াজাকি, চিয়াংমাই, আমেরিকান কেন্ট, কাটিমন, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্ল্যাকস্টোন, থ্রিটেষ্ট, নামডকমাই, ব্যানানা ম্যাংগো, অস্ট্রেলিয়ান হানিগোল্ড এবং ম্যাক্সিকোর আনকমন আটাফালফ ম্যাংগো।
উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি, যুক্তরাষ্ট্র, ম্যাক্সিকো এবং ইউরোপের বিখ্যাত কিছু উন্নতজাতের আম গাছের দেড় বছর বয়সী গ্রাফটিং গাছে সফল ফলন হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে, এদেশের আবহাওয়ায় বিশ্বখ্যাত এসব আমের বানিজ্যিক চাষ সফল হবে। আমরা প্রথম বছর হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও আশা করছি, ফ্রুটস্ ভ্যালির মাধ্যমে আগামী মৌসুুুমে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ফ্রুটস্ ভ্যালি এগ্রোতে বিশ্বখ্যাত এসব আমের বাম্পার ফলন হবে। এবং সারা দেশে এসব আম ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছেন এই উদ্যোক্তা।
এছাড়াও ‘ফ্রুটস্ ভ্যালি’ নামের এই অ্যাগ্রো প্রকল্পে প্রথমবারেই বাম্পার ফলন হয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ফলের। ফ্রুটস্ ভ্যালি অ্যাগ্রোতে প্রথম ফসল হিসেবে চাষ করা বিখ্যাত রকমেলন, মাস্কমেলন, হানিডিউ ও আইসবং ইয়েলো নামের হলুদ তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এরপর চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন চেরি টমেটো। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো পারিবারিক দুটি লাভজনক ইটভাটা বন্ধ করে সেই রুক্ষ জমিতে বিদেশি ফল ফলিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। দুর্লভ জাতের বিভিন্ন আম, পারসিমন, ব্লাড অরেঞ্জ, গ্রেপ ফ্রুটস, হলুদ ও লাল ড্রাগন ফল, নতুন জাতের মালটা, কমলা, স্ট্রবেরিসহ বিখ্যাত ক্যান্টালোপ বা রকমেলন চাষ হচ্ছে সেখানে। ইটখোলার এই জমিতে এমন ফলন দেখে হতবাক হয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বালিতে বিদেশের এই দুর্লভ জাতের আম চাষ ছিল আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই চ্যালেঞ্জকে সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। হেলাল ভাই যেহেতু একজন নান্দনিক কৃষি উদ্যোক্তা তার স্বপ্নের কাজগুলোকে এবং তার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের প্রাণান্তর চেষ্টাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। ইনশাল্লাহ আগামী বছরই এই দুর্লভ জাতের আম গুলো এবং এর চারা কলম সারাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
Facebook Comments

Check Also

মতলব উত্তর থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিন্দা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল এর বিরুদ্ধে সামাজিক …

Shares
vv