ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরের সাবেক এমপি এমএ মতিন বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টেনে রেখে গেলেন স্মৃতি

চাঁদপুরের সাবেক এমপি এমএ মতিন বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টেনে রেখে গেলেন স্মৃতি

স্বপন কর্মকার মিঠুন : কতোজনে কতো কি না করে। মৃত্যুর পর তার বেঁচে থাকা জীবনের অনেক সুখ -দুঃখ আর হাসি আনন্দ কষ্টময় জীবনের ইতি টেনে কিছু কিছু স্মৃতি রেখে চলে যান না ফেরার জগতে। তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো কেউ মনে রাখেন আবার কেউ ভূলে যান। আসলে এটা প্রকৃতির নিয়তি। সৃষ্টিকর্তার সৃজিত এইজগৎ আসলে মানব জাতির জন্য ক্ষণস্থায়ী।

ক্ষণস্থায়ী জগৎ ছেড়ে আপন ভূবনে চিরকালের জন্য চলে গেলেন চাঁদপুর-৫ আসনের হাজিগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকার বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মতিন। তাঁর অভাবে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে শূণ্যতা বিরাজ করছে।

সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মতিনের প্রায় ৪৫ বৎসরের রাজনৈতিক জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছুই ছিলো না। তিনি একজন সংগঠক, কর্মীবান্ধব, জনবান্ধব এবং বিচক্ষন সম্পন্ন ও সাদামাঠা প্রকৃতির ব্যক্তি ছিলেন। দুই উপজেলার কোন ইউনিয়নের কোন গ্রামের কোন কর্মী বা নেতার বাড়ি তা নামসহকারে বলে দিতে পারতেন, সুখেদুঃখে এলাকার লোকদের খোঁজখবর রাখতেন। প্রতিটি গ্রাম মহল্লার স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কর্মকান্ড ছিলো তার নখে দপর্ণে । কোনাে কাজে তাকে ফাঁকি দেওয়া ছিলো গুড়েবালি। মুহুর্তেই বলে দিতে পারতেন কোন রাস্তার কাজ হয়নি, কোন ব্রিজ হয়নি, কোন বরাদ্ধের কাজ এখনো ঝুলে রয়েছে, কোন দপ্তরে ফাইল আটক রয়েছে তা দ্রুত বলে দিয়ে সমাধানের পথ বাহির করতে তেমন সময় নিতেন না তিনি।

ধর্ম,বর্ণ, দলের ভেদাবেদ ছিলোনা তার কাছে। তিনি সকলকে সৃষ্টির সেরাজীব মানুষ বলে বিবেচনায় নিয়ে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি মানব সেবায় ব্রত হয়ে সমাজের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের লক্ষে নিঃসার্থ ভাবে কাজ করেই গেলেন, বিনিময়ে মানুষের ভালোবাসা আর সম্মান পেয়ে আত্মতৃপ্তিতে সন্তুষ্ট থাকতেন। তার রাজনীতি জীবনে বহু সফলতা রয়েছে যা সংক্ষিপ্ত সময়ে লিখে শেষ করা যাবে না।

চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলার টোরাগড়ে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তাঁর বাবা সাহেব জুনাব আলী পাকিস্থান আমলে এম.এল.এ ছিলেন। শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু হয়ে ছিলো মতিন স্যারের। তিনি ১৯৭৯ হতে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হাজিগঞ্জ পাইলট হাইস্কুলে (বর্তমান হাজিগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজ) সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন।

তারও পূর্বে তিনি শিক্ষকতার পাশা পাশি জনগনের কাছে যেতে হাজিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে প্রথম জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে নিজেকে জানান দেন। এরপর সততা, নিষ্ঠা, জনপ্রিয়তা আর সাংগঠনিক নেতৃত্বের মহিমায় হাজিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।

এবার আসাছি তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থানের কথায়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ১৯৭৯ সালে সাবেক কুমিল্লা-২৩ সংসদীয় আসন (বর্তমান চাঁদপুর-৫ আসন) হাজিগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকা হতে জাতীয়তাবাদী দলের টিকেট পেয়ে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন।

এর পর ১৯৯১-১৯৯৬, ১৯৯৬ ফেব্রুয়ারী হতে জুন পর্যন্ত এবং ২০০১-২০০৬ মোট চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনসাধারণের মাঝে অমর হয়ে থাকেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি সংসদীয় এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ সামাজিক, রাজনৈতিক পর্যায়ে বহু দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। যা হাজিগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণের হৃদয়ে চিরস্বরনীয় হয়ে থাকবে তিনি।

এমন মানবহিতৈষি ব্যক্তির মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক, ব্যবসায়ী মহল, সাংবাদিক নেতারা শ্রদ্ধার সহিত শেষ বারের মতো বিদায় জানান তাঁকে। তিনি আজকের সমাজ ব্যবস্থার সামনে দপর্ণ। তাঁর বণাঢ্য জীবন অনুকরণীয় দৃষ্টান্তরূপে সবাইর মাঝে বিরাজ করুক এমন প্রত্যাশাই করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তি ইউএনও শিরিন আক্তারের কর্মদক্ষতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা ইউএনও শিরিন আক্তার তার কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন …

vv