ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরের মাঠ প্রশাসন সামলাচ্ছেন ৭ নারী

চাঁদপুরের মাঠ প্রশাসন সামলাচ্ছেন ৭ নারী

অমরেশ দত্ত জয় : চাঁদপুরের মাঠ প্রশাসন সামলাচ্ছেন ৭ নারী। যাদের পরিশ্রমে সফলভাবে কর্মসম্পাদন করছে উপজেলা প্রশাসন।

১৬ নভেম্বর শনিবার এক তথ্যে দেখা যায়, জেলার চাঁদপুর সদরে কানিজ ফাতেমা, মতলব দক্ষিণে ফাহমিদা সুলতানা, মতলব উত্তরে শারমিন অক্তার, ফরিদগঞ্জে সাজিয়া পারভিন, হাজীগঞ্জে বৈশাখী বড়ুয়া, শাহরাস্থিতে শিরিন আক্তার এবং হাইমচরে ফেরদৌসী আক্তার সহ মোট ৭টি উপজেলা প্রশাসনে তারা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চাঁদপুরে নারী ইউএনওদের কর্মজীবন সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুরে সর্বশেষ যোগ দেন ফরিদগঞ্জের ইউএনও সাজিয়া পারভিন। তিনি এর আগে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন। তাঁর নিজ জেলা কুমিল্লা।

শাহরাস্তির ইউএনও শিরিন আক্তার আগে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৩১তম বিসিএস ক্যাডার। ইউএনও শিরিন আক্তার ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও এক সন্তানের জননী।

চাঁদপুর সদরের ইউএনও হিসেবে ২০১৬ সালের ৮ জুন যোগদান করেন কানিজ ফাতেমা। এর আগে তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে সিনিয়র সহকারি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৯তম বিসিএসের প্রশাসনে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি যোগদান করেন। কানিজ ফাতেমার জন্মস্থান নওগাঁ।

হাইমচরের ইউএনও ফেরদৌসী বেগম গত ১৫ এপ্রিল যোগদান করেন। এর আগে তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সহকারি কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফেরদৌসী বেগম ৩০তম বিসিএস ক্যাডারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি বলেন, আমি সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক কাজ করে যাবো।

হাজীগঞ্জের ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া। এর আগে তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেড় বছর আগে তিনি ইউএনও হিসেবে হাজীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নেতৃত্বের প্রসারের চাঁদপুর একটি অনন্য উদাহরণ। সকল নারীরাই মাঠ প্রশাসনে তাদের দায়িত্ব অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পালন করছেন। তাছাড়া ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর সমৃদ্ধ একটি জেলা। এ জেলায় ইউএনও হিসেবে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত।

মতলব দক্ষিণের ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মতলব দক্ষিণের জনগণের সাথে কাজ করতে পেরে আমি যথেষ্ট খুশি। সরকার যেভাবে নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে আনছে, তাতে আমার মনে হয়। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বে প্রথম হবে। আমরা মেয়েরা সবাই এতে সাহস পাচ্ছি। তাই কোন রকম বেগ পাওয়া ছাড়াই নিষ্ঠার সাথে কাজ করছি।

মতলব উত্তরে ইউএনও শারমিন আক্তার গত বছরের ২৯ জুন যোগদান করেন। যোগদানকালে তিনি মতলব উত্তর উপজেলাকে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, দেশে নারীর ক্ষমতায়নে চাঁদপুর জেলা এক দৃষ্টান্ত। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সাথে সামাজিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্ননয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কেননা দেশের অর্ধেক নারীকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দেশের নারীদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রেখেছেন।

আমি জেলার মাঠ প্রশাসনের সব ইউএনওদের সফলতা কামনা করছি।

Facebook Comments

Check Also

মতলবে যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন : উচ্চ শব্দ কাড়ছে শ্রবণশক্তি

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দে এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মোটরসাইকেল, …

vv