Home / অপরাধ / চাঁদপুরের চান্দ্রায় আটক ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী মুচলেকায় মুক্তি

চাঁদপুরের চান্দ্রায় আটক ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী মুচলেকায় মুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মাদক সম্রাট সিদ্দিক বকাউল সহ তিনজনকে ইয়াবা সেবন কালে পুলিশ আটক করে থানায় এনে ১৫ ঘণ্টা পর মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে রুপম পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ানের ভাগিনা হাওয়ায় মডেল থানার পুলিশ অবশেষে বুধবার বিকেলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। চাঁদপুর মডেল থানার এএসআই মেজবা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে চান্দ্রা ইউনিয়নের মদিনা মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ইয়াবা সেবন ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক সম্রাট সিদ্দিক বকাউল মদনা গ্রামের মদিনা মার্কেট এলাকায় অবস্থান করে।
এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশ সেখানে হানা দেয়। সিদ্দিক বকাউলের সাথে তার সহযোগী মুনসুর রাঢ়ি ও রুপম পাটোয়ারীকে মাদক সেবনের দায়ে আটক করে পুলিশ।

তাদেরকে থানায় নিয়ে আসার পর ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা পুলিশকে ম্যানেজ করে তকদির বাণিজ্য চালাতে থাকে। সাংবাদিকরা খবর পেয়ে থানায় গেলে ওই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন ও পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দিবে বলে জানান। তারা তিনজন আটক হওয়ার পর চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাছিম উদ্দিন তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে মদিনা মার্কেট এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় সন্দেহজনক ভাবে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তাদেরকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, চান্দ্রা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিদ্দিক বকাউল একজন মাদক বিক্রেতা। সে এলাকার যুব সমাজের হাতে মাদক তুলে দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সে সময় আখন ঘাট মাছের আড়ৎ এ বরফ বিক্রি করতো। তারপরে সমিতি ব্যবসা দিয়ে প্রতারণা করে মানুষের টাকা আত্মসাৎ পর মাদক ব্যবসায় টাকা লাগিয়ে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাগিনা রুপম পাটোয়ারী। উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে তার ভাগিনা রুপম পাটোয়ারী মাদক বিক্রেতাদের শেল্টার দিচ্ছে ও অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন রাতে রুপম পাটোয়ারী ও সিদ্দিক বকাউল ‌ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে তাদেরকে মাদকসহ আটক করলেও রাজনৈতিক নেতা এবং চেয়ারম্যানের সুপারিশের কারণে আটক তিন জনকে ছেড়ে দেয়।

মাদক ব্যবসায়ী আটকের পর আদালতে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মাদকের আশ্রয়দাতা ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দিন দিন এর প্রবণতা বেড়ে যাবে। ধ্বংস হয়ে যাবে যুব সমাজ। তাই এদেরকে কোন অবস্থাতেই ছাড় না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments

Check Also

সড়কে একসঙ্গে একই পরিবারের ছয়জন লাশ, কান্নার রোল

মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একই পরিবারের নিহত ছয়জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার (৪ …

Shares
vv