ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / চাঁদপুরের এক সময়ের পাট ব্যবসায়ী এখন হাড়ের চিকিৎসক !

চাঁদপুরের এক সময়ের পাট ব্যবসায়ী এখন হাড়ের চিকিৎসক !

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর শহরের পাশেই ৬ নং মৈশাদী  ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার চৌধুরী দিঘীর উত্তর পাড়ের একসময়ের পাট ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজুল ইসলাম এখন হাড় ভাঙ্গার মস্তবড় চিকিৎসক। প্রতারনার মাধ্যমে পরিবারের সবাই মিলে ভুয়া চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষগুলোকে জিম্মি করে হাতিয়ে  নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই ভুয়া চিকিৎসক যে ঘরে থাকেন তার বাইরে বিশাল সাইনবোর্ড। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা মৈশাদী হাড় ভাঙ্গা চিকিৎসা কেন্দ্র। নেই কোন রেজিস্ট্রেশন নম্বরও। ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে পারদর্শী নাকি তিনি? মরহুম ছাহেদ খানের স্বপ্নে পাওয়া ওষুধ দ্বারা যেকোনো হাড়ভাঙ্গা, হাড়জোড়া এবং মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া সহ সকল প্রকার চিকিৎসা করেন নাকি তিনি। সেই সাথে তার ছেলে খোরশেদ আলম মিজির এর নামে লিফলেট করে বাপ ছেলে সন্তান হওয়ার তদবির, স্বামী স্ত্রী মিলকরণ, বিয়ে হওয়ার তকদির করেন। যদিও খোরশেদ তার স্ত্রীর সাথে অমিলের কারনে প্রায় সময়ই মাইরধর করে।
বলতে গেলে নিজ বাড়িতে রীতিমত হাসপাতাল খোলে বসেছেন মোঃ সিরাজ মেম্বার।রোগী ভর্তি করে তাদেরকে ডাক্তারের মতই চিকিৎসা দেন,  রাউন্ডেও আসেন। ভেতরে যেতেই দেখা যায় স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার পরিবেশ। দিনের বেলায়ও লাইট না জ্বাললে চোখে পড়ে না কিছুই। হাত-পা ভাঙা ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যান্ডেজ। তা থেকে বের হচ্ছে গোমূত্রের তীব্র গন্ধ।
এসকল রোগীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান আমরা গরীব মানুষ তাই এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখানে আমরা সিট ভাড়া দিয়ে পাঁচ, দশ হাজার টাকার মধ্যে চিকিৎসা নিতে পারি। হাসপাতালে গেলে তো অনেক টাকার ব্যাপার তাই মানুষদের পরামর্শে আমরা এখানে এসেছি। এর মধ্যে এক রোগীর মা বলেন সিরাজ কবিরাজ আমার ছেলের ভাঙ্গা পায়ে বাঁশের চটি বেধে ছেন, ব্যথা যাতে না করে সেজন্য তিনি নিজ হাতে ইঞ্জেকশন দিয়েছেন, আর বলছেন কয়েকদিন এখানে থাকার জন্য। এভাবেই তিনি প্রত্যেক রোগীদেরকে নাকি ব্যথার ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন প্রয়োজন হলে।
সিরাজ মেম্বার কবিরাজের বিষয়ে এলাকার মানুষ দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। যখন সিরাজ মেম্বার পাটের ব্যবসা করতেন তখন তার ভাঙ্গা ঘর ছিল, বর্তমানে তিনি ভূয়া কবিরাজি চিকিৎসার নামে  অসহায় মানুষদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা। হয়ে গেলেন তিনি লক্ষ, কোটি টাকার মালিক। আলাদা নিরিবিলি পরিবেশে জায়গা ক্রয় করে হাসপাতালে আদলে গড়ে তুলছেন বিশাল অট্টালিকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাকি এই সিরাজ মেম্বারের দালাল রয়েছে, আর তাদের মাধ্যমে তার কাছে রোগী আসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। এলাকা বাসি থেকে আরো জানা যায় কয়েকদিন পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে পা ভাঙ্গা এক রোগী আসলে তাকে ২১ দিন তার কথিত হাসপাতালে রেখে ৪২ হাজার টাকা বিল করেন। যখন দেখলেন তার পা পচন ধরে ইনফেকশনস হয়ে গেছে তখন তিনি তাকে ডাক্তারি চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়ে বের করে দেন। তার কিছুদিন পরে এই রোগী টা মারা যায়।
এলাকাবাসী আরো জানান সিরাজ মেম্বার এর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও ছেলেরা তার এই কাজে সহযোগিতা করে থাকে। তাদের এই ভুয়া চিকিৎসার কারণে অনেকেরই হাত, পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তাদেরই ভুল চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যখন প্রতিবাদ করতে আসে তখন সিরাজ নাম্বারের দুই বখাটে ছেলে ও তার স্ত্রী খুব অকাট্য ভাষায় সাশিয়ে দেন। সিরাজ মেম্বারের ছোট ছেলে হাবিব বহু রোগীদের কে মারধর করেছে এরো নজির রয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজ মেম্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি একসময় পাটের ব্যবসা করতাম এখন হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসা করি। বনের গাছপালা দিয়ে আমি ওষুধ বানিয়ে হাড় ভাঙ্গা চিকিৎসা করি।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা জানতে চাইলে তিনি জানান তিনি পঞ্চম শ্রেণী পাস। তিনি আরো বলেন গেল কয়েকদিন আগে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আমার নিকট থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছে, চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের বহু লোক  চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছে। বহু ডাক্তার আছেন যারা কিনা চুপে চুপে এসে আমার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে, চাঁদপুরের হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মিলন সরকার ও আমার চিকিৎসায় ভালো হয়েছে।
চাঁদপুর শহর স্বনামধন্য অর্থোপেডিক্স ডাঃ মিলন সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান সিরাজ মেম্বার নামে কোন কবিরাজের নাম আমি এই প্রথম শুনলাম। তার নিকট আমি চিকিৎসা নেওয়া তো প্রশ্নই উঠে না। বরং তাদের মত এসকল ভুয়া কবিরাজদের কারণে সমাজের সহজ সরল নিরীহ মানুষগুলো প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তারা তাদের হাত পায়ের মারাত্মক অবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত আমাদের নিকট আসে। কিছু কিছু সময় কিছু কিছু রোগীকে বাঁচানোর জন্য হাত পা কাটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকেনা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার সানজিদা শাহনাজ বলেন সিরাজ মেম্বার চিকিৎসা আদলে যে ট্রমা সেন্টার খুলে বসেছে এসকল চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। এ গুলো অপচিকিৎসা। আমরা অতি দ্রুতই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিব।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এই সিরাজ মেম্বার ও তার পরিবার ভুয়া চিকিৎসার নামে সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তাদের ভুয়া চিকিৎসার ফলে অনেকে অকালে হারাতে হচ্ছে তাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই এই সিরাজ মেম্বার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
Facebook Comments

Check Also

আওয়ামী লীগই যেকোনো দুর্যোগ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে : রুহুল এমপি

মনিরুল ইসলাম মনির : এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতায় থেকে মানুষের …

Shares
vv