ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / চাঁদপুরের একজন জনবান্ধব সরকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন রুবেল

চাঁদপুরের একজন জনবান্ধব সরকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন রুবেল

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কর্মকর্তা আসেন-কর্মকর্তা বদলী হয়ে যান। কিন্তু এর মাঝে কোন কোন কর্মকর্তা তাদের ওপর সরকারের দেয়া অর্পিত দায়িত্ব পালন ছাড়াও সেই জনপদের মানুষ বা পরিবেশের জন্যে ইতিবাচক এমন কিছু কাজ করেন যার কারনে তারা মানুষের মনে স্থান করে নিতে পারেন। তেমনই একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হলেন, চাঁদপুর জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নূর হোসেন রুবেল। জনবান্ধব ওই কর্মকর্তার মুখোমুখো হয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রাফিউ হাসান

দেশের অন্যতম মৎস ভান্ডার ও ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর হোসেন রুবেল তার উপর অর্পিত দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করে যাচ্ছেন। চাঁদপুরে রেগুলার অফিসার হিসেবে যোগদানের পর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অফিসের কার্যক্রমে যেমন গতি এসেছে, তেমনি পুরো জেলার সাধারন মানুষের সেই চিরচেনা ভোগান্তিও যেন কমে গেছে।

আরও পড়ুন… চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাবে ১ লাখ ৪৫ হাজার পরিবার

এছাড়া ব্যক্তি নূর হোসেন রুবেল ভোক্তা অধিকার অফিস ও বাজারের চত্বরে পরিবেশ বান্ধব ও সৃজনশীল নানান কর্মকান্ডে তিনি ইতিমধ্যে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। যোগদানের পর থেকেই গতি পেয়েছেন দাপ্তরিক কাজের, দূর হয়েছে সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি আর হয়রানি। আমাদের দেশে যেখানে নিত্য সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জনগনের অভিযোগই কেবল শোনা যায় । যদিও তাদের মধ্যে ব্যতিক্রমও পাওয়া যায় কাউকে কাউকে। তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে জনগনের আস্থা অর্জন ও প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেন। হয়রানী থেকে মুক্তি দেন সাধারন মানুষকে, নিজের সরকারী দপ্তরকে করে তোলেন প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব।

জন্ম পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
নূর হোসেন রুবেলের জন্ম নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় । বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা, মাতা সামছুন্নাহার বেগম এর ৪ ছেলে ও ২ বোনের মধ্যে তিনি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিবারের গর্ব । বাবা-মাও চাইতেন ছেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোক। ৩৫ তম বিসিএস থেকে নন ক্যাডারে উত্তীর্ণ এই কর্মকর্তা লেখাপড়া শেষ করেছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স বিষয়ে।

চাঁদপুরে যোগদানের সময়কাল ও কর্মকান্ড সমূহঃ
চাঁদপুরে ২০১৯ এর এপ্রিল থেকে রেগুলার অফিসার হিসেবে তিনি কর্মরত আছেন। মানুষের কাছে একজন প্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন তিনি। যোগদানের পরপরই তিনি অফিসের নানা রকমের দূর্ণীতি ও ভোগান্তি যেমন দূর করে মানুষের প্রিয়ভাজন হয়েছেন তেমনি জেলার উপজেলা পর্যায়ে দূর্নীতি দূর করাসহ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রেগুলার অফিসার নূর হোসেন রুবেল বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের কর্ম দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবো। আর এজন্যে সাধারন মানুষের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন ১৬১২১ এ কল করলে আমাদের সাথে কথা বলা যাবে এবং অভিযোগ দেয়া যাবে।

আলোচিত অভিযানসমূহ ও আদায়কৃত অর্থের পরিমাণঃ
অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জুন ২০ থেকে এপ্রিল ২১ পর্যন্ত ১৫৪ টি অভিযান পরিচালিত হয়। যার মাধ্যমে ১২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়।
ভোক্তাদের প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগ ২৫ টির মধ্যে ২১ টি নিষ্পত্তি জরিমানা আদায় করা হয় ২৬ হাজার টাকা। যার ২৫% ভোক্তাদেরকে দেয়া হয়৷ এই অর্থবছরে তিনি জেলাতে প্রায় ৩৫০০ লিফলেট ও ৩৫০০ পাম্পলেট বিতরণ করেছেন। তার সময়েই তিনি ১০ টি গণশুনানি ও ৩টি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। কার্যালয়ের ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

আলোচিত কার্যক্রমের খন্ডচিত্রঃ
তার সময়েই পালবাজার, বিপনি-বিতান, পুরানবাজার ও নতুনবাজার সহ উপজেলার সব বড় বাজার গুলোতে প্রায় ৮০ ভাগ দোকানে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো দেখা যায়৷ জেলার ও উপজেলা বড় বাজারগুলোতে ফার্মেসী দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ খুব কম পাওয়া যায়৷ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রায় প্রতিদিন বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয় । তিনি সরকারী বন্ধের দিনেও শুক্রবার ও শনিবারে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন কৃতিত্বের সাথে। করোনার লকডাউনে প্রতিদিন অভিযান করেছেন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই।

যাদের অবদানের তিনি আজ সক্রিয় ও সফল কর্মকর্তাঃ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব বাবলু কুমার সাহা, পরিচালক জনাব শামীম আল মামুন, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক জনাব ফয়েজ উল্লাহের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনা মোতাবেক এবং জেলা প্রশাসক জনাব অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার জনাব মিলন মাহবুবের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।

আরও পড়ুন… সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন কচুয়া থানার ওসি মোঃ মহিউদ্দিন

কিভাবে একজন ভোক্তা অভিযোগ করতে পারবেন এবং তা নিষ্পত্তি হয়ঃ
ভোক্তা অধিদপ্তরে তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে কোন টাকা লাগেনা,উকিল লাগেনা,অভিযোগ নিষ্পত্তিতে শুনানিতে কোন খরচই লাগেনা,নেই কোন ফরম ফি৷ এভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে অনেক ভোক্তা ক্ষতিপূরণ, জরিমানার ২৫% সহ খুব সন্তুষ্টি নিয়ে ঘরে ফিরেন৷ ভোক্তাদের এমন সন্তুষ্টি সেবা গ্রহীতার মতামত রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ইদানিং অনেকে অনলাইনে প্রতারিত হচ্ছে, তাদের কার্যালয় তারও প্রতিকার দিয়ে আসছে। কোন প্রকার হয়রানি, সময় ক্ষেপণ ছাড়া,আর্থিক লেনদেন ছাড়া স্বচ্ছভাবে এই অধিদপ্তরের সব কার্যালয় নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে৷

জনবল ও যানবাহন সংকটের কার্যক্রমের ধীরগতিতাঃ
কার্যালয়ের জনবলের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হল জনবল সংকট এখনো দূর হয়নি৷ শুধু জেলা কার্যালয়ের অফিসে একজন সহকারী পরিচালক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এই দুটা পোস্ট আছে৷ জেলাতে একজন অফিসারের পক্ষে পুরা জেলার ভোক্তাদের নিবিড় সেবা প্রদান অনেকাংশে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে৷ নিজস্ব যানবাহন নেই বিধায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে মাঝে মাঝে বেগ পেতে হয় বলেও তিনি জানান।

চাঁদপুর জেলার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ
চাঁদপুরের মানুষ বা ভোক্তা যেন তার নায্য অধিকার ফিরে পায়, নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারে, দ্রব্যমূল্য যেন ক্রয়ের আওতার বাহিরে না যায়, ভেজাল ঔষধ ও পণ্য যেন বাজারে না আসে,কোন ভোক্তা যেন প্রতারিত না হয় এসব বিষয়কে হাতে নিয়ে এই কার্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।

ভোক্তার অভিযোগের জন্য ডিজিটাল সিস্টেম চালু প্রসঙ্গঃ
কোন ভোক্তা যদি কেনাকাটা করে প্রতারিত হন, তখন তিনি যে কোন ভাবে, ফেইসবুকে, ইমেইলে, ডাক যোগে, সাদা কাগজে অভিযোগ লিখে প্রমাণ সহ যদি লিখিত অভিযোগ করলে তার প্রতিকার প্রদান করেন তারা৷ শুধু এই ক্ষেত্রে জরিমানার ২৫% প্রদান করা হবে ভুক্তভোগী অভিযোগকারীকে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রচারে ভূমিকাঃ
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রচারের লক্ষ্যে এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ৯ টি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত পাম্পলেট ও লিফলেট এবং গণশুনানি করা হচ্ছে৷ প্রতিবছর ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস বর্ণাঢ্যভাবে পালন করা হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তর কাদের জন্য কাজ করেঃ
এই অধিদপ্তর কোন একটি বিশেষ শ্রেণির জন্য কাজ করেনা বরং দেশের প্রতিটি জনগণের জন্য কাজ করে৷

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন কত সনে পাশ হয়ঃ
২০০৯ সালে এই আইনটি বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পাশ করা হয়৷

অধিদপ্তরটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়ঃ
২০১২ সাল থেকে অধিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

অধিদপ্তরের কার্যক্রম বেগবান করতে কর্মপরিকল্পনাঃ
জেলা পর্যায়ের জনবল সংকট দূর হলে, উপজেলা পর্যায়ে অফিস হলে, নিজস্ব পরিবহন সহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট পেলে এই অধিদপ্তরের সেবা সবাই জনে জনে পাবে৷ ভুক্তভোগীদের অভিযোগগুলো আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

Facebook Comments

Check Also

মতলব উত্তর থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিন্দা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল এর বিরুদ্ধে সামাজিক …

Shares
vv